📌 কুমিল্লার দেবীদ্বার ও কুমিল্লা পুলিশ লাইনস স্কুলের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল তামিম ও ফাহিম শারিয়ার সিজান চার বছর আগে বন্ধুত্ব বিচ্ছেদের কারণে দেখা হারিয়েছিলেন। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেখা মিললো তাদের। এবার দু’জনই একই কলেজে ভর্তি হয়েছে
কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার ও কুমিল্লা পুলিশ লাইনস স্কুলের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল তামিম ও ফাহিম শারিয়ার সিজান চার বছর আগে বন্ধুত্ব বিচ্ছেদের কারণে দেখা হারিয়েছিলেন। কিন্তু এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হঠাৎ দেখা মিললো তাদের। এবার দু’জনই কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল কলেজে ভর্তি হয়েছে — যা তাদের বন্ধুত্বের নতুন পথচলার সূচনা করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চার বছর আগে পুলিশ বদলির কারণে দেবীদ্বার থেকে কুমিল্লা শহরে চলে যাওয়ার পর দেখা হারিয়েছিলেন তামিম ও ফাহিম — এবার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেখা মিললো তাদের
- 📌 ফাহিম কুমিল্লা পুলিশ লাইনস স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন, তামিম দেবীদ্বার সরকারি রেয়াজউদ্দিন পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন
- 📌 এবার দু’জনই একই কলেজে ভর্তি হয়েছে — কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল কলেজে
- 📌 ফাহিম বলেছেন, ‘সিনেমায় এমন দেখা যায়, বাস্তব জীবনেও এমন ঘটবে তা কল্পনাও করিনি’
- 📌 কুমিল্লা জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেয় ২ হাজার ৬০০ কৃতী শিক্ষার্থী
📰 বিস্তারিত
কুমিল্লার দেবীদ্বার সরকারি রেয়াজউদ্দিন পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পাশাপাশি বসত আবদুল্লাহ আল তামিম ও ফাহিম শারিয়ার সিজান। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তাদের বন্ধুত্ব। কিন্তু ফাহিমের বাবা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলামের বদলির কারণে সপ্তম শ্রেণিতেই দেবীদ্বার ছেড়ে কুমিল্লা শহরে চলে যেতে হয় ফাহিমকে। এরপর আর দেখা হয়নি দুই বন্ধুর। চার বছর পর আজ শনিবার কুমিল্লা জিলা স্কুল মাঠে হঠাৎ দেখা হয়ে গেল দুজনের।
দুজনই এসেছে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের ‘শিখো–প্রথম আলোর’ দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। পুরোনো বন্ধুকে সামনে দেখে প্রথমে বিশ্বাসই হচ্ছিল না। এরপর আলিঙ্গন, হাসি ও পুরোনো দিনের গল্পে ফিরে গেল দুই বন্ধু। ফাহিম বলেন, ‘সিনেমায় এমন দেখা যায়, বাস্তব জীবনেও এমন ঘটবে তা কল্পনাও করিনি। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, তামিম আর আমি এখন একই কলেজে ভর্তি হয়েছে। এবার নিশ্চয়ই আমাদের বন্ধুত্ব ও পথচলা দীর্ঘ হবে।’
তামিম বলেন, ‘ফাহিম আর আমি প্রায় দুই বছর একসঙ্গে পড়েছি। ও আমার খুব ভালো বন্ধু। ও যখন দেবীদ্বার থেকে চলে যায়, তখন খুব মন খারাপ হয়েছিল।’
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি ‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগানে সারা দেশে ৬৪ জেলায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত হয়েছে। কুমিল্লা পর্বে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কৃতী শিক্ষার্থী অংশ নেয়। অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর কুমিল্লা প্রতিনিধি আবদুর রহমান। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের বক্তব্য পড়ে শোনান।
"জিপিএ-৫ জীবনের সবকিছু নয়। ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মানবিকতাও ধরে রাখতে হবে"
— কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হাসনাত আনোয়ার উদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘শুধু পরীক্ষায় নয়, আচরণ, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতায় জিপিএ-৫ পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। মা–বাবার সঙ্গে খোলামেলা সম্পর্ক রাখার পরামর্শও দেন তিনি।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমিল্লা জিলা স্কুল মাঠ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল্লাহ আল তামিম, ফাহিম শারিয়ার সিজান, মো. রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: জিপিএ-৫ (৪ জন), ৬৪ জেলা, ২ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!