📌 চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পাড়ে অবস্থিত মেরিন ফিশারিজ একাডেমি ৫৩ বছরের ইতিহাসে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশের সুনীল অর্থনীতির জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন ফাইজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, একাডেমির ১০.৩৩ একর জমায় নতুন মাস্টার প্ল্যান অনুমোদিত হয়েছে এবং ব্লু-ইকোনমির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পাড়ে অবস্থিত মেরিন ফিশারিজ একাডেমি বাংলাদেশের সুনীল অর্থনীতির (ব্লু-ইকোনমি) বিকাশে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন ফাইজ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ৫৩ বছরের ইতিহাসে এই একাডেমি সমুদ্রবিজ্ঞান, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ও নটিক্যাল সায়েন্সে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশের সামুদ্রিক খাতের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫৩ বছরের ইতিহাস নিয়ে মেরিন ফিশারিজ একাডেমি বঙ্গোপসাগরের গঠন, মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশেষ অবদান রেখেছে।
- 📌 ১০.৩৩ একর জমায় নতুন মাস্টার প্ল্যান অনুমোদিত হয়েছে, যা টিওঅ্যান্ডই-ভুক্তকরণ ও প্রকল্প গ্রহণের জন্য ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে।
- 📌 চট্টগ্রামের ইছানগর এলাকায় অবস্থিত একাডেমি ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৯৩ সাল থেকে সরকারি বাজেটভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
- 📌 ক্যাডেটরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নৌবহরে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।
- 📌 অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা যেমন সিমুলেটর, ল্যাবরেটরি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দিয়ে একাডেমি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করছে।
📰 বিস্তারিত
মেরিন ফিশারিজ একাডেমি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে ১০ নটিক্যাল মাইল ভেতরে, মৎস্য বন্দরের ইছানগর এলাকায় অবস্থিত। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বঙ্গোপসাগরের চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেল থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত জাহাজ ও মাইন অপসারণের কাজে রুশ বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক পটভূমিতে ১৯৭৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় এই একাডেমি। বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের একটি উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে একাডেমির যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালের ১ জুলাই এটি সরকারি বাজেটভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন ফাইজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘একাডেমির ৫৩ বছরের ইতিহাসে আমরা বঙ্গোপসাগরের গঠন, মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় জীবনমান সম্পর্কিত নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করেছি। এই জ্ঞান বাংলাদেশের সুনীল অর্থনীতির লক্ষ্য নির্ধারণ ও সক্ষমতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’ তিনি আরও জানান, ‘মাস্টার প্ল্যান অনুমোদিত হয়েছে এবং বর্তমানে ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে। একাডেমিকে বিশ্বমানের মেরিটাইম প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপগুলি নেওয়া হয়েছে।’
একাডেমির প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে গভীর সমুদ্রগামী মৎস্য আহরণকারী জাহাজ, ট্রলার ও বাণিজ্যিক জাহাজ চালনা, জাহাজের ইঞ্জিন অপারেশন, জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত শিল্প এবং মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণে অত্যাধুনিক সিমুলেটর, ল্যাবরেটরি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সুবিধা ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উপায়ে সমুদ্রসম্পদ ব্যবহারের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
"‘মেরিন ফিশারিজ একাডেমিকে বিশ্বমানের মেরিটাইম প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার লক্ষ্যে একাডেমির জন্য আবশ্যকীয় ও অদূরভবিষ্যতে বাস্তবায়নযোগ্য স্থাপনা এবং সুবিধার চাহিদা পূরণে বিদ্যমান ১০ দশমিক ৩৩ একর জায়গার ওপর স্থাপত্য অধিদপ্তর একটি যুগোপযোগী মাস্টার প্ল্যানের নকশা প্রণয়ন করেছে। নকশাটি ইতিমধ্যে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদিত হয়েছে।’ — ক্যাপ্টেন ফাইজ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যক্ষ, মেরিন ফিশারিজ একাডেমি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পাড়ে, মৎস্য বন্দরের ইছানগর এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ক্যাপ্টেন ফাইজ উদ্দিন আহমেদ (অধ্যক্ষ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৩ বছর (প্রতিষ্ঠা), ১০.৩৩ একর (জমি), ১০ নটিক্যাল মাইল (দূরত্ব)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!