📌 পাবনা জেলার কৃষক পরিবারের মেয়ে সুমাইয়া তাবাচ্ছুম ঈশ্বরদী মানিকনগর গার্লস হাইস্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে সফলতা পেল। মায়ের রাতের নোটের পথে এগিয়ে এসেছে তিনি। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাবা সেলিম রেজা ও মা নুসরাত জাহানকে তাদের সাফল্যের গল্প শেয়ার করেছেন
পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের বড়ইচারা গ্রামের কৃষক পরিবারের মেয়ে সুমাইয়া তাবাচ্ছুম ঈশ্বরদী মানিকনগর গার্লস হাইস্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সফলতা অর্জন করেছেন। মায়ের রাতের নোটের পথে এগিয়ে এসেছেন তিনি। মা নুসরাত জাহানকে ও বাবা সেলিম রেজা তাদের ছোট মেয়েকে ২৫ কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নিয়ে এসেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার কৃষক পরিবারের মেয়ে সুমাইয়া তাবাচ্ছুম ঈশ্বরদী মানিকনগর গার্লস হাইস্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন
- 📌 মা নুসরাত জাহানকে ও বাবা সেলিম রেজা মেয়েকে ২৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নিয়ে এসেছেন
- 📌 মেয়ের বড় বোন তাসনিম মালিহা ২০১৬ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন, কিন্তু সংবর্ধনা নিতে পারেননি
- 📌 পাবনা পর্বে ৬৪ জেলার মধ্যে ১০ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে
- 📌 সুমাইয়া উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে এবং আইনজীবী হতে চায়
📰 বিস্তারিত
মা নুসরাত জাহানকে ও বাবা সেলিম রেজা তাদের ছোট মেয়েকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নিয়ে এসেছেন। সেলিম রেজা ভোরে নিজের জমিতে একবার ঢুঁ মেরে বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর সুমাইয়া মোটরসাইকেলে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসেন। মিলনায়তন প্রাঙ্গণে দেখা যায়, বাবা সেলিম রেজা মুঠোফোনে যত্নে মেয়ের ছবি তুলে দিচ্ছেন। সুমাইয়া জানিয়েছেন, ছবিগুলো স্মৃতি হয়ে থাকবে এবং বাড়ি গিয়ে মা নুসরাত জাহানকে দেখাবে।
সুমাইয়া এ বছর ঈশ্বরদীর মানিকনগর গার্লস হাইস্কুল থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে। পড়াশোনা শেষ করে সুমাইয়া আইনজীবী হতে চায়। বাবা সেলিম রেজা বলেছেন, ‘মেয়ে একটা সাফল্য পেয়েছে, তাকে সংবর্ধনা দেবে; আসতে তো হবেই।’
প্রথম আলোর আয়োজনে ও শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত হচ্ছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা। ‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগানে সারা দেশে ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের ৬৪ জেলায় এ সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। পাবনা পর্ব আজ শনিবার আয়োজন করা হয়েছে জেলার বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে।
মিলনায়তন প্রাঙ্গণে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী জড়ো হয়েছিল। মিলনায়তন ৮০০ আসনের। বাকি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা মিলনায়তনের বাইরে বারান্দায় প্লাস্টিকের চেয়ারে বসেন। সংবর্ধনার পাবনা পর্বের মূল অনুষ্ঠান সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর পাবনা প্রতিনিধি সরোয়ার মোর্শেদ।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পাবনা শহীদ বুলবুল সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ আখতার জামান বলেন, ‘তোমাদের আলো জ্বালাতে হবে, জ্বালিয়ে দিতে আরেকটি শিখা। পিছিয়ে পড়া বন্ধুকে সঙ্গে নেবে, ভালো কিছু করবে। আলো জ্বালিয়ে যাবে।’ পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুল্লাহ্ বলেন, ‘তোমরা উজ্জ্বল নক্ষত্র। তোমাদের এই সাফল্য জীবনের প্রথম ধাপ। সামনে অনেক দূর যেতে হবে। মনে রাখবে, ভালো মানুষ হওয়া খুব দরকার। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে ভালো মানুষ হও।’
"তোমাদের আলো জ্বালাতে হবে, জ্বালিয়ে দিতে আরেকটি শিখা। পিছিয়ে পড়া বন্ধুকে সঙ্গে নেবে, ভালো কিছু করবে। আলো জ্বালিয়ে যাবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাবনা জেলা, ঈশ্বরদী উপজেলা, বড়ইচারা গ্রাম, বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্র মিলনায়তন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুমাইয়া তাবাচ্ছুম, নুসরাত জাহানকে, সেলিম রেজা, তাসনিম মালিহা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫.০ (জিপিএ), ৬৪ (জেলা), ২৫ (কিলোমিটার), ৮০০ (আসন), ১০ (পুরস্কারপ্রাপ্ত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!