📌 আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। প্রতিটি মাদ্রাসায় ছাত্রছাত্রী সুরক্ষা কমিটি গঠন ও কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নিগ্রহের অভিযোগে কমিটি তদন্ত করবে এবং প্রয়োজনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। দেশের সব কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি মাদ্রাসায় অবিলম্বে ‘ছাত্রছাত্রী সুরক্ষা কমিটি’ গঠন ও কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি (লাঠি, বেত, মুখমণ্ডল আঘাত) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে
- 📌 প্রতিটি মাদ্রাসায় অবিলম্বে ‘ছাত্রছাত্রী সুরক্ষা কমিটি’ গঠন ও কার্যকর করার নির্দেশ
- 📌 অভিযোগ পেলে কমিটি সাত দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে; গুরুতর ক্ষেত্রে অভিযুক্তকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের নির্দেশ
- 📌 মাদ্রাসায় সুরক্ষা কমিটি না থাকলে বা নিষ্ক্রিয় হলে প্রতিষ্ঠানের ইলহাক স্থগিত বা বাতিল করা হবে
- 📌 প্রতিটি বোর্ডকে ‘মাদ্রাসা মনিটরিং সেল’ ও হটলাইন চালু করতে বলা হয়েছে
- 📌 মিথ্যা অপবাদ ও মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার শিক্ষকদের আইনি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা
📰 বিস্তারিত
গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশে দেশের ছয়টি কওমি মাদ্রাসা বোর্ড ও তাদের অধীনে পরিচালিত সব বালক-বালিকা মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, শিক্ষকদের শাসনের একমাত্র উদ্দেশ্য হতে হবে শিক্ষার্থীদের সংশোধন ও আত্মিক কল্যাণ, কোনোভাবেই প্রতিশোধ নয়। লাঠি, বেত বা কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করা, মুখমণ্ডল বা স্পর্শকাতর অঙ্গে প্রহার করা, রক্তপাত বা দাগ সৃষ্টিকারী শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রকাশ্যে অপমান, গালিগালাজ, কটূ ভাষা বা ঘৃণাসূচক নামে ডাকার মতো মানসিক নির্যাতনমূলক আচরণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শাসনের ক্ষেত্রে প্রথমে নম্র সতর্কতা, প্রয়োজনে মৃদু ভরৎসনা ও রাগ-ধমক দেওয়া যাবে। তবে একান্ত অপরিহার্য হলে সর্বশেষ ধাপ হিসেবে অভিভাবককে লিখিতভাবে অবহিত করে যৌথ ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্দেশনা অনুসারে, শিক্ষক বা শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে শরিয়ত ও প্রচলিত আইন উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
এই নির্দেশনা অনুসারে, প্রতিটি মাদ্রাসায় অবিলম্বে ‘ছাত্রছাত্রী সুরক্ষা কমিটি’ গঠন ও কার্যকর করতে হবে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে যেকোনো নিগ্রহ বা অসদাচরণের অভিযোগ পেলে কমিটি সাত দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তদন্তকালীন সময়ে সাময়িকভাবে বরখাস্ত বা দায়িত্ব থেকে দূরে রাখতে হবে। কোনো মাদ্রাসায় সুরক্ষা কমিটি না থাকলে বা নিষ্ক্রিয় প্রমাণিত হলে কিংবা অভিযোগ পেয়ে ব্যবস্থা না নিলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের ইলহাক স্থগিত বা বাতিল করা হবে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলে তার নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা ও অপরাধীকে প্রশ্রয় না দেওয়াই তাদের মূলনীতি। তবে ব্যক্তিবিশেষের অপকর্মের দায় পুরো শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষকসমাজ বা উলামায়ে কেরামের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যৌক্তিক নয়। অপপ্রচার ও জালিয়াতি রোধে প্রতিটি বোর্ডকে পৃথক ‘মাদ্রাসা মনিটরিং সেল’ ও হটলাইন চালু করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও, মিথ্যা অপবাদ ও ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর শিকার নিরপরাধ শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বোর্ডসমূহের আইনজীবী প্যানেল আইনি পদক্ষেপ নেবে। প্রয়োজনে আল-হাইআতুল উলয়ার কেন্দ্রীয় হটলাইন নম্বরে (০১৭০০-৭৬৩১৭৮-হোয়াটসঅ্যাপ) যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
"শাসনের একমাত্র উদ্দেশ্য হতে হবে শিক্ষার্থীর সংশোধন ও আত্মিক কল্যাণ, কোনোভাবেই প্রতিশোধ নয়। লাঠি, বেত বা কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করা, মুখমণ্ডল বা স্পর্শকাতর অঙ্গে প্রহার করা কিংবা রক্তপাত ও দাগ সৃষ্টিকারী শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশের সব কওমি মাদ্রাসা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আল্লামা মাহমুদুল হাসান (আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯ সেপ্টেম্বর (নির্দেশনা জারি তারিখ), ৬৯তম স্থায়ী কমিটি সভা (১২ সেপ্টেম্বর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!