📌 জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী মুহাইমিনুল ইসলাম নিখোঁজ হয়ে গেছেন। তাঁর কক্ষে সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। সহপাঠীরা বিভাগে তালা দিয়ে ৮ দফা দাবি তুলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী মুহাইমিনুল ইসলাম (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ, ৫০ ব্যাচ) রোববার বিকেলে নিখোঁজ হয়ে গেছেন। সর্বশেষ তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসি বাসে উঠতে দেখা গিয়েছিল। নিখোঁজের পর তাঁর কক্ষে সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। সহপাঠীরা বিভাগে তালা দিয়ে ৮ দফা দাবি তুলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে এবং পুলিশকে জড়িত করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাবি ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী মুহাইমিনুল ইসলাম (৫০ ব্যাচ) রোববার বিকেল ৩টা ৮ মিনিটে বিআরটিসি বাসে উঠে নিখোঁজ হয়ে গেছেন। সর্বশেষ তাঁকে মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে দেখা গিয়েছিল।
- 📌 তাঁর কক্ষে হাতে লেখা সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে, যেখানে হতাশা ও মানসিক চাপের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
- 📌 সহপাঠী মিমের কথায়, নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর তাঁর কক্ষে ৬টার দিকে চিঠি পাওয়া যায়। সহপাঠীরা মিলে অনুসন্ধান করছেন।
- 📌 মুহাইমিনের সাথে কোনো বিরোধ না থাকলেও, জিএস-৪০৪ কোর্সে ফেল পাওয়ার কারণে রিটেক পরীক্ষা এবং মাস্টার্স ক্লাসের চাপ তাকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
- 📌 বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. হুসাইন মো. সায়েমের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাভার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে এবং ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করেছে।
- 📌 সহপাঠীরা বিভাগে তালা দিয়ে ৮ দফা দাবি তুলেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: মুহাইমিনুলের সন্ধান, তদন্ত কমিটি গঠন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টা পদত্যাগ, কোর্সের পুনর্মূল্যায়ন, শিক্ষকদের দায়িত্বপালন নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা।
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম বলেছেন, পুলিশ তাঁর ফোনের অবস্থান শনাক্ত করেছে এবং অনুসন্ধান চলছে।
📰 বিস্তারিত
জাবি ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী মুহাইমিনুল ইসলাম (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ, ৫০ ব্যাচ) রোববার বিকেল ৩টা ৮ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে থেকে ঢাকাগামী বিআরটিসি বাসে উঠে নিখোঁজ হয়ে গেছেন। সর্বশেষ তাঁকে হলের সামনে থেকে উঠতে দেখা গিয়েছিল। নিখোঁজের পর তাঁর কক্ষে হাতে লেখা সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। সহপাঠী মিমের কথায়, সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর তাঁর কক্ষে চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিগুলোতে হতাশা, পারিবারিক ও শিক্ষাজীবনের বিষয় এবং নিজের জীবন নিয়ে চরম হতাশার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
মুহাইমিনের সহপাঠী মিম বলেন, “আমি এ ধরনের কোনো সমস্যার কথা জানি না। তবে তিনি চতুর্থ বর্ষের জিএস-৪০৪ কোর্সে ফেল পেয়েছিলেন। এ কারণে চলতি বছর ওই কোর্সের রিটেক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি তিনি প্রায় ছয় মাস ধরে মাস্টার্সের ক্লাস করছিলেন। বিষয়টি তাকে মানসিকভাবে কতটা প্রভাবিত করেছে, তা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাভার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে এবং ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনকে বিষয়টি জরুরিভাবে বিবেচনার জন্য অবহিত করেছে। পাশাপাশি সুইসাইড নোটে উল্লেখিত বিভাগীয় অবহেলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সহপাঠীরা বিভাগে তালা দিয়ে ৮ দফা দাবি তুলেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
"মোহাইমিনুলকে খুঁজে বের করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ১২ ঘণ্টার মধ্যে অনুসন্ধান কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হবে।"
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভাগীয় চেয়ারম্যান হোসাইন মো. সায়েম এবং শিক্ষার্থী কল্যাণ উপদেষ্টা আবু সাদাত মো. সায়েমের পদত্যাগ, জিএস-৪০৪ কোর্সের পুনর্মূল্যায়ন, শিক্ষকদের দায়িত্বপালন নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম বলেছেন, “আমরা বিষয়টি জানার পরপরই থানায় জিডি করেছি। পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তাঁর মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে খুঁজে বের করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাজী মুহাইমিনুল ইসলাম (ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগ, ৫০ ব্যাচ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০২০-২১ (শিক্ষাবর্ষ), ৫০ (ব্যাচ), ৩:০৮ (টার), ১১০ (কক্ষ নম্বর), ৮ (দফা দাবি), ১২ (ঘণ্টা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!