📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে উদ্ভূত মানবাধিকার কর্মী পরিবারের মেয়ে ইসরাত জাহান সিদ্দিকী আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লাভাটনিক স্কুল অব গভর্নমেন্টে মাস্টার অব পাবলিক পলিসি প্রোগ্রামে ভর্তি হন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম ব্যক্তি যিনি এই প্রোগ্রামে বৃত্তি পেয়েছেন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একজন সাধারণ পরিবারের মেয়ে থেকে আইনজীবী হয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি পেয়ে পাবলিক পলিসি মাস্টার্সে ভর্তি হন ইসরাত জাহান সিদ্দিকী। মানবাধিকার কর্মী মা-বাবার পরিবেশে বেড়ে ওঠা ইসরাতের জীবনের লক্ষ্য ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এখন তিনি ব্রিটেনের প্রestiigious অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য পাড়ি দিচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে উদ্ভূত আইনজীবী ইসরাত জাহান সিদ্দিকী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লাভাটনিক স্কুল অব গভর্নমেন্টে মাস্টার অব পাবলিক পলিসি (এমপিপি) প্রোগ্রামে ভর্তি হন বৃত্তি নিয়ে
- 📌 মানবাধিকার কর্মী মা-বাবার পরিবেশে বেড়ে ওঠা ইসরাতের স্বপ্ন ছিল আইনজীবী হওয়া, যা তিনি সফলভাবে পূরণ করেছেন
- 📌 ২০২৩ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরই তিনি অক্সফোর্ডে পড়ার জন্য প্রস্তুতি নেন
- 📌 ইসরাতের মতে, পাবলিক পলিসি মাস্টার্স প্রোগ্রামে আইন, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সামাজিক বাস্তবতার সংমিশ্রণে জননীতির প্রশ্নগুলো অধ্যয়ন করার সুযোগ রয়েছে
- 📌 ২০২৬ সালের ১১ মার্চ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসরাতের জন্য আসে বহুপ্রতীক্ষিত অফার লেটার
📰 বিস্তারিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে উদ্ভূত মানবাধিকার কর্মী পরিবারের মেয়ে ইসরাত জাহান সিদ্দিকী আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য পাড়ি দিচ্ছেন। তিনি ব্রিটেনের প্রestiigious অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লাভাটনিক স্কুল অব গভর্নমেন্টে মাস্টার অব পাবলিক পলিসি (এমপিপি) প্রোগ্রামে ভর্তি হন বৃত্তি নিয়ে। ইসরাতের পড়াশোনা ও কর্মজীবনের পথে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রতি তার আগ্রহই ছিল মূল চালিকাশক্তি।
ইসরাতের বেড়ে ওঠার পরিবেশ ছিল নানা রঙে ভরা। মা-বাবা দুজনেই মানবাধিকারকর্মী এবং উন্নয়ন ক্ষেত্রেও কাজ করতেন। ছোট থেকেই তিনি মানুষের অধিকার, বঞ্চনা এবং জীবনযাপনের সমস্যার সঙ্গে পরিচিত হন। শৈশবে বাড়িতে বসত গানের আসর, যেখানে লোকগানের টানে বহু মানুষ আসত। এই পরিবেশ তাকে শিখিয়েছে যে, সমাজ বুঝতে হলে মানুষের কাছাকাছি যেতে হয়।
ইসরাতের শিক্ষাজীবনের শুরু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ক্রিসেন্ট কিন্ডারগার্টেন থেকে। পরে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মডেল গার্লস হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। মা চাইতেন তিনি চিকিৎসক হবেন, কিন্তু ইসরাতের স্বপ্ন ছিল আইনজীবী হওয়া। সেই আগ্রহ থেকে তিনি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগে ভর্তি হন।
ইসরাতের পড়াশোনা ও কর্মজীবনে তিনি শুধু শ্রেণিকক্ষেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। শিশু ও নারীর অধিকার নিয়ে তিনি ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন। তিনি ন্যাশনাল চিলড্রেনস টাস্কফোর্সের জেলা কমিটির সভাপতি, উই ক্যান বাংলাদেশের চেঞ্জমেকার এবং স্টুডেন্ট চেঞ্জমেকার ফোরামের জেলা আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়েও তিনি সক্রিয় ছিলেন বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠনে। সেমিনার, আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব করেছেন নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের।
২০১৮ সালে এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের সময় তিনি ‘ম্যাগনা কাম লাউড’ সম্মাননা পান। ২০১৯ সালে তিনি এলএলএম সম্পন্ন করেন এবং ২০২৩ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তিনি মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে অংশ নিয়েছেন ‘গণহত্যা, ন্যায়বিচার ও দায়মুক্তির প্রশ্ন’ শীর্ষক তৃতীয় উইন্টার স্কুল, হিউম্যান রাইটস সামার স্কুল এবং বিয়ন্ড রিফিউজ সামার স্কুলে।
অক্সফোর্ডের এমপিপি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য ইসরাতের বিশ্বাস ছিল, ভিন্ন দেশ, ভিন্ন অভিজ্ঞতা এবং ভিন্ন চিন্তার মানুষের সঙ্গে শেখার সুযোগ নিজের পরিচিত ভাবনার জগৎ আরও প্রসারিত করবে। তিনি জানান, “এখানে আইন, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে জননীতির প্রশ্নগুলো বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন পেশা ও অভিজ্ঞতা থেকে আসা মানুষের সঙ্গে একই শ্রেণিকক্ষে শেখার সুযোগ রয়েছে।”
"পড়াশোনা, সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড ও কাজের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং দায়িত্বশীলতার শিক্ষা পেয়েছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রাহ্মণবাড়িয়া (বেড়ে ওঠা), অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় (ব্রিটেন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইসরাত জাহান সিদ্দিকী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ মার্চ (অফার লেটার পাওয়ার তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!