📌 যশোর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের যমজ বোন সাবিহা ও সামিহা রহমান জিপিএ-৫ পেয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলে বন্ধুদের সাথে দেখা পেয়ে উচ্ছ্বসিত হন। শিক্ষকদের উদ্বোধনী বক্তব্য ও সাফল্যের গল্পে অনুপ্রাণিত হন শিক্ষার্থীরা
যশোর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যমজ বোন সাবিহা ও সামিহা রহমানের গল্পে মেতে উঠলো বন্ধুদের সাথে দেখা পেয়ে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলে তারা একসাথে বান্ধবীদের সাথে আড্ডা দিতে শুরু করলেন এবং স্মৃতিচারণে মেতে উঠলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যশোর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের যমজ বোন সাবিহা ও সামিহা রহমান জিপিএ-৫ পেয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন এবং বন্ধুদের সাথে দেখা পেয়ে উচ্ছ্বসিত হন
- 📌 সামিহা বলেন, ‘বড় বোনদের দেখে আমরাও স্বপ্ন দেখতাম কবে সংবর্ধনা পাব। অবশেষে আমরা দুই বোন একসঙ্গেই পরীক্ষা দিয়েছি, জিপিএ-৫ পেয়েছি’
- 📌 সাবিহা বলেন, ‘প্রাথমিকে আমরা যশোর শহরের বড় মিশন স্কুলে পড়তাম, পরে একসঙ্গে মাধ্যমিক পাস করলাম, কিন্তু কলেজ আলাদা হয়ে গেল’
- 📌 অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগে থেকে একই পোশাক পরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা বান্ধবীরা মজা করে মন্তব্য করেন
- 📌 ৬৪ জেলায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, যা ‘শিখো’ ও প্রথম আলোর যৌথ উদ্যোগ
- 📌 যশোর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহসান হাবীব পারভেজ বলেন, ‘জিপিএ-৫ পাওয়াটা শেষ কথা নয়, সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে’
- 📌 যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আহমদ ফেরদৌস জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ফল ভালো করলে দায়িত্ববোধও বেড়ে যায়’
📰 বিস্তারিত
যশোর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত শিখো–প্রথম আলো জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যমজ বোন সাবিহা ও সামিহা রহমানের উপস্থিতি ছিল বিশেষ। অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে পৌঁছানোর সাথে সাথে তারা বান্ধবীদের সাথে আড্ডা দিতে শুরু করলেন। সামিহা বলেন, ‘প্রতিবছর কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়, আমরা জানতাম। বড় বোনদের দেখে আমরাও স্বপ্ন দেখতাম কবে সংবর্ধনা পাব। অবশেষে আমরা দুই বোন একসঙ্গে পরীক্ষা দিয়েছি, জিপিএ–৫ পেয়েছি। অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে অনেক দিন পর আমাদের অন্য বান্ধবীদের দেখা পেয়েছি। এটা সত্যিই এক অন্য রকম অনুভূতি!’
সাবিহা বলেন, ‘প্রাথমিকে আমরা যশোর শহরের বড় মিশন স্কুলে পড়তাম। এরপর আমরা মাধ্যমিকে সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। একসঙ্গে পাস করলাম, কিন্তু ফলের কারণে একজন যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজে, আরেকজন যশোর সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তি হয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুজনই একই রকম পোশাক পরি, একই সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করি, একই সঙ্গে ঘুমাই। অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আমরা আগে থেকে কী পোশাক পরব, তা ঠিক করে রাখি। সেভাবে আমরা একই রকম পোশাক পরে এসেছি।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক আহসান হাবীব পারভেজ বলেন, ‘কয়েক বছর আগে একটি মেয়ে অঝোরে কাঁদছিল। আমি তাকে সান্ত্বনা দিতে গেলে মেয়েটি বলেছিল, “স্যার, ভালো রেজাল্ট করব এমন স্বপ্ন ছিল বাবা–মায়ের। কিন্তু আমি সেটা পারলাম না।” মেয়েটি অল্পের জন্য জিপিএ–৫ পায়নি। তারপর মেয়েটি কান্না করতে করতে বাড়ি চলে গেল। কিন্তু ঠিক দুই বছর আগে সে আবার ক্যাম্পাসে এসে আমার সঙ্গে দেখা করল। তখন সে জানিয়েছিল, সে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।’ তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘এসএসসিতে জিপিএ–৫ পাওয়াটা শেষ কথা নয়। সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।’
অনুষ্ঠানে যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আহমদ ফেরদৌস জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ফল ভালো করলে দায়িত্ববোধও বেড়ে যায়—আমাকে আরও ভালো করতে হবে। ভালো জায়গায় যেতে হবে। সফলতার দুইটা দিক আছে। একটি হলো নিজেকে ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়া। আরেকটি হলো ভালো মানুষ হিসেবে সফলতা অর্জন করা।’
"স্যার, ভালো রেজাল্ট করব এমন স্বপ্ন ছিল বাবা–মায়ের। কিন্তু আমি সেটা পারলাম না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যশোর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, যশোর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাবিহা ও সামিহা রহমান, আহসান হাবীব পারভেজ, আহমদ ফেরদৌস জাহাঙ্গীর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৪ জেলা, জিপিএ-৫ (সাবিহা ও সামিহা), ১০ টা (সকাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!