📌 গবেষক আবুল আহসান চৌধুরী লালন সাঁইয়ের গবেষণায় ৩২ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন। তিনি লালন আখড়ার বাউলদের কাছ থেকে গান সংগ্রহ ও জীবনী গবেষণার কথা সাক্ষাৎকারে বলেছেন। লালনের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর প্রথম বই প্রকাশের ঘটনাও তিনি স্মরণ করেছেন
গবেষক আবুল আহসান চৌধুরী লালন সাঁইয়ের গবেষণায় ৩২ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন। তিনি লালন আখড়ার বাউলদের কাছ থেকে গান সংগ্রহ ও জীবনী গবেষণার কথা একটি সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। এই সাক্ষাৎকারটি ২০০৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোর ‘সাহিত্য সাময়িকী’তে সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশিত হয়েছিল, কিন্তু এখন লালন ফকিরের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে পূর্ণাঙ্গ রূপে প্রকাশ করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আবুল আহসান চৌধুরী লালন সাঁইয়ের গবেষণায় ৩২ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন, যা তাঁর জন্মস্থান লালন আখড়ার কাছাকাছি থেকে শুরু হয়েছিল।
- 📌 ছোটবেলা থেকে লালন আখড়ায় গিয়ে বাউলদের গান শুনতেন এবং ফকির বেল্লাল শাহ ও ফকির আজিম শাহের কাছ থেকে লালন ও বাউলদের জীবনী ও গান সংগ্রহ করেছিলেন।
- 📌 ১৯৭৪ সালে লালন সাঁইয়ের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি একটি স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ করেছিলেন, যা বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র প্রকাশ করে।
- 📌 লালন ও ৫৫ জন বাউলের জীবনী ও গান নিয়ে তাঁর একটি বই প্রকাশিত হয়, যার ভূমিকা লিখেছিলেন ড. আহমদ শরিফ এবং আশীর্বাণী দিয়েছিলেন কবি অন্নদাশঙ্কর রায়।
- 📌 গবেষণায় তাঁর অনুপ্রেরণা হিসেবে তিনি অধ্যাপক মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন ও কবি অন্নদাশঙ্কর রায়ের নাম উল্লেখ করেছেন।
📰 বিস্তারিত
গবেষক আবুল আহসান চৌধুরী বলেছেন, তাঁর জন্ম লালন সাঁইয়ের আখড়া ছেঁউড়িয়ার খুব কাছেই। সেই কারণে ছোটবেলা থেকে তিনি লালন আখড়ায় যেতেন এবং বাউলদের গান শুনতেন। তিনি ফকির বেল্লাল শাহের কাছ থেকে লালন ও বাউলদের জীবনী সম্পর্কে অনেক তথ্য পেয়েছিলেন এবং সেই সময়ের লালন আখড়ার খাদেমের কাছ থেকে অনেক গানও সংগ্রহ করেছিলেন।
তিনি আরও বলেছেন, একবার লালনের একটি উৎসবে তিনি ভেড়ামারার প্রত্যন্ত গ্রামের বাউল সাধক ফকির আজিম শাহের সাথে আলাপ করেন। আজিম শাহ তাঁকে নানা অঞ্চল থেকে লালন ও অন্যান্য বাউলদের গান ও জীবনী সংগ্রহ করতে সাহায্য করেছিলেন। ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়ায় তিনি প্রথম দেখেছিলেন অধ্যাপক মুহম্মদ মনসুর উদ্দীনকে, যিনি লালনের গান সংগ্রহের কাজে জড়িত ছিলেন। মনসুর উদ্দীন তাঁকে বিভিন্ন বাউলের গান সংগ্রহ করতে বলতেন এবং তিনি সেই কাজটি করতেন।
১৯৭৪ সালে লালন সাঁইয়ের জন্মের ২০০ বছর পূর্ণ হওয়ার উপলক্ষে তিনি একটি স্মারক গ্রন্থের পরিকল্পনা করেছিলেন। এই বইটি বাংলাদেশ জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র প্রকাশ করে এবং তিনি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ ছিলেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের তৎকালীন পরিচালক কথাশিল্পী সরদার জয়েন উদ্দিন ও উপপরিচালক কবি কায়সুল হকের কাছে। এই বইটি কবি অন্নদাশঙ্কর রায়ের কাছে পাঠানো হয়েছিল, যিনি সেই বছরের শারদীয় আনন্দবাজারে বই সম্পর্কে একটি বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন।
তিনি আরও বলেছেন, ১৯৭৪ সালে লালন ও ৫৫ জন বাউলের জীবনী ও গান নিয়ে একটি বই প্রকাশিত হয়েছিল, যার নাম ছিল *কুষ্টিয়ার বাউল সাধক*। এই বইয়ের ভূমিকা লিখেছিলেন তাঁর শিক্ষক ড. আহমদ শরিফ এবং আশীর্বাণী দিয়েছিলেন অন্নদাশঙ্কর রায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং লালন ও বাউল পদাবলী ছিল তাঁদের পাঠ্যসূচির অংশ। তাঁর বই দুটির কথা তাঁর শিক্ষকরা তাঁর উপস্থিতিতে উল্লেখ করতেন, যা তাঁকে আরো অনুপ্রাণিত করেছিল।
"লালন সম্পর্কে ভাবতে গেলে আমি খুব বিস্মিত হই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লালন আখড়া ছেঁউড়িয়া, ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবুল আহসান চৌধুরী, ফকির বেল্লাল শাহ, ফকির আজিম শাহ, মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন, কবি অন্নদাশঙ্কর রায়, ড. আহমদ শরিফ, সরদার জয়েন উদ্দিন, কবি কায়সুল হক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২ বছর, ১৩৬তম তিরোধান, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০ বছর, ৫৫ জন বাউল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!