📌 কথাসাহিত্যিক নাসরীন জাহানের নতুন উপন্যাস ‘ফিনিক্স তোমাকে মায়াবাসি’র প্রচ্ছদ উন্মোচন অনুষ্ঠানে তার সাহিত্যিক সত্তা ও জীবনযাপনের গভীরতা আলোচিত হয়। কঠিন শারীরিক সংকটের মধ্যেও তিনি সাহিত্য ও জীবনের উৎসাহকে অদম্য রাখছেন
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী লেখক নাসরীন জাহানের নতুন উপন্যাস ‘ফিনিক্স তোমাকে মায়াবাসি’র প্রচ্ছদ উন্মোচন অনুষ্ঠান আজ শুক্রবার বিকেলে ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজন শুধু একটি বইয়ের প্রকাশনা থেকে বেশি — এটি লেখকের জীবন, সাহিত্য ও সংকট জয় করার গল্পের গভীর উদ্যাপন। প্রকাশনা সংস্থা অন্যপ্রকাশ ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নাসরীন জাহান কঠিন শারীরিক সংকটের মধ্যেও সাহিত্য ও জীবনের উৎসাহ অদম্য রাখছেন — রোগশয্যায় থেকেও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন অণুকবিতা ও প্রবচন লিখছেন।
- 📌 অনুষ্ঠানের সভাপতি সাহিত্যিক হাসনাত আবদুল হাই বলেন, নাসরীন জাহানের জীবনকে ‘চলমান উৎসব’ হিসেবে যাপন করেছেন — আর্নেস্ট হেমিংওয়ের বিখ্যাত উক্তির সাথে তুলনা করে তিনি বলেন, তিনি জীবনের প্রতিটি সংকটকে জয় করেছেন।
- 📌 মাজহারুল ইসলাম (অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী) উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বই প্রকাশের আগেই প্রচ্ছদ উন্মোচন করা হয়েছে — এর আগে শুধুমাত্র ফরিদুর রেজা সাগরর একটি বইয়ের প্রচ্ছদ উন্মোচন হয়েছিল।
- 📌 গল্পকার সেলিম মোরশেদ ও পারভেজ হোসেন নাসরীন জাহানের লেখার জাদুবাস্তবতা ও জীবনের অন্তরালের জীবনকে সাহিত্যে হাজির করার প্রচেষ্টাকে প্রশংসা করেন।
- 📌 নাসরীন জাহান বলেন, মৃত্যু নিয়ে ভাবনা বন্ধ করে তিনি জীবনের সজীবতা দিয়ে কালো অন্ধকারকে দূরে ঠেলে দিচ্ছেন — “জীবনের সজীবতা দিয়ে কালো অন্ধকার ও মৃত্যুকে দূরে ঠেলে দিচ্ছি”।
📰 বিস্তারিত
আজকের অনুষ্ঠানে নাসরীন জাহানের জীবনবোধ ও সাহিত্যিক সত্তার নানা দিক আলোচিত হয়। প্রকাশনা সংস্থা অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্যে বলেন, এই উদ্যোগ শুধু একটি বইয়ের প্রকাশনা নয়, বরং লেখকের জীবন ও সাহিত্যের গভীর সংযোগের প্রতীক। তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত বিশ্বে বই প্রকাশের আগেই প্রচ্ছদ উন্মোচনের রেওয়াজ রয়েছে — যেমন, হারপারকলিন্সর মতো প্রকাশনা সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের প্রচ্ছদ প্রকাশের আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠকের সামনে তুলে ধরে। বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ এটি দ্বিতীয় — এর আগে শুধুমাত্র ফরিদুর রেজা সাগরর একটি বইয়ের প্রচ্ছদ উন্মোচন হয়েছিল।
অনুষ্ঠানের সভাপতি সাহিত্যিক হাসনাত আবদুল হাই বলেন, নাসরীন জাহান এমন বিরল ব্যক্তিত্ব যাঁর জীবন থেকে লেখালেখিকে আলাদা করা যায় না। তিনি আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ‘চলমান উৎসব’ বা ‘মুভেবল ফিস্ট’ উক্তির সাথে তুলনা করে বলেন, নাসরীন জাহান জীবনকে ঠিক তেমনি এক নিরন্তর উৎসবের মতো যাপন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত দুই বছর ধরে কঠিন ব্যাধিতে আক্রান্ত থাকা সত্ত্বেও এবং শারীরিক জটিলতা পেরিয়ে গিয়েও তাঁর জীবনযাপনের চরিত্র বদলায়নি। তিনি এখনো আগের মতোই প্রাণবন্ত, হাস্যোজ্জ্বল ও কৌতুকপ্রিয়।
গল্পকার সেলিম মোরশেদ নাসরীন জাহানের লেখার বর্ণনাভঙ্গি ও জাদুবাস্তবতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “নাসরীন জাহানের ভেতরে সহজাত লেখকসত্তা এত বেশি, যা বাংলা সাহিত্যে খুব কম লেখকের মধ্যে দেখা যায়। তাঁর লেখার যে শক্তি, তা অনেক সাহিত্য আলোচনায় যথাযথভাবে উঠে আসেনি। তিনি বাইরের বাস্তবতাকে এমন অন্তর্দৃষ্টি ও অনুভূতির মধ্য দিয়ে লেখেন, যা সাধারণ বর্ণনাকেও অন্য মাত্রা দেয়।” অন্যদিকে, গল্পকার ও ঔপন্যাসিক পারভেজ হোসেন বলেন, নাসরীন জাহানের বিশেষত্ব হলো তিনি জীবনের অন্তরালের জীবনকে সাহিত্যে হাজির করার প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, “তিনি যে জীবন যাপন করেন, যে জীবন দেখেন ও বোঝেন, তার তলে আরেকটি জীবন খুঁজে পান। সেই জীবনের কথা লিখতে গিয়ে তিনি শুধু চিন্তা দিয়ে লেখেন না, তাঁর সমস্ত শরীর, মজ্জা ও সত্তা লেখার সঙ্গে মিশে যায়।”
"মুভেবল ফিস্ট" বা "চলমান উৎসব" — এই উক্তি আর্নেস্ট হেমিংওয়ের। নাসরীন জাহান জীবনকে ঠিক তেমনি এক নিরন্তর উৎসবের মতো যাপন করেছেন।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল নাসরীন জাহান নিজেই। তিনি বলেন, মৃত্যু নিয়ে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই হঠাৎ যখন তিনি লিখতে শুরু করলেন, তখন নিজের ভেতরের এক গভীর বোধ কাজ করেছে। তিনি বলেন, “মানুষ সাধারণত মরে যাবে ভেবে যে আক্ষেপ বা হতাশার মধ্যে থাকে, সেই ভাবনাটাকে আমি একেবারে বন্ধ করে দিয়েছি। ধরে নিয়েছি যে আমি হয়তো এ পৃথিবীতে আসেনইনি, ফলে পৃথিবীর সঙ্গে আমার সম্পর্কের দরজা বন্ধ করতে চাইনি।” তিনি আরও বলেন, “জীবনের সজীবতা দিয়ে কালো অন্ধকার ও মৃত্যুকে দূরে ঠেলে দিচ্ছি।” ছয় মাস আগেও যিনি সেলফি তুলতে পারতেন না, তিনি এখন মোবাইল ধরে কথা বলা ও ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া শুরু করেছেন — এটিই হয়ে উঠেছে তাঁর বাঁচার ও সজীব থাকার মূল পথ।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ধানমন্ডি, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাসরীন জাহান, হাসনাত আবদুল হাই, মাজহারুল ইসলাম, সেলিম মোরশেদ, পারভেজ হোসেন
- 📌 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর (কাজুও ইশিগুরোর বইয়ের প্রচ্ছদ উন্মোচন), ২০২১ সালের ২ মার্চ (বই প্রকাশ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!