📌 জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের হেনস্তা ঘটনার তদন্ত কমিটি পাঁচ মাস পরও বিচার শেষ করতে পারেনি। সাংবাদিক সমিতি ও ছাত্র সংগঠন দাবি করছে দ্রুত বিচার ও দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সাংবাদিকদের হেনস্তা ঘটনার তদন্ত কমিটি পাঁচ মাস পরও বিচার শেষ করতে ব্যর্থ হয়েছে। গত ১৭ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণচেষ্টা অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের হেনস্তা ও গালাগালির ঘটনায় গঠিত সাতদিনের তদন্ত কমিটি এখনও প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৭ মে জাবিতে সাংবাদিকদের হেনস্তা ও মারমুখী আচরণের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি পাঁচ মাস পরও বিচার শেষ করতে ব্যর্থ
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৮ মে তদন্ত কমিটি গঠন করে, কিন্তু ২০-২৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আশা করা হচ্ছে
- 📌 জাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম তাওহীদ বলেছেন, “সাত দিনের তদন্ত কমিটি পাঁচ মাসে বিচার করতে পারেনি, যা স্বাধীন সাংবাদিকতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে”
- 📌 সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মাহ্ আলম দাবি করেছেন, “সাংবাদিকদের হেনস্তার ঘটনায় তদন্ত কমিটি প্রহসন করছে, বর্তমানে দুটি হেনস্তা ঘটনা রয়েছে”
- 📌 তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোঃ শামছুল আলম জানিয়েছেন, “ব্যস্ততার কারণে বিলম্ব হলেও ২০-২৫ অক্টোবর মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করছি”
📰 বিস্তারিত
গত ১৭ মে সন্ধ্যায় জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার আন্দোলনের সময় সাংবাদিকরা হেনস্তার শিকার হন। তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, গালাগালি ও মারমুখী আচরণের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৮ মে তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু পাঁচ মাস পরও তদন্ত শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।
জাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম তাওহীদ বলেন, “গত ১৭ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, গালিগালাজ এবং মারমুখী পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল। তার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও ওই ঘটনার কোন বিচার হয়নি। সাত দিনের তদন্ত কমিটি কীভাবে পাঁচ মাসে বিচার করতে পারেনা সেটা আমি বুঝতে পারিনা।” তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের বিচারহীনতার সংস্কৃতিই আমাদের স্বাধীন সাংবাদিকতাকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অতিদ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”
সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মাহ্ আলম জানান, “সাংবাদিকদের হেনস্তার ঘটনাটি পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কমিটি বিচারের নামে আমাদের সঙ্গে প্রহসন করছে। বর্তমানে সাংবাদিকদের আক্রমণের শিকার হয়ে ভুক্তভোগী হওয়ার দুটি ঘটনা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো, পাঁচ মাস আগে প্রক্টর অফিসের সামনে শিক্ষার্থীদের মারমুখী আচরণ ও হেনস্তার ঘটনা অন্যতম।” তিনি দাবি করেন, “তদন্ত কমিটি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আমাদের আহ্বান, সাত কর্মদিবস যেন সাত মাসে পরিণত না হয়। আমরা আশা করি, তদন্ত কমিটি দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।”
তদন্ত শেষ করতে দীর্ঘ কালক্ষেপণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোঃ শামছুল আলম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথেই দেখা হচ্ছে। নানাবিধ ব্যস্ততার কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার চেষ্টা করছি। আশা করছি চলতি মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।”
"গত ১৭ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, গালিগালাজ এবং মারমুখী পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল তার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও ওই ঘটনার কোন বিচার হয়নি। সাত দিনের তদন্ত কমিটি কীভাবে পাঁচ মাসে বিচার করতে পারেনা সেটা আমি বুঝতে পারিনা।"
"এই ধরনের বিচারহীনতার সংস্কৃতিই আমাদের স্বাধীন সাংবাদিকতাকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অতিদ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি), ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এস এম তাওহীদ (জাবি প্রেসক্লাব সভাপতি), মাহ্ আলম (সাংবাদিক সমিতি সভাপতি), অধ্যাপক ডা. মোঃ শামছুল আলম (তদন্ত কমিটি সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ মাস, ১৭ মে, ১৮ মে, ২০-২৫ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!