📌 জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী নূর জাহান দ্বিতীয় বিজেএস পরীক্ষায় সফল হন। প্রথমবার ব্যর্থতার পর তিনি প্রস্তুতির কৌশল পরিবর্তন করে নতুন উদ্যমে পথচলা শুরু করেন। আইন পড়ার অনুপ্রেরণা, পরামর্শ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলেছেন তিনি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী নূর জাহান দ্বিতীয় বিজেএস পরীক্ষায় সফলতা অর্জন করেছেন। প্রথমবার প্রিলিমিনারিতে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও তিনি নতুন প্রস্তুতির কৌশল নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং সফল হন। আইন পড়ার অনুপ্রেরণা, প্রস্তুতির কৌশল, লিখিত ও ভাইভার অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনার কথা তিনি শাহ বিলিয়া জুলফিকারকে বলেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৮তম বিজেএস পরীক্ষায়** সফল হন নূর জাহান, প্রথমবার **১৭তম বিজেএস**-এ প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ব্যর্থ হন
- 📌 **বেয়ার অ্যাক্টকে মূল ভিত্তি** বানিয়ে সংবিধান ও পারিবারিক আইন পড়েন, অন্যান্য বিষয়ে বেয়ার অ্যাক্টের উপর নির্ভর করেন
- 📌 **প্রতি মাসের প্রথম ২৫ দিনে** সব বিষয় শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নেন, বাকি পাঁচ দিন অসম্পূর্ণ অংশ শেষ করার জন্য রাখেন
- 📌 **সংবিধান পড়ার জন্য** মূল সংবিধান, আব্দুল হালিমের বই ও ‘সহজ ভাবনায় সংবিধান’ ব্যবহার করেন
- 📌 **মুসলিম আইনে** ফয়েজ উদ্দিন ও ডি এফ মুল্লা, **হিন্দু আইনে** আজিজুল হক, **উত্তরাধিকার আইনে** ইকরাম স্যারের বই অনুসরণ করেন
- 📌 **লিখিত প্রস্তুতিতে** আয়েশা সিদ্দিকা ইমার ও রিটেন মাস্টার বই পড়েন, প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পান
- 📌 **ভাইভার প্রস্তুতিতে** ‘ভাইভা বুস্টার’ বইটি প্রি-অর্ডার করেন এবং সদস্যদের ছবি ও নাম মুখস্থ করেন
- 📌 **স্বপ্নপূরণের গল্প**: শৈশবে টিভিতে বিচারককে ‘অর্ডার অর্ডার’ বলতে দেখে জজ হওয়ার স্বপ্ন পোষণ করেন
📰 বিস্তারিত
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী নূর জাহান প্রথমবার **১৭তম বিজেএস** পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ব্যর্থ হন। ব্যর্থতার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বেয়ার অ্যাক্টের চেয়ে আইনপাঠ বেশি পড়তেন, ফলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যবিধি বুঝতে সমস্যায় পড়েন। ব্যর্থতার পর তিনি প্রস্তুতির কৌশল পরিবর্তন করেন। সংবিধান ও পারিবারিক আইন ছাড়া বাকি সব বিষয়ে বেয়ার অ্যাক্টকে মূল ভিত্তি বানান।
দ্বিতীয়বার পরীক্ষার জন্য তিনি **প্রতি মাসের প্রথম ২৫ দিনে** সব বিষয় শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নেন। বাকি পাঁচ দিন তিনি অসম্পূর্ণ অংশ শেষ করার জন্য রাখেন। সংবিধান পড়ার জন্য তিনি মূল সংবিধান, আব্দুল হালিমের বই ও ‘সহজ ভাবনায় সংবিধান’ ব্যবহার করেন। প্রয়োজনমতো তিনি জসীম আলী চৌধুরী ও মাহমুদুল ইসলামের বইও পড়তেন। মুসলিম আইনে ফয়েজ উদ্দিন ও ডি এফ মুল্লা, হিন্দু আইনে আজিজুল হক এবং উত্তরাধিকার আইনে ইকরাম স্যারের বই অনুসরণ করেন। বুঝতে অসুবিধা হলে তিনি আইনপাঠের সহায়তা নিতেন।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আগে তিনি **Live MCQ** এবং সিভিল জজ রাগীব মোস্তফা নাইম ও সাদিকুর রহমান রোমানের আয়োজিত পরীক্ষায় অংশ নিতেন। লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিতে তিনি আয়েশা সিদ্দিকা ইমার ও রিটেন মাস্টার বই পড়েন। সাধারণ জ্ঞানে তিনি বাংলা, ইংরেজি সাহিত্য ও বিজ্ঞানে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। লিখিত পরীক্ষায় তিনি বেয়ার অ্যাক্টে ধারার পাশে ছোট ছোট পয়েন্ট লিখে রাখতেন এবং প্রাসঙ্গিক মামলা পেলে তা সংশ্লিষ্ট ধারার পাশে লিখতেন।
ভাইভার প্রস্তুতিতে তিনি প্রথমবার লিখিত পরীক্ষা দিয়েই বিশ্বাসী ছিলেন। তবে লিখিত পরীক্ষার পর ভাইভার প্রস্তুতিতে মন দিতে পারেননি। তিনি ‘ভাইভা বুস্টার’ বইটি প্রি-অর্ডার করেন এবং ভাইভার কয়েক দিন আগে হাতে পান। তিনি প্রতিদিন সকালে বিজেএস কমিশনের ওয়েবসাইটে সদস্যদের ছবি দেখতেন এবং তাদের নাম মুখস্থ করতেন।
"‘অর্ডার অর্ডার’ বলার স্বপ্ন ছোটবেলায় টিভিতে বিচারককে দেখে পোষণ করেছি। তখন জানতাম না কীভাবে জজ হতে হয়। ধীরে ধীরে এই স্বপ্ন পরিবারের স্বপ্ন হয়ে ওঠে। বাবা-মা ও ভাই-বোনের স্বপ্নপূরণে জজ হওয়াই হয়ে দাঁড়ায় আমার অঙ্গীকার।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, আইন ও বিচার বিভাগ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নূর জাহান (শিক্ষার্থী), আয়েশা সিদ্দিকা ইমার (বই লেখক), রাগীব মোস্তফা নাইম (সিভিল জজ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮তম বিজেএস পরীক্ষা, ১৭তম বিজেএস (প্রথমবার ব্যর্থ), ২৫ দিন (প্রতি মাসে প্রস্তুতি সমাপ্তি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!