📌 বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকতা পেশায় ভর্তি হওয়ার কারণ ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন সম্পর্কে তাদের মতামত শেয়ার করেছেন। তারা পেশার চ্যালেঞ্জ, সামাজিক দায়িত্ব ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকতা পেশায় ভর্তি হওয়ার কারণ ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জগুলি ভাগ করে নিয়েছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, সাংবাদিকতা তাদের কাছে শুধু একটি পেশা নয়, বরং সামাজিক দায়িত্ব ও বাস্তবতা সম্মুখীন হওয়ার একটি চ্যালেঞ্জিং পথ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাফিসা আতিয়া বলেছেন, সাংবাদিকতা পেশায় নিজের জায়গা খুঁজে নিতে চান এবং সুবিধাবঞ্চিত নারীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে আগ্রহী
- 📌 উম্মে তাবাসসুম (স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি) সাংবাদিকতাকে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে দেখেন এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন
- 📌 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবির মুবিন সাংবাদিকতার বাস্তবতা নিয়ে চিন্তিত, বেতনকাঠামো ও চাকরির অনিশ্চয়তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন
- 📌 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় প্রকাশ মন্ডল ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহী হলেও পেশার অনিশ্চয়তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না
- 📌 তাবাসসুম রহমান (ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি) সাংবাদিকতা পেশায় নারীদের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ থাকলেও তা তাদের আগ্রহ কমিয়ে দেনি
- 📌 শরীফা সুলতানা (লিবারেল আর্টস ইউনিভার্সিটি) সাংবাদিকতা পেশায় সমাজ ও রাষ্ট্রকে বোঝার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন
📰 বিস্তারিত
সাংবাদিকতা পেশায় ভর্তি হওয়ার কারণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই ছোটবেলা থেকেই সংবাদ উপস্থাপনা ও তথ্য সংগ্রহের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হওয়া নাফিসা আতিয়া বলেছেন, “ভয় ছিল, কিন্তু ক্লাস শুরু হওয়ার পর সেই ভয় অনেকটাই কেটে গেছে। শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা আমাকে আগ্রহী করেছে। মানুষের সঙ্গে কথা বলা, তথ্য যাচাই ও প্রকাশের চ্যালেঞ্জ আমাকে আকর্ষণ করে।” তিনি ভবিষ্যতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও নারীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে চান।
উম্মে তাবাসসুম (স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি) সাংবাদিকতাকে একটি সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। তিনি বলেছেন, “সত্য প্রকাশের ইচ্ছা থেকেই আমি এই পেশায় আগ্রহী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে কাজ করার স্বপ্ন দেখি, যেমন বিবিসি বা আল-জাজিরা। তবে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন ও ভুয়া খবরের চ্যালেঞ্জ আমাকে সতর্ক করে তোলে।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবির মুবিন সাংবাদিকতার বাস্তবতা নিয়ে চিন্তিত। তিনি বলেছেন, “ছোটবেলা থেকেই সংবাদ উপস্থাপনা আমাকে আকৃষ্ট করত, কিন্তু বেতনকাঠামো ও চাকরির অনিশ্চয়তা আমাকে সন্দেহে ফেলেছে। সরকারি চাকরি বা অন্য পেশায় পা বাড়ানোর কথাও বিবেচনা করছি। সামাজিক মাধ্যমে সংবাদ গ্রহণের দ্রুততা ও বিজ্ঞাপননির্ভর প্রতিযোগিতা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে চ্যালেঞ্জে ফেলেছে।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় প্রকাশ মন্ডল বলেছেন, “সাংবাদিকতা পেশায় ভর্তি হওয়ার সময়ই পছন্দের বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম। কিন্তু তিন বছর পরও সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে বেছে নেব কি না, সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি। ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রতি আলাদা টান থাকলেও, বেতনকাঠামোর অভাব ও চাকরির অনিশ্চয়তা আমাকে ভাবায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারও পেশার চ্যালেঞ্জকে আরও জটিল করেছে।”
তাবাসসুম রহমান (ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি) সাংবাদিকতা পেশায় নারীদের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ থাকলেও তা তাদের আগ্রহ কমিয়ে দেনি। তিনি বলেছেন, “সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ প্রকাশ নয়, মানুষের না-বলা কথা শোনা ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরার দায়িত্ব। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, তথ্য যাচাই ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু আমি এগিয়ে যাব।”
শরীফা সুলতানা (লিবারেল আর্টস ইউনিভার্সিটি) বলেছেন, “সমাজ ও রাষ্ট্রকে কাছ থেকে বোঝার আকাঙ্ক্ষা থেকেই সাংবাদিকতায় পড়া। গণমাধ্যম নিরপেক্ষ না হলে রাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, এই বিশ্বাস আমার। গবেষণাভিত্তিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজে আগ্রহী। সাংবাদিকতা আমার কাছে একটি সামাজিক দায়িত্ব, যা আমি সত্যিকারের অর্থে পালন করতে চাই।”
"সাংবাদিকতা শুধু একটি চাকরি নয়, একটা বড় সামাজিক দায়িত্ব। নানা বাধা সত্ত্বেও স্বাধীন ও সাহসী সাংবাদিকতাই একটি সচেতন সমাজ গড়ে তুলতে পারে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাফিসা আতিয়া, উম্মে তাবাসসুম, আবির মুবিন, জয় প্রকাশ মন্ডল, তাবাসসুম রহমান, শরীফা সুলতানা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ জন শিক্ষার্থী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!