📌 কুষ্টিয়া পৌরসভার এক পরিবারের তিন ভাই একসঙ্গে জিপিএ-৫ পেয়ে পরিবারকে আনন্দে ভরে দিয়েছে। তারা একই স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করেছে।
কুষ্টিয়া পৌরসভার ফুলবাড়িয়া এলাকার এক পরিবারের তিন ভাই একসঙ্গে জিপিএ-৫ পেয়ে পরিবারকে আনন্দে ভরে দিয়েছে। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাদের বাবা-মা ও শিক্ষকের অসামান্য সহযোগিতা। তিন ভাই একই স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৭ দিন হাসপাতালে মায়ের জটিল প্রসূতি পরিস্থিতি** — তিন ভাইয়ের জন্মের আগে মা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
- 📌 **২০০৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর একসঙ্গে জন্ম** — ফাহিম, ফরহাদ ও ফয়সাল তিন ভাই একই দিনে জন্মগ্রহণ করেছেন।
- 📌 **কেএসএম ঢাকা মিনাপাড়া উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫** — তিন ভাই একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করেছেন।
- 📌 **বাবা মামুনুর রহমানের আশা পূরণ** — তিন ভাইয়ের ফলাফল দেখে বাবা আনন্দে ভরে উঠেছিলেন।
- 📌 **গণিত ও খেলাধুলা প্রিয় বিষয়** — তিন ভাইয়ের মধ্যে গণিত সবচেয়ে পছন্দের বিষয়। তারা ফুটবল, ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টন খেলতে ভালোবাসেন।
📰 বিস্তারিত
কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মামুনুর রহমানের তিন ছেলে ফাহিম, ফরহাদ ও ফয়সাল একসঙ্গে জন্মগ্রহণ করেছেন। তাদের জন্মের আগে মা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রসূতি সংক্রান্ত জটিলতা কারণে ২৭ দিন ভর্তি ছিলেন। এই তিন ভাই এবার কুষ্টিয়া শহরের কেএসএম ঢাকা মিনাপাড়া উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
তিন ভাইয়ের বাবা মামুনুর রহমান কুষ্টিয়া শহরে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। মা গৃহিণী। তাদের পড়াশোনার শুরু হয়েছিল বাড়ির পাশের একটি কিন্ডারগার্টেন থেকে। তৃতীয় শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরে পড়াশোনা করার পর ঝিনাইদহে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়েন। এরপর আবার এলাকায় ফিরে কেএসএম ঢাকা মিনাপাড়া উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হন।
তিন ভাই একসঙ্গে জন্মগ্রহণ, একসঙ্গে বেড়ে ওঠা এবং একসঙ্গে পড়াশোনা করার কারণে তাদের মধ্যে এক বিশেষ বন্ধন গড়ে উঠেছে। নবম ও দশম শ্রেণিতে বাড়িতেই এক শিক্ষকের কাছে টানা দুই বছর প্রাইভেট পড়েছেন। ফলাফলের দিন বাবা মামুনুর রহমান তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে অফিসে গিয়ে ফলাফল দেখেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করতাম তারা জিপিএ-৫ পাবে। কিন্তু যদি কোনোভাবে একজন না পেত, তাহলে সে মুষড়ে পড়ত। এ জন্য সাহস দিতেই কাছে রেখেছিলেন।’
ফাহিম হোসাইন বলেন, ‘আমাদের এই ফলাফলের পেছনে বাবা-মা অনেক কষ্ট করেছেন।’ ফরহাদ হোসাইন জানান, ‘আমরা তিন ভাই এক টেবিলে বসে পড়তাম, একসঙ্গে খেলাধুলা করতাম। তবে কম। দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তাম। খুব সকালে উঠে পড়তে বসতাম।’ তিন ভাইয়েরই প্রিয় বিষয় গণিত। ফাহিম বলেন, ‘গণিত দিয়ে সৌরজগৎ ব্যাখ্যা করা যায়। গণিত খুব মজা লাগে।’
তিন ভাইয়ের মধ্যে দুজন চিকিৎসক ও একজন প্রকৌশলী হতে চায়। তারা মানুষের পাশে থেকে সেবা করতে চায়। তাদের পছন্দের খেলাধুলা হলো ফুটবল, ক্রিকেট ও ব্যাডমিন্টন। তারা কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছে আছে এবং আবেদনও করেছেন।
"আমাদের এই ফলাফলের পেছনে বাবা-মা অনেক কষ্ট করেছেন"
"আমরা তিন ভাই এক টেবিলে বসে পড়তাম, একসঙ্গে খেলাধুলা করতাম"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুষ্টিয়া পৌরসভার ফুলবাড়িয়া এলাকা, কুষ্টিয়া শহর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মামুনুর রহমান, ফাহিম হোসাইন, ফরহাদ হোসাইন, ফয়সাল হোসাইন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ দিন (মায়ের হাসপাতালে ভর্তি), ১৭ নম্বর ওয়ার্ড, ১০ সেপ্টেম্বর (জন্ম তারিখ), জিপিএ-৫ (এসএসসি ফলাফল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!