📌 টাঙ্গাইলের বিবেকানন্দ হাই স্কুলে প্রথম আলো ও 'শিখো' প্ল্যাটফর্মের আয়োজনে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৬৪ জেলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫০ জনের সম্মাননা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা স্বপ্ন পূরণের কথা বলেন এবং সাফল্যের গল্প শেয়ার করেন
টাঙ্গাইলের বিবেকানন্দ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে আজ শনিবার জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে মা-বাবার সময়সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। প্রথম আলো ও শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত এই সম্মাননায় ৬৪ জেলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে টাঙ্গাইলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফারাহ তানজুম নাবিলা বলেন, “মা আমাকে তাঁর সময় দিয়েছেন, এ ফল তাঁদের জন্য”
- 📌 ৫০ কিলোমিটার দূর থেকে আসেন মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাঈদা বিনতে শহীদ বুশরা
- 📌 ৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন টাঙ্গাইলের এই সম্মাননা অনুষ্ঠানে
- 📌 মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আজিজুল হক বলেন, “সাফল্য ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, এইচএসসিতে ভালো করতে হবে”
- 📌 বুড়ো হেলথ ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ডা. সাঈদা খান শিক্ষার্থীদের বলেন, “ভালো ফল করলে ভালো মানুষ হতে হবে”
- 📌 সকাল ১০:৩০-এ শুরু হয় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান
📰 বিস্তারিত
‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগানের অধীনে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের বিবেকানন্দ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে আজ শনিবার উচ্ছ্বাসের পরিবেশ ছিল। প্রথম আলোর টাঙ্গাইলের প্রতিবেদক কামনাশীষ শেখর স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “এই অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা জাগ্রত করবে।”
ফারাহ তানজুম নাবিলা, যিনি প্রাইভেট স্কুলে পড়ার সময় মা-বাবার সহযোগিতায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন, বলেন, “আমি যতক্ষণ স্কুলে ছিলাম, মা আমার সঙ্গে থাকতেন। তাঁর সময়সহযোগিতা আমাকে এ ফল পেতে সাহায্য করেছে। এ ফল আমি মা-বাবার জন্য পেয়েছি।”
মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাঈদা বিনতে শহীদ বুশরা বলেন, “আমি প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূর থেকে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছি। রাতে ঘুম আসত না, কিন্তু এখন স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার আনন্দ অপরিসীম।”
বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের আলিফ আহসান বলেন, “ছোট ক্লাসে দেখতাম বড় ভাইয়েরা জিপিএ-৫ পায়। তখন থেকেই আমি চেষ্টা করি। আল্লাহর রহমতে এখন আমি জিপিএ-৫ পেয়েছি এবং এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার গৌরব অনুভব করছি।”
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ তপন কুমার বর্ধন বলেন, “প্রাইমারি স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে চলছে শিক্ষা। তোমরা ভালো ফল করলে সেই সাধারণ মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে হবে।”
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আজিজুল হক বলেন, “সাফল্য একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এসএসসিতে তোমরা ভালো ফল করেছ। এইচএসসিতে আরও ভালো করতে হবে। আগামী দুই বছরের প্রচেষ্টা তোমাদের পুরো জীবন বদলে দেবে।”
বুড়ো হেলথ ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন চিকিৎসক সাঈদা খান শিক্ষার্থীদের বলেন, “ভালো ফল করলে তোমরা আগামীতে যে কিছুই করো না কেন, দিন শেষে ভালো মানুষ হতে হবে। সাফল্য শুধু নম্বর নয়, মানবিক মূল্যবোধও গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রথম আলোর হেড অব কালচারাল প্রোগ্রাম কবির বকুল বলেন, “এই মঞ্চ শুধু সংবর্ধনার নয়, স্বপ্ন দেখার মঞ্চ। সফল হতে হলে পরিশ্রম করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের মুখস্থবিদ্যা, মিথ্যা ও মাদককে ‘না’ বলতে শপথ করান।
অনুষ্ঠানে বিবেকানন্দ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বজলুর রহমান, কৃতী শিক্ষার্থী প্রতীক দাসের মা প্রকৃতি দাস এবং ইসরাত জাহানের মা শারমিন জাহান বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন টাঙ্গাইল বন্ধুসভার উপদেষ্টা জিনিয়া বখ্শ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন টাঙ্গাইল বন্ধুসভার সভাপতি জয় ঘোষ।
অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক আয়োজনও ছিল। অনীক সূত্রধর ও লিজু বাউলা সংগীত পরিবেশন করেন।
"আমি যতক্ষণ স্কুলে ছিলাম, মা আমার সঙ্গে থাকতেন। তাঁর সময়সহযোগিতা আমাকে এ ফল পেতে সাহায্য করেছে। এ ফল আমি মা-বাবার জন্য পেয়েছি।"
"আমি প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূর থেকে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছি। রাতে ঘুম আসত না, কিন্তু এখন স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিবেকানন্দ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, টাঙ্গাইল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফারাহ তানজুম নাবিলা, সাঈদা বিনতে শহীদ বুশরা, আলিফ আহসান, তপন কুমার বর্ধন, অধ্যাপক আজিজুল হক, চিকিৎসক সাঈদা খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৪ জেলা, ৫০ জন শিক্ষার্থী, ৫০ কিলোমিটার, জিপিএ-৫
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!