📌 আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে পটিয়া বন্ধুসভা তাঁর সমাধিস্থলে পুষ্পমালা অর্পণ করে স্মরণ করল। সাহিত্যিকের পুঁথি সংগ্রহ ও মুসলিম কবিদের অবদানকে আলোচনা সভায় তুলে ধরা হয়
পটিয়া উপজেলার সাহিত্য প্রেমীদের সংগঠন পটিয়া বন্ধুসভা আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করে। ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৫৩ সালে মৃত্যুবরণকারী এই বাঙালি সাহিত্যিকের সমাধিস্থলে পুষ্পমালা অর্পণ করে বন্ধুসভা স্মৃতিবিজড়িত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৫৩ তারিখে মৃত্যুবরণকারী সাহিত্যবিশারদের ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে পটিয়া বন্ধুসভা তাঁকে স্মরণ করে পুষ্পমালা অর্পণ ও আলোচনা সভা আয়োজন করে
- 📌 সাহিত্যবিশারদের নিজ বাড়ি 'সাহিত্যবিশারদ ভবনে' অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন তাঁর পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য কাঞ্চনসহ বন্ধুসভার নেতৃবৃন্দ
- 📌 ১১টি প্রাচীন বাংলা গ্রন্থ সম্পাদনা ও ১০০ জন অজ্ঞাত মুসলিম কবিকে পরিচিত করার জন্য সাহিত্যবিশারদেরকে 'সাহিত্যসাগর' ও 'সাহিত্যবিশারদ' খেতাব প্রদান করা হয়েছিল
- 📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত তাঁর সংগৃহীত মুসলিম কবিদের পুঁথি এবং রাজশাহী বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে হিন্দু কবিদের পুঁথি রক্ষিত আছে
- 📌 মুহম্মদ এনামুল হকসহ বন্ধুসভার সদস্যরা সাহিত্যবিশারদের পুঁথি সংগ্রহ ও সাহিত্য অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান
📰 বিস্তারিত
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (১৮৭১-১৯৫৩) ছিলেন ব্রিটিশ ভারত ও পূর্ব পাকিস্তানের একজন খ্যাতিমান সাহিত্যিক ও পুঁথিগবেষক। তিনি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮৯৩ সালে পটিয়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় থেকে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি পুঁথি সংগ্রহ ও সাহিত্যের ঐতিহ্য অন্বেষণে নিবেদিত হন।
সাহিত্যবিশারদের ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পটিয়া বন্ধুসভায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন তাঁর পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য কাঞ্চন। তিনি বলেন, 'আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ অনেকটা নিভৃতচারী ছিলেন। তাঁর পুঁথি সংগ্রহের জীবনে নানা জায়গায় তিরস্কারের মুখোমুখিও হয়েছে। কিন্তু কখনো পিছপা হননি।' সভায় উপস্থিত ছিলেন বন্ধুসভার উপদেষ্টা আব্দুর রাজ্জাক, সভাপতি আইরিন সুলতানা, সাধারণ সম্পাদক রিজুয়ানসহ রাশেদুল্লাহ, আহনাফ হাসনাইন, আব্দুল্লাহ মুহী ও আবদুল হাসনাতসহ অনেকে।
সাহিত্যবিশারদের ১১টি প্রাচীন বাংলা গ্রন্থ সম্পাদনা ও ১০০ জন অজ্ঞাত মুসলিম কবিকে পরিচিত করার জন্য তাঁকে 'সাহিত্যসাগর' ও 'সাহিত্যবিশারদ' খেতাব প্রদান করা হয়েছিল। তাঁর সংগৃহীত পুঁথির অধিকাংশই ছিল মুসলিম কবিদের রচিত। এসব পুঁথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত রয়েছে। পাশাপাশি হিন্দু কবিদের পুঁথিগুলো রাজশাহী বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে রক্ষিত আছে।
সাহিত্যবিশারদের মধ্যযুগীয় মুসলিম সাহিত্য ও চট্টগ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি ও মুহম্মদ এনামুল হক যৌথভাবে 'বাঙ্গালা সাহিত্য' শিরোনামে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য সম্পাদিত পুঁথিসমূহের মধ্যে 'জ্ঞানসাগর', 'গোরক্ষ বিজয়', 'মৃগলব্ধ', 'সারদা মুকুল' ও আলাওলের 'পদ্মাবতী' পুঁথি উল্লেখযোগ্য।
"আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ অনেকটা নিভৃতচারী ছিলেন। তাঁর পুঁথি সংগ্রহের জীবনে নানা জায়গায় তিরস্কারের মুখোমুখিও হয়েছে। কিন্তু কখনো পিছপা হননি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পটিয়া উপজেলা, চট্টগ্রাম; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার; রাজশাহী বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, কাঞ্চন, আব্দুর রাজ্জাক, আইরিন সুলতানা, রিজুয়ান, রাশেদুল্লাহ, আহনাফ হাসনাইন, মুহম্মদ এনামুল হক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৩ (মৃত্যুবার্ষিকী), ১১ (গ্রন্থ), ১০০ (কবি), ১৯৫৩ (মৃত্যু), ১৮৭১ (জন্ম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!