📌 নরসিংদীর পাঁচদোনা এলাকার আলতাফ হোসেন, যিনি 'দুখু মিয়া' নামে পরিচিত, জন্মগতভাবে দুই হাত না থাকলেও পা দিয়ে লেখা শিক্ষক ও একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী এই স্কুলে পড়াশোনা করছে
নরসিংদীর পাঁচদোনা ইউনিয়নের নগর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী আলতাফ হোসেন, যিনি 'দুখু মিয়া' নামে পরিচিত, জীবনের সংগ্রামের এক অনন্য দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন। জন্মের পর থেকেই তাঁর দুই হাত না থাকলেও তিনি পা দিয়ে লেখা শিক্ষক হয়ে উঠেছেন এবং নিজেই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠিত স্কুলে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে, যা তাঁর সংগ্রামের সাক্ষ্য বহন করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নরসিংদী সদর উপজেলার পাঁচদোনা ইউনিয়নের নগর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী আলতাফ হোসেন, যিনি 'দুখু মিয়া' নামে পরিচিত, জন্মগতভাবে দুই হাত না থাকলেও পা দিয়ে লেখা শিক্ষক ও স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন।
- 📌 স্কুল প্রতিষ্ঠার আগে তিনি প্রাইভেট শিক্ষকতা করতেন এবং সংসার চালানোর পাশাপাশি টাকা সঞ্চয় করতেন। শুরুতে ৩৩ জন শিক্ষার্থী থাকলেও বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী এই স্কুলে পড়াশোনা করছে।
- 📌 দুখু মিয়া বলেছেন, ‘জীবন মানেই সংগ্রাম। আমি বিভিন্ন চাকরির জন্য গিয়েছি, কিন্তু কোনো চাকরিতেই টিকতে পারিনি।’ তিনি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছেন।
- 📌 স্কুলের সহকারী শিক্ষক মাহি বলেছেন, ‘দুখু মিয়া স্যার দুটি হাত না থাকলেও তাঁর সর্বোচ্চ মেধা ও শ্রম দিয়ে স্কুল পরিচালনা করছেন। তিনি আমাদের সবার অনুপ্রেরণা।’
- 📌 স্কুলের শিক্ষার্থী রুনা বলেছেন, ‘দুখু মিয়া স্যার আমাদের অনেক আদর-যত্ন করেন। তিনি পা দিয়ে লেখা শিক্ষক হলেও আমরা তাঁর পড়ানোর পদ্ধতি ভালোভাবে বুঝতে পারি।’
- 📌 আর্থিক সংকটের কারণে স্কুলে উচ্চমানের শিক্ষক রাখতে পারছেন না। তিনি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।
- 📌 দুখু মিয়ার তৃতীয় ছেলে মো. মোহাইমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। আব্বা একটি জমি বিক্রি করে স্কুল শুরু করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং সংগ্রামী।’
- 📌 স্থানীয় বাসিন্দা কাউছার মিয়া বলেছেন, ‘দুখু মিয়া জীবনে অনেক পরিশ্রম করেছেন। তিনি আমাদের সমাজের অনুপ্রেরণা ও গর্ব।’
📰 বিস্তারিত
১৯৬২ সালে নরসিংদী সদর উপজেলার পাঁচদোনা ইউনিয়নের নগর পাঁচদোনা এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন আলতাফ হোসেন। তাঁর বাবার নাম তমিজ উদ্দিন। জন্মের পর থেকেই তাঁর দুই হাত না থাকায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে 'দুখু মিয়া' নামে ডাকতে শুরু করেন। তাঁর দাদা আদর ও আক্ষেপ মিশিয়ে এই নাম রাখেন। পাঁচদোনা ইউনিয়নের দীঘিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয়। ছোটবেলা থেকেই পা দিয়ে লেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন তিনি।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে ১৯৮২ সালে মাধ্যমিক, ১৯৮৪ সালে উচ্চমাধ্যমিক এবং ১৯৮৬ সালে নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে বিএ পাস করেন দুখু মিয়া। তিনি বলেন, ‘জীবন মানেই সংগ্রাম। আমি বিভিন্ন চাকরির জন্য গিয়েছি, কিন্তু কোনো চাকরিতেই টিকতে পারিনি। হয়তো আমার শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে বাদ পড়েছি।’
স্কুল প্রতিষ্ঠার আগে তিনি প্রাইভেট শিক্ষকতা করতেন। সেখান থেকে আয় করে সংসার চালানোর পাশাপাশি কিছু টাকা সঞ্চয় করতেন। সেই সঞ্চয়ের টাকা ও একটি জমি বিক্রি করে তিনি স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে শিক্ষার্থী ছিল ৩৩ জন, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৫ জন। এই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়।
স্কুলের সহকারী শিক্ষক মাহি বলেন, ‘দুখু মিয়া স্যার দুটি হাত না থাকলেও তাঁর সর্বোচ্চ মেধা ও শ্রম দিয়ে স্কুল পরিচালনা করছেন। তিনি আমাদের সবার অনুপ্রেরণা।’ স্কুলের শিক্ষার্থী রুনা বলেন, ‘আমাদের দুখু মিয়া স্যার খুব ভালো পড়ান। তিনি আমাদের অনেক আদর-যত্ন করেন। তিনি পা দিয়ে লেখা শিক্ষক হলেও আমরা তাঁর পড়ানোর পদ্ধতি ভালোভাবে বুঝতে পারি।’
দুখু মিয়া আর্থিক সংকটের কারণে স্কুলে উচ্চমানের শিক্ষক রাখতে পারছেন না। তিনি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর তৃতীয় ছেলে মো. মোহাইমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। আব্বা একটি জমি বিক্রি করে স্কুল শুরু করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং সংগ্রামী।’ স্থানীয় বাসিন্দা কাউছার মিয়া বলেন, ‘দুখু মিয়া জীবনে অনেক পরিশ্রম করেছেন। তিনি আমাদের সমাজের অনুপ্রেরণা ও গর্ব।’
"জীবন মানেই সংগ্রাম। আমরা জীবনকে যতটা সহজ ভাবি, আসলে ততটা সহজ নয়। শিক্ষাজীবন শেষ করে আমি বিভিন্ন চাকরির ভাইভা পর্যন্ত গিয়েছি। কিন্তু কোনো চাকরিতেই টিকতে পারিনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নরসিংদী সদর উপজেলা, পাঁচদোনা ইউনিয়ন, নগর পাঁচদোনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলতাফ হোসেন (দুখু মিয়া), মাহি, রুনা, মো. মোহাইমিনুল ইসলাম, কাউছার মিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪৫ জন শিক্ষার্থী (বর্তমান), ৩৩ জন শিক্ষার্থী (শুরুতে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!