📌 কুষ্টিয়ার কুমারখালীর লালন একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সেমিনারে ফরহাদ মজহার বলেছেন, ফকির লালন শাহের দর্শন ইসলামের সঙ্গে কোনো বিরোধের বাইরে। তিনি বাংলার ভাব ও ভাষার ঐশ্বর্য প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন। সেমিনারে জেলা প্রশাসক ও গবেষকদের অংশগ্রহণ ছিল
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর লালন একাডেমির মিলনায়তনে আজ রোববার বিকেলে অনুষ্ঠিত ‘ফকির লালন শাহ বাংলার ভাব ও ভাষার ঐশ্বর্য’ শীর্ষক সেমিনারে কবি ও গবেষক ফরহাদ মজহার ফকির লালন শাহের দর্শন ও ভাষার গভীর বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, ফকির লালন শাহের দর্শন ইসলামের সঙ্গে কোনো বিরোধের বাইরে রয়েছে এবং তিনি বাংলার ভাব ও ভাষার ঐশ্বর্য প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফরহাদ মজহার বলেছেন, ফকির লালন শাহের দর্শন ইসলামের সঙ্গে বিরোধের বাইরে — তিনি নিজস্ব ‘নদীয়ার ভাবের ভুবন’ প্রতিষ্ঠা করেছেন যা দর্শনচর্চা ও রসচর্চার অংশ
- 📌 সেমিনারে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘পারে কে যাবি লোকের নৌকাতে আয়’ গানের রূপক অর্থে ‘রূপকাষ্ঠের নৌকা’ উল্লেখ করে ফকির লালনের ভাষাগত দক্ষতা তুলে ধরেছেন
- 📌 ফরহাদ মজহার সতর্ক করেছেন, ‘ভাবগত তর্ক’ থাকলেও তা যদি কারও অনুভূতিতে আঘাত করে, তাহলে ফকির লালনের ঐতিহ্য বিপদে পড়তে পারে
- 📌 অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উপসচিব) মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের অংশগ্রহণ ছিল
- 📌 সেমিনার অনুষ্ঠানের সময় পাবনার দুবলিয়া বাজারে অবৈধ মজুতের অভিযোগে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৩৮১ বস্তা সার জব্দ করা হয়
📰 বিস্তারিত
ফরহাদ মজহার সেমিনারে বলেছেন, ফকির লালন শাহের দর্শন ইসলামের সঙ্গে কোনো বিরোধের বাইরে ছিল। তিনি বলেন, ‘লালন ইসলাম সংস্কারের জন্য আসেননি, আবার শরিয়ত-মারফত নিয়েও কোনো তর্ক তোলেননি। তিনি নিজস্ব একটি পথের কথা বলেছেন, যাকে ‘নদীয়ার ভাবের ভুবন’ বলা যায়। এটা দর্শনচর্চা, ভাবচর্চা ও রসচর্চার অংশ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এখানে চারজন এমপির মধ্যে তিনজনই জামায়াতের। তাদের মধ্যে বড় বড় নেতা যারা, এখন নেই। তারা যদি জীবিত থাকতেন, তারা ভিন্নভাবে ফকির লালনকে নিতেন। তারা অনেক বিচক্ষণ ছিলেন।’
ফরহাদ মজহার লালনের গানের ভাষাগত দক্ষতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ফকির লালন শাহ তাঁর ভাব ও ভাষার মাধ্যমে বাংলা, আরবি ও ফারসি ভাষার যে ব্যবহার দেখিয়েছেন, তা সাহিত্যের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—“পারে কে যাবি লোকের নৌকাতে আয়”—এই গানের মধ্যে তারা খেয়াল করেন না, গানের শুরুতেই লেখা আছে রূপকাষ্ঠের নৌকা। তিনি রূপক অর্থে বুঝিয়েছেন।’
সেমিনারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উপসচিব) মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ-আল মামুন, ফোকলোর বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সুস্মিতা চক্রবর্তী, আলোকচিত্রী তাসলিমা আখতার, জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান ও কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, ফকির লালন শাহ কেবল বাউল সম্রাট নন, তিনি বাংলার ভাব ও ভাষার ঐশ্বর্যের অন্যতম প্রধান রূপকার। তাঁর গান ও দর্শনে মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানুষের মুক্তির কথা উঠে এসেছে।
সেমিনার অনুষ্ঠানের সময় পাবনার সদর উপজেলার দুবলিয়া বাজারে অবৈধ মজুতের অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপিসহ ৩৮১ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
"আমাদের এখানে চারজন এমপির মধ্যে তিনজনই জামায়াতের। তারা যদি জীবিত থাকতেন, তারা ভিন্নভাবে ফকির লালনকে নিতেন। তারা অনেক বিচক্ষণ ছিলেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুষ্টিয়ার কুমারখালী (লালন একাডেমি), পাবনার দুবলিয়া বাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফরহাদ মজহার, মো. মিজানুর রহমান, ফকির লালন শাহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ হাজার টাকা জরিমানা, ৩৮১ বস্তা সার জব্দ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!