📌 ময়মনসিংহে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দু'জন শিক্ষার্থী নিজস্ব সংগ্রামের গল্প শেয়ার করলেন। নাহিয়ান আহমেদ ও রুবাইয়া রহমানের পথে ছিল অসুবিধা ও বাধা, কিন্তু তাদের পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছা তাদের জিপিএ-৫ পেতে সাহায্য করেছিল
ময়মনসিংহের প্রিমিয়ার আইডিয়াল হাইস্কুলে আজ শুক্রবার জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দু'জন শিক্ষার্থী নিজস্ব সংগ্রামের গল্প শেয়ার করলেন। আট কিলোমিটার দূরে স্কুল থাকা সত্ত্বেও দুই কিলোমিটার হেঁটে যেতে হতো নাহিয়ান আহমেদের। ক্লান্তি ও অসুস্থতার মধ্যেও তিনি বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। অন্যদিকে, বাবা হারানোর পর টিউশনি করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া রুবাইয়া রহমানের পথেও ছিল অসুবিধা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নাহিয়ান আহমেদ বলেছেন, নতুন কারিকুলামে ইংরেজিতে ফেল করায় শিক্ষকরা বিজ্ঞান বিভাগে নিতে চেয়েছিলেন না, কিন্তু তিনি নিজের বিশ্বাসে থাকেন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
- 📌 রুবাইয়া রহমান জানান, বাবা মারা যাওয়ার পর সমাজের বাধা সত্ত্বেও তিনি টিউশনি করে পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং জিপিএ-৫ পান।
- 📌 ৬৪ জেলায় সারা দেশে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগান নিয়ে।
- 📌 অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহ কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ মো. এখলাছ উদ্দিন খান বলেছেন, এসএসসি থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার হার কমে গেছে, তাই শিক্ষার্থীদের আরও সচেতন ও পরিশ্রমী হতে হবে।
- 📌 প্রিমিয়ার আইডিয়াল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. চান মিঞা শিক্ষার্থীদের মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থকে ‘না’ বলতে শপথ পড়ান।
📰 বিস্তারিত
ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নাহিয়ান আহমেদ বলেছেন, “বাড়ি থেকে স্কুলে যেতে প্রায় আট কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো। স্কুল ও প্রাইভেট শেষে ক্লান্ত থাকলেও পড়তে বসলে সেই ক্লান্তি ভুলে যেত। পরীক্ষার কিছুদিন আগে অসুস্থও হয়ে পড়েছিল। কিন্তু জিপিএ-৫ পাওয়ার পথটা এত সহজ ছিল না।” তিনি আরও বলেন, “নতুন কারিকুলামে নবম থেকে দশম শ্রেণিতে ওঠার সময় আমি ইংরেজিতে ফেল করি। এ কারণে শিক্ষকেরা আমাকে বিজ্ঞান বিভাগে দিতে চাননি। কিন্তু নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে বিজ্ঞান বিভাগ নিই। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আল্লাহর রহমতে বিজ্ঞান বিভাগের সব বিষয়ে ভালো নম্বরসহ জিপিএ-৫ পেয়েছি।”
রুবাইয়া রহমান জানান, “২০১৪ সালে যখন বাবা মারা যান, তখন আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারিনি। এরপর টিউশনি করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছে। সমাজের অনেকেই বাধা দিতে চেয়েছে। তাদের ধারণা ছিল, মেয়েদের সব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার দরকার নেই। সব চড়াই-উতরাই পার করেই আমি এ পর্যন্ত এসেছি।”
স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগান নিয়ে সারা দেশে ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ৬৪ জেলায় সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহ কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ মো. এখলাছ উদ্দিন খান বলেন, “এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। এসএসসি থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তাই এখন থেকেই শিক্ষার্থীদের আরও সচেতন ও পরিশ্রমী হতে হবে।”
বিদ্যময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও আইপিডিসি-প্রথম আলো প্রিয় শিক্ষক সম্মাননাপ্রাপ্ত নাছিমা আক্তার বলেন, “সফল ও ব্যর্থ—উভয়ের জন্যই দিনে ২৪ ঘণ্টা সময় থাকে। পরিশ্রম করার কোনো বিকল্প নেই।”
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী মাহবুবা খাতুন, কলেজশিক্ষক মাহমুদা নাছরিন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আসা অভিভাবক ফাহিমা ইসলাম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
"এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অনেক কাজ করে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে কোন পেশা কতটা টিকে থাকবে, তা নিশ্চিত নয়। তাই তোমাদের চ্যালেঞ্জ হবে এআইয়ের চেয়ে ভালো কিছু করা।"
প্রথম আলোর হেড অব ডিপ নিউজ রাজীব আহমেদ শিক্ষার্থীদের ছাত্রজীবনে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি ইতিহাস, বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ের বই পড়ার পরামর্শ দেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: প্রিমিয়ার আইডিয়াল হাইস্কুল, ময়মনসিংহ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাহিয়ান আহমেদ, রুবাইয়া রহমান, মো. এখলাছ উদ্দিন খান, নাছিমা আক্তার, রাজীব আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৪ জেলা, জিপিএ-৫, ২৪ ঘণ্টা, ২০২৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!