📌 ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর তিথি মালি এসএসসি-তে জিপিএ-৫ পেয়ে বিয়ে বন্ধ করে উচ্চশিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হন। তার বোন কাজল পাড়ের উদ্বেগে বিয়ে ঠেকানো হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনায় তিনি বলেন, ‘লেখাপড়া করে বড় হতে চাই’
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর তিথি মালি এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে বিয়ে বন্ধ করে উচ্চশিক্ষায় অগ্রসর হন। তার বিয়ে ঠেকানোর জন্য বাবাকে উদ্বুদ্ধ করার পেছনে ছিল বোন কাজল পাড়ের শিক্ষানুরাগী ভূমিকা। চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত ‘শিখো-প্রথম আলো’ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনায় তিনি নিজের স্বপ্নের কথা ভাগ করে নেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নওগাঁর পোরশা উপজেলার ঘাটনগর উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে বিয়ে বন্ধ করে রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তি হন তিথি মালি
- 📌 কাজল পাড়ের বোনের উদ্বেগে বিয়ে ঠেকানো হয়; বাবাকে উচ্চশিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য সঞ্চিত টাকা খরচ করা হয়
- 📌 রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিথি; প্রথম আলোর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে নিজেকে ‘নার্ভাস’ বলে উল্লেখ করেন
- 📌 কাজল পাড়ে ২০১৩ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেও তখন সংবর্ধনা পাননি; এবার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে খুশি
- 📌 ‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগান নিয়ে ৬৪ জেলায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
📰 বিস্তারিত
নওগাঁর পোরশা উপজেলার ঘাটনগর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তিথি মালি এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে বিয়ে বন্ধ করে উচ্চশিক্ষায় অগ্রসর হন। কাজল পাড়ের বোনের উদ্বেগে বিয়ে ঠেকানো হয়। কাজল পাড়ের বোনের বাড়িতে বিয়ে ঠিক হওয়ার পর বাবাকে উচ্চশিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য সঞ্চিত টাকা খরচ করা হয়। কাজল পাড়ে বলেন, ‘তিথি এবার জিপিএ-৫ না পেলে বিয়ে হয়ে যেত। আর জিপিএ-৫ না পেলে আমার বড় বোনও বিয়ে আটকানোর জন্য আমাকে এ খবর দিত না।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত ‘শিখো-প্রথম আলো’ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনায় তিথি নিজের স্বপ্নের কথা ভাগ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি লেখাপড়া করে বড় হতে চাই। বাবা-মায়ের দুঃখ দূর করতে চাই।’ রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিথি। প্রথম আলোর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে নিজেকে ‘নার্ভাস’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘জীবনে কোনো দিন এমন বড় কোনো অনুষ্ঠানে আসার সুযোগ পাইনি। আর অনুষ্ঠানে কথা বলব, তা কখনো ভাবিনি। কিন্তু এখন খুব ভালো লাগছে। দিনটি জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
কাজল পাড়ে ২০১৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলেও তখন সংবর্ধনা পাননি। তিনি বলেন, ‘আমি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার এনায়েতপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০১৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলাম। কিন্তু তখন আমি এমন সংবর্ধনা পাওয়ার সুযোগ পাইনি। কিন্তু আজ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে আমার খুব ভালো লাগছে।’
‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগান নিয়ে সারা দেশে ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ৬৪ জেলায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্বে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহিলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বিপ্লব কুমার মজুমদার, নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশন আরা, রাজশাহীতে প্রথম আলোর প্রতিবেদক আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ, আইপিডিসি-প্রথম আলো প্রিয় শিক্ষক সম্মাননাপ্রাপ্ত আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন এবং কৃতী শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান।
"আমি লেখাপড়া করে বড় হতে চাই। বাবা-মায়ের দুঃখ দূর করতে চাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চাঁপাইনবাবগঞ্জ (শহীদ সাটু অডিটোরিয়াম), নওগাঁর পোরশা উপজেলা (ঘাটনগর), রাজশাহী (রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তিথি মালি, কাজল পাড়ে, বিপ্লব কুমার মজুমদার, রওশন আরা, আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ, মো. আলাউদ্দিন, জাহিদ হাসান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: জিপিএ-৫ (৪ বার), ১৮তম (বিজেএস পরীক্ষা), ৬৪ জেলা (সংবর্ধনা অনুষ্ঠান), ১০ টা (সকাল সাড়ে আটটা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!