📌 পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার জাহিদ হাসান (২৮) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হলেও ভেরিফিকেশনে অযৌক্তিকভাবে বাদ দেওয়া হয়। তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোটায় ৫৪তম স্থান অধিকারী ছিলেন। পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী জাহিদের নিয়োগ না পাওয়ায় হতাশ পরিবার
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার জাহিদ হাসান (২৮) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হলেও ভেরিফিকেশনে অযৌক্তিকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি ৮৩ জন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোটায় ৫৪তম স্থান অধিকারী ছিলেন। পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী জাহিদের নিয়োগ না পাওয়ায় পরিবার হতাশ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার জাহিদ হাসান (২৮) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হলেও ভেরিফিকেশনে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোটায় ৮৩ জনের মধ্যে ৫৪তম স্থান অধিকারী ছিলেন।
- 📌 জাহিদের বাবা আবু জাফর হাওলাদার কৃষক এবং মা জাহানারা বেগম গৃহিণী। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি মাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
- 📌 জাহিদের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক পদ নেই এবং কোনো মামলাও নেই। তবে ভেরিফিকেশনে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
- 📌 জাহিদের গ্রামের বাসিন্দারা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাঁর নিয়োগ না পাওয়ায় হতাশ।
📰 বিস্তারিত
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহিদ হাসান (২৮) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হলেও ভেরিফিকেশনে বাদ দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। জাহিদের মেধাক্রম ছিল বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোটায় ৫৪তম।
জাহিদের বাবা আবু জাফর হাওলাদার কৃষক এবং মা জাহানারা বেগম গৃহিণী। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না, কিন্তু জাহিদ পড়াশোনা থামাননি। তিনি সাপলেজা মডেল হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ডক্টর রুস্তম আলী ফরাজী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
জাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছি। এখন ভেরিফিকেশনের কারণে নিয়োগ না পাওয়ায় আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা হতাশ। খবরটি শোনার পর মা কান্না করেছেন, বাবাও স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। আমাকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটি স্পষ্টভাবে জানানো হোক।’ তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক পদ নেই এবং কোনো মামলাও নেই। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোটার প্রার্থী হিসেবে তাঁর সুযোগ ছিল।
"আমাকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটি স্পষ্টভাবে জানানো হোক।"
জাহিদের গ্রামের বাসিন্দারা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। সাপলেজা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দেলোয়ার মোল্লা বলেন, ‘জাহিদ ও তাঁর পরিবার খুবই ভালো। তাঁরা কেউ কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গেও জড়িত নন। তবু কেন নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, বুঝতে পারছি না।’
জাহিদের ফেসবুক পোস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। আলম রহমান নামের একজন শিক্ষার্থী মন্তব্য করেছেন, ‘ভাই আমাদের মাদার বখ্শ হলের সদস্য ছিলেন। উনাকে ভালো করে চিনি। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। খবরটা শুনে হতাশ হলাম।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা, সাপলেজা ইউনিয়ন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. জাহিদ হাসান (২৮), আবু জাফর হাওলাদার, জাহানারা বেগম, দেলোয়ার মোল্লা, আলম রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৩ জন (সুপারিশপ্রাপ্ত), ৫৪তম (বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোটায়), ২৮ বছর (জাহিদের বয়স), ২০১৭-১৮ (শিক্ষাবর্ষ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!