📌 শিশু অধিকার বিষয়ক কর্মী বলেছেন, বাংলাদেশের অনেক অভিভাবক সন্তান বড় করার ক্ষেত্রে সংকটে পড়ছেন। গবেষণা থেকে জানা যায়, শিশুর সঠিক বিকাশের জন্য প্রয়োজন ভালোবাসা ও শিক্ষার যথাযথ কাঠামো। কৈশোরে সন্তানের স্বাধীনতা ও মস্তিষ্কের বিকাশের মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি। ডিজিটাল যুগে প্যারেন্টিং শিক্ষায় সরকারি বিনিয়োগের দাবি উঠেছে
বাংলাদেশের অভিভাবকদের মধ্যে সন্তান বড় করার ক্ষেত্রে ক্রমাগত সংকট দেখা দিচ্ছে। শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা একজন কর্মী বলেছেন, সপ্তম শ্রেণিতে পড়া ছেলেকে মুঠোফোন দিলে তার পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়ার ঘটনা অনেক পরিবারে ঘটছে। গাইবান্ধায় ১০ থেকে ১২ জন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলার সময় একজন অভিভাবক জানিয়েছেন, সন্তান স্কুলে যেতে চাইলে মুঠোফোন দিতে বাধ্য হন। এ ধরনের সিদ্ধান্ত শিশুর জীবনকে প্রভাবিত করে, তাই সন্তানের মতামত শোনা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাইবান্ধায় ১০-১২ জন অভিভাবক জানিয়েছেন, সন্তান চাইলেই মুঠোফোন দিতে বাধ্য হন, ফলে পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাচ্ছে
- 📌 জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের ‘শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ’ নীতির আলোকে, শিশুর ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে বড়দের দায়িত্ব সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া
- 📌 গবেষণা থেকে জানা যায়, শিশুর সঠিক বিকাশের জন্য প্রয়োজন ভালোবাসা ও শিক্ষার যথাযথ কাঠামো
- 📌 বাংলাদেশে ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কৈশোরীদের স্বাধীনতা চাওয়ার সাথে সাথে তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ সম্পূর্ণ হয়নি, তাই তত্ত্বাবধান প্রয়োজন
- 📌 ডিজিটাল যুগে অভিভাবকদের সন্তানের প্রযুক্তি ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি
- 📌 বাংলাদেশ, লাইবেরিয়া ও পাপুয়া নিউগিনিতে প্রশিক্ষণ পেয়েছে এমন অভিভাবকরা সন্তানের সঙ্গে আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হন
- 📌 প্যারেন্টিং শিক্ষাকে শুধু মা-বাবার ব্যক্তিগত আগ্রহে ছেড়ে দিলে চলবে না, সরকারি বিনিয়োগের দাবি উঠেছে
📰 বিস্তারিত
শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা একজন কর্মী বলেছেন, সন্তান বড় করার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের মধ্যে একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। গাইবান্ধায় ১০ থেকে ১২ জন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলার সময় একজন অভিভাবক জানিয়েছেন, সপ্তম শ্রেণিতে পড়া ছেলেকে মুঠোফোন দিতে বাধ্য হন। কারণ, মুঠোফোন না দিলে সে স্কুলে যেতে চায় না। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের অনেক পরিবারে ঘটছে। সন্তান চাইলেই কি তাকে সবকিছু দিতে হবে? শিশুর জীবনকে প্রভাবিত করার সিদ্ধান্তে তার মতামত শোনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তা মানে সব চাওয়া মেনে নেওয়া নয়।
জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের একটি মূলনীতি হলো ‘শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ’। কোনো কাজে শিশুর ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে বড়দের দায়িত্ব তাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া। শিশুর মতামত শোনার পরও কেন সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না, তা বুঝিয়ে বলতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন ভালোবাসা ও উষ্ণ পরিবেশ। উষ্ণতা বোঝায় শিশুর প্রতি আস্থা ও সম্মান দেখানো এবং যোগাযোগ রাখা। আর শেখার কাঠামোর মধ্যে রয়েছে তথ্য, নির্দেশনা ও শিক্ষা দেওয়া। এটি শাস্তি বা নিয়ন্ত্রণনির্ভর কঠোর পদ্ধতি থেকে আলাদা।
শিশুর বিকাশের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। বয়সের সঙ্গে শিশুর চিন্তাভাবনা ও অনুভূতি বদলায়। তাই সন্তানের মেজাজ ও আচরণ বোঝার পাশাপাশি নিজেদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও মা-বাবার সচেতন হওয়া দরকার। যথাযথ যত্ন ও দিকনির্দেশনা না দেওয়ায় শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সম্ভাবনার বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কৈশোরে সন্তানকে নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কৈশোরীদের স্বাধীনতা চাওয়ার সাথে সাথে তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য ঝুঁকি তারা সব সময় বুঝে উঠতে পারে না। এ অবস্থায় তত্ত্বাবধান প্রয়োজন, কিন্তু সারাক্ষণ চোখে চোখে রাখলে তারা খোলামেলা আলোচনা করতে দ্বিধা বোধ করতে পারে।
ডিজিটাল যুগে প্যারেন্টিং এই আস্থার সম্পর্ক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন। অনেক মা-বাবা মনে করেন, প্রযুক্তি সম্পর্কে সন্তানেরা তাঁদের চেয়ে বেশি জানে। ফলে দিকনির্দেশনা দিতে গিয়ে তাঁরা অসহায় বোধ করেন। কিন্তু সন্তানকে দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রযুক্তিবিদ হতে হয় না। প্রয়োজন নিয়মিত কথা বলা, আগ্রহ নিয়ে তার জীবনের গল্প শোনা এবং প্রযুক্তির ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করা।
"শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন ভালোবাসা ও শিক্ষার যথাযথ কাঠামো। উষ্ণতা বোঝায় শিশুর প্রতি আস্থা ও সম্মান দেখানো এবং যোগাযোগ রাখা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাইবান্ধা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অভিভাবক, শিশু অধিকার কর্মী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০-১২ জন অভিভাবক, ৪০ বছর গবেষণা, ১৪-১৮ বছর বয়স
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!