📌 খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের নির্দেশে ৭২ শিক্ষার্থীকে দুই শিক্ষার্থীর গালে থাপ্পড় মারার শাস্তি দেওয়া হয়। ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষক নাঈমুল হক নিজে অনুতপ্ত ঘোষণা করেছেন
খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার রাণী নীহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের নির্দেশে অষ্টম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীকে সহপাঠীদের মাধ্যমে গণ-শাস্তি দেওয়া হয়। শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্য আচরণের অভিযোগে শাস্তি হিসেবে তাদের গালে ৭২ সহপাঠীকে থাপ্পড় মারার নির্দেশ দেওয়া হয়। শিক্ষক তাদেরকে জোর করে সহপাঠীদের মাধ্যমে শাস্তি গ্রহণ করতে বাধ্য করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার রাণী নীহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের নির্দেশে ৭২ শিক্ষার্থীকে দুই শিক্ষার্থীর গালে থাপ্পড় মারার শাস্তি দেওয়া হয়
- 📌 অভিযুক্ত শিক্ষক নাঈমুল হক নিজে অনুতপ্ত ঘোষণা করেছেন এবং বলেছেন, "এটা আমার ভুল হয়েছে, অন্যায় হয়েছে"
- 📌 ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে, যার আহ্বায়ক উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া
- 📌 ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন
- 📌 তদন্ত কমিটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য নেয়া হয়েছে
📰 বিস্তারিত
গত ৩০ সেপ্টেম্বর অষ্টম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষক নাঈমুল হকের অসৌজন্য আচরণের অভিযোগ উঠে। এর পরদিন তিনি শাস্তি হিসেবে ওই শ্রেনির ৭২ শিক্ষার্থীকে তাদের গালে চড় মারার নির্দেশ দেন। শিক্ষার্থীরা সহপাঠীদের মাধ্যমে এই শাস্তি গ্রহণ করতে বাধ্য হন। ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, “আমার মেয়ে বেয়াদবি বা অপরাধ করলে শিক্ষক নিজেই বিচার করবেন। সহপাঠী দিয়ে চড়-থাপ্পড়ে শায়েস্তা করতে পারেন? এতে আমার মেয়ে চরম অপমান বোধ করেছে।”
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আতাউল্লাহ দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, “শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য আমি দুঃখিত।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক এবং উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজারকে সদস্যসচিব করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বক্তব্য নেয় এবং ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে।
তদন্ত কমিটির সদস্য রেহানা মোস্তফা বলেন, “শিক্ষকের নির্দেশে ৭২ সহপাঠীর মাধ্যমে দুই শিক্ষার্থীকে চড়-থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সরেজমিনে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”
"এটা আমার ভুল হয়েছে, অন্যায় হয়েছে। এ ঘটনার জন্য আমি অনুতপ্ত।"
— অভিযুক্ত শিক্ষক নাঈমুল হক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাণী নীহার দেবী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মানিকছড়ি উপজেলা, খাগড়াছড়ি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষক নাঈমুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া, রেহানা মোস্তফা, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭২ (সহপাঠী), ৩০ (সেপ্টেম্বর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!