📌 কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সংস্থা আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর জারি করা নির্দেশনা অনুসারে, শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়া বেআইনি ঘোষিত হয়েছে এবং প্রতিটি মাদ্রাসায় ছাত্রছাত্রী-সুরক্ষা কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সংস্থা **আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ** শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের ছয়টি কওমি মাদ্রাসা বোর্ড ও তাদের অধিভুক্ত মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে এই নির্দেশনা জারি করেছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো ধরনের শারীরিক শাস্তি বেআইনি এবং প্রতিটি মাদ্রাসায় অবিলম্বে **ছাত্রছাত্রী-সুরক্ষা কমিটি** গঠন করতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৯ সেপ্টেম্বর** জারি করা নির্দেশনা অনুসারে কওমি মাদ্রাসায় **শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ** ঘোষণা করেছে আল-হাইআতুল উলয়া।
- 📌 **শিক্ষক বা শিক্ষিকা** কেউ যদি শাস্তি দেয়, তাহলে **শরিয়ত ও আইনের আওতায় জবাবদিহি** করতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
- 📌 **লাঠি, বেত বা অন্য কোনো যন্ত্র** দিয়ে আঘাত, মুখমণ্ডল বা মাথায় আঘাত, হাড় ভাঙা বা রক্তপাত সৃষ্টিকারী শাস্তি **সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ**।
- 📌 **প্রকাশ্যে অপমান, গালমন্দ বা মানসিক নির্যাতন**ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
- 📌 **ছাত্রছাত্রী-সুরক্ষা কমিটি** গঠন করতে হবে এবং **সাত দিনের মধ্যে অভিযোগ তদন্ত** করতে হবে।
- 📌 **নির্দেশনা লঙ্ঘনকারী মাদ্রাসার ইলহাক** স্থগিত বা বাতিলের আওতা হতে পারে।
📰 বিস্তারিত
**আল-হাইআতুল উলয়া**র চেয়ারম্যান **আল্লামা মাহমুদুল হাসান**ের নির্দেশে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, **মাওলানা আশরাফ আলী থানভী** ও **শায়খুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মদ যাকারিয়া কান্ধলভীসহ** ওলামায়ে দেওবন্দের রচনাবলি ও ফতোয়ার উপর ভিত্তি করে এই নির্দেশনা তৈরি করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, **সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের নির্যাতন ও অপরাধের অভিযোগ** প্রচারিত হওয়ার পর এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, **শাসনের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীর সংশোধন ও কল্যাণ** — প্রতিশোধ বা রাগের অবস্থায় শাস্তি দেওয়া যাবে না। শাস্তির ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে:
"**প্রথমে নম্র সতর্কতা, প্রয়োজনে মৃদু ভর্ৎসনা, এরপর রাগ-ধমক** — কিন্তু **অভিভাবককে ডেকে লিখিতভাবে অবহিত** করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অবস্থাতেই **শারীরিক শাস্তি দেওয়া যাবে না**।"
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, **প্রকাশ্যে অপমান, গালমন্দ, কটু ভাষা বা ঘৃণাসূচক উপনাম** দিয়ে সম্বোধন করা নিষিদ্ধ। শিক্ষক বা শিক্ষিকাকে যদি নির্দেশনা লঙ্ঘন করে, তাহলে **শরিয়ত ও আইনের আওতায় জবাবদিহি** করতে হবে।
**ছাত্রছাত্রী-সুরক্ষা কমিটি** গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মাদ্রাসায় এই কমিটি গঠন করতে হবে এবং **সাত দিনের মধ্যে অভিযোগ তদন্ত** সম্পন্ন করে প্রতিবেদন পেশ করতে হবে। গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে অভিযুক্তকে **তদন্তকালে দায়িত্ব থেকে বিরত** রাখতে হবে। কোনো মাদ্রাসায় কমিটি না থাকলে বা নিষ্ক্রিয় থাকলে, **সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার ইলহাক স্থগিত বা বাতিল** হতে পারে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, **ইসলাহি মজলিশ, তারবিয়াতি মজলিশ ও অভিভাবক-সমাবেশ** আয়োজন বাড়াতে হবে। এতে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ ও আস্থা জোরদার হবে এবং কোনো সমস্যা দ্রুত মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নজরে আসবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: **বাংলাদেশ** (কওমি মাদ্রাসা বোর্ডসমূহ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: **আল্লামা মাহমুদুল হাসান** (চেয়ারম্যান, আল-হাইআতুল উলয়া)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: **১৯ সেপ্টেম্বর** (নির্দেশনা জারি তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!