📌 সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার একটি ৫৭ বছরের পুরাতন সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মাত্র দুজন শিক্ষক নিয়ে ৪৮৬ জন ছাত্রীর পড়াশোনা চলছে। শিক্ষকসংকটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পাচ্ছে না। শিক্ষকদের দূরত্ব ও চাকরির প্রথম পদায়ন হিসেবে নিয়োগের কারণে এই সংকট চলছে
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকসংকটের কারণে ৪৮৬ জন ছাত্রীর পড়াশোনা চলছে অস্থির অবস্থায়। জকিগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মাত্র দুজন নিয়মিত শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শিক্ষকসংকটের এই খণ্ডিত চিত্রটি শিক্ষাবর্ষের শেষের দিকে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫৭ বছরের পুরাতন জকিগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে বর্তমানে ৪৮৬ জন ছাত্রী পড়াশোনা করছে, কিন্তু মাত্র দুজন নিয়মিত শিক্ষক রয়েছে।
- 📌 শিক্ষকসংকটের কারণে দশম শ্রেণির ছাত্রীরা ৯ মাসে একবারও ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে ক্লাস পায়নি।
- 📌 সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা সাত পিরিয়ড ক্লাস নিতে হয় দুজন শিক্ষককে। টিফিন পিরিয়ডেও ক্লাস নিতে হয়।
- 📌 ১০টি শিক্ষক পদ থাকলেও বর্তমানে মাত্র দুজন শিক্ষক কর্মরত। ২০২৫ সালে পাঁচজন শিক্ষক থাকলেও মার্চ, এপ্রিল ও ৭ জুলাই তিনজন বদলি হয়ে গেছেন।
- 📌 ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক জানান, খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের পরেও পরিস্থিতি উন্নত হয়নি।
- 📌 জকিগঞ্জের দূরত্ব ও চাকরির প্রথম পদায়ন হিসেবে শিক্ষকদের নিয়োগের কারণে তারা চলে যেতে চান।
- 📌 বিজ্ঞানাগার ও কম্পিউটার ল্যাবের অকেজো অবস্থা এবং শিক্ষকসংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা পাঠ পাচ্ছে না।
- 📌 ২০০ টাকা মাসিক শিক্ষক ভাতা নিয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের পর অভিভাবকদের চাপ কমাতে বন্ধ করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
জকিগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এই বিদ্যালয়ে ৪৮৬ জন ছাত্রী পড়াশোনা করছেন, কিন্তু মাত্র দুজন নিয়মিত শিক্ষক রয়েছে। শিক্ষকসংকটের কারণে দশম শ্রেণির ছাত্রীরা ৯ মাসে একবারও ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে ক্লাস পায়নি। শিক্ষকদের দায়িত্বে রয়েছে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা সাত পিরিয়ড ক্লাস নেওয়া। এমনকি টিফিন পিরিয়ডেও ক্লাস নিতে হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ওমর ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদ্যালয়ে আমরা দুজন শিক্ষক। দুজনকেই প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত টানা সাত পিরিয়ড ক্লাস নিতে হয়। এমনকি অনেক দিন টিফিন পিরিয়ডেও ক্লাস নিতে হয়। এক বছর ধরে এমন অবস্থা চলছে। খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েও সমস্যার সমাধান হয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।’
জকিগঞ্জ উপজেলা সিলেট শহর থেকে ৯১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। স্থানীয় লোকজনের মতে, ভারত সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জের দূরত্ব বেশি হওয়ায় শিক্ষকদের এখানে আসতে চান না। অনেক শিক্ষক চাকরির প্রথম পদায়ন হিসেবে এই বিদ্যালয়ে আসেন, কিন্তু কিছুদিন পর চেষ্টা-তদবির করে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি হয়ে চলে যান। ফলে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট লেগেই থাকে।
শিক্ষকসংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। দশম শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্রী সুহাদা জান্নাত ও নুরুন্নাহার প্রভা জানান, শিক্ষকসংকটের কারণে তাদের সুষ্ঠু পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এক বিষয়ের শিক্ষককে অন্য বিষয়ের ক্লাস নিতে হওয়ায় অনেক সময় বিষয় বুঝতে সমস্যা হয়। একাধিক ছাত্রী জানান, পৌরনীতি ও সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের অনেক কিছুই তারা বুঝতে পারে না। এতে তারা কাঙ্ক্ষিত পাঠ পাচ্ছে না। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী জান্নাতুল নুসরাত ও সালমা তাবাসসুম জানান, বিদ্যালয়ে কোনো বিজ্ঞানাগার নেই। মাঝেমধ্যে শ্রেণিকক্ষে বিজ্ঞানাগারের ক্লাস হয়, তবে প্রয়োজনীয় উপকরণ নেই। কম্পিউটার ল্যাবের বেশির ভাগ ল্যাপটপও অকেজো।
শিক্ষকসংকটের কারণে কোনো শ্রেণিতেই সেকশন করা সম্ভব হয়নি। ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক জুলহাস সুজন বলেন, ‘এত সংকটের মধ্যেও গত বছর বিদ্যালয়ের পাসের হার ছিল ৭০.২১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ছয়জন ছাত্রী।’ শিক্ষার্থীদের টাকায় খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি অভিভাবকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করায় পরে টাকা নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, ‘অভিভাবকদের বাড়তি চাপ কমাতেই ২০০ টাকা করে নেওয়া বন্ধ করা হয়েছে।’
"বিদ্যালয়ে আমরা দুজন শিক্ষক। দুজনকেই প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত টানা সাত পিরিয়ড ক্লাস নিতে হয়। এমনকি অনেক দিন টিফিন পিরিয়ডেও ক্লাস নিতে হয়। এক বছর ধরে এমন অবস্থা চলছে।"
"এত সংকটের মধ্যেও গত বছর বিদ্যালয়ের পাসের হার ছিল ৭০.২১ শতাংশ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জকিগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, জকিগঞ্জ উপজেলা, সিলেট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ওমর ফারুক, সহকারী শিক্ষক জুলহাস সুজন, ছাত্রী সুহাদা জান্নাত ও নুরুন্নাহার প্রভা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৮৬ জন ছাত্রী, ২ জন নিয়মিত শিক্ষক, ১০টি শিক্ষক পদ, ৯১ কিলোমিটার দূরত্ব, ৭০.২১ শতাংশ পাসের হার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!