📌 ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ১৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৭টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চলার ফলে শিক্ষকদের প্রশাসনিক ও পাঠদানের দায়িত্বে চাপ পড়ছে এবং শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় ১৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৭টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এই অবস্থা শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাপক ব্যাহত সৃষ্টি করেছে এবং শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার এই বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৭৭টি প্রধান শিক্ষকহীন। এছাড়াও ৪৭টি সহকারী শিক্ষকের পদও দীর্ঘদিন ধরে পূরণ হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ১৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে **৭৭টি** প্রধান শিক্ষকহীন
- 📌 **৪৭টি** সহকারী শিক্ষকের পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য
- 📌 ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদেরকে একইসাথে পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজ করতে হয়
- 📌 শিক্ষকদের ভাষ্য: "একই সময়ে পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজে চাপ পড়ায় কার্যক্রম ব্যাহত"
- 📌 শিক্ষা কর্মকর্তা: "৭৭টি প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি শুরু হলেও নির্দেশনা পাইনি"
📰 বিস্তারিত
গৌরীপুর উপজেলার ১৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৭টি প্রধান শিক্ষকহীন অবস্থায় রয়েছে। এই অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের দায়িত্বে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদেরকে নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু তারা মূলত শ্রেণিকক্ষের শিক্ষক। ফলে তাদেরকে একইসাথে পাঠদান এবং প্রশাসনিক কাজ যেমন দাফতারিক যোগাযোগ, প্রতিবেদন প্রস্তুতি ও শিক্ষা অফিসে যাতায়াতের দায়িত্ব পালন করতে হয়। শিক্ষকদের মতে, একই সময়ে পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজে চাপ পড়ায় শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাহত সৃষ্টি হচ্ছে।
ভাংনামারী ইউনিয়নের সুতিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: শফিউল আলম বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষক পদ ছয়টি। বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত। প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য। আমাকে একইসাথে পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজ করতে হয়। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’
গৌরীপুর ইউনিয়নের গজন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাজীব আহমেদ বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকও মূলত একজন সহকারী শিক্ষক। তাকে একদিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হয়, অন্যদিকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বও পালন করতে হয়। একই পদমর্যাদার সহকর্মীদের ওপর প্রশাসনিক নির্দেশনা দিতে অনেক সময় বিব্রতবোধ করতে হয়।’
অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের একইসাথে পাঠদান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের ওপরও প্রভাব ফেলছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, কেনো দ্রুত পদ পূরণের কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয় না?
গৌরীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা রুবায়াত জানান, ‘৭৭টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবিতে মামলা থাকায় পদোন্নতি দেয়া সম্ভব হয়নি। এখন পদোন্নতির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাইনি।’ তিনি আরও বলেন, সহকারী শিক্ষকের ৪৭টি পদ শূন্য থাকার বিষয়ে, ‘অধিদফতর শূন্যপদের তালিকা নিয়েছে। সরকার নিয়োগ দিয়েছে। দ্রুতই এসব পদ পূরণ হবে।’
"প্রধান শিক্ষক না থাকায় বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। দাফতারিক কাজে বাইরে যেতে হয়। আবার শ্রেণিকক্ষেও পাঠদান করতে হয়। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।"
"ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকও মূলত একজন সহকারী শিক্ষক। তাকে একদিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করাতে হয়, অন্যদিকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বও পালন করতে হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো: শফিউল আলম, রাজীব আহমেদ, সাঈদা রুবায়াত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৭টি প্রধান শিক্ষকহীন বিদ্যালয়, ৪৭টি শূন্য সহকারী শিক্ষক পদ, ১৭৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!