📌 ইসলামি বইমেলা-২০২৬-এ জবি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ খাইরুল ইসলামের 'ইসলামী ব্যাংকিং' ও চবি শিক্ষক ড. আহমদ আলীর 'প্রচলিত আইনের ইসলামিকরণ' বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের গুরুত্ব ও আইনের ইসলামিকরণ নিয়ে আলোচনা হয়
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের পূর্ব গেটে ইসলামি বইমেলা-২০২৬-এর আওতায় দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠানে জবি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ খাইরুল ইসলামের 'ইসলামী ব্যাংকিং' ও চবি শিক্ষক ড. আহমদ আলীর 'প্রচলিত আইনের ইসলামিকরণ: পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ' বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২১ সেপ্টেম্বর বায়তুল মোকাররম মসজিদের পূর্ব গেটে অনুষ্ঠিত হয় ইসলামি বইমেলা-২০২৬-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান
- 📌 জবি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ খাইরুল ইসলাম রচিত 'ইসলামী ব্যাংকিং' বইয়ে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের ইতিহাস, বিকাশ ও শরিয়াহ-অনুযায়ী ব্যাংকিং ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে
- 📌 চবি শিক্ষক ড. আহমদ আলী রচিত 'প্রচলিত আইনের ইসলামিকরণ' বইয়ে বাংলাদেশের আইন ব্যবস্থায় ইসলামী মূল্যবোধের সংযোজন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে
- 📌 অনুষ্ঠানে বলা হয়, বাংলাদেশে ২৫ শতাংশ ব্যাংকিং শিল্প ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের আওতাভুক্ত, কিন্তু ৭৫ শতাংশ লেনদেন সুদভিত্তিক
- 📌 ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী বলেন, প্রচলিত আইনের ইসলামিকরণ ছাড়া অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব নয়
- 📌 জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. রঈস উদ্দিন বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং ও অনুশাসন নিয়ে মানুষকে সচেতন করার দায়িত্ব পণ্ডিতদের
📰 বিস্তারিত
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে জবি শিক্ষক ও 'ইসলামী ব্যাংকিং' বইয়ের লেখক ড. মুহাম্মদ খাইরুল ইসলাম বলেন, "বাংলাদেশে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের যাত্রা শুরু হয়েছে ১৯৮৩ সালে। বর্তমানে দেশের মোট ব্যাংকিং শিল্পের প্রায় ২৫ শতাংশ ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের আওতাভুক্ত। তবে ৯০ শতাংশ মুসলিমের দেশে এখনো প্রায় ৭৫ শতাংশ ব্যাংকিং লেনদেন প্রচলিত বা সুদভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত।" তিনি বলেন, "ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের মূল বিষয় হলো কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও নিয়ম মেনে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা। এই বইয়ে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের উৎপত্তি, বিকাশ, বিনিয়োগ পদ্ধতি, শরিয়াহ পরিপালন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এর ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে।"
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী বলেন, "অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন করতে হলে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে প্রচলিত আইনের ইসলামিকরণ করতে হবে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের অনেক ক্ষেত্রেই ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে।" তিনি বলেন, "সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থা সমাজে সম্পদের সুষম আবর্তন বাধাগ্রস্ত করে এবং বঞ্চনা তৈরি করে। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে হলে সুদভিত্তিক অর্থনীতি থেকে বের হয়ে ইসলামী নীতি অনুসরণ করতে হবে।"
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. রঈস উদ্দিন বলেন, "৯০ শতাংশ মুসলমানের বাংলাদেশে স্বাধীনতার এত বছর পরও ইসলামী ব্যাংকিং ও ইসলামী অনুশাসন নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে হচ্ছে। ইসলামী ব্যাংকিংয়ের বিরোধিতা এবং ইসলাম নিয়ে বিতর্কের কারণ আমাদের খুঁজে দেখতে হবে। সাধারণ মানুষ যারা ইসলামী অনুশাসন পালন করতে চান, তাদের বিভ্রান্ত না করে ইসলামী জগতের পণ্ডিতদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।"
অনুষ্ঠানে ভাইস চেয়ারম্যান, বিআইএল আরসি জনাব নুরুল ইসলাম খলিফা সভাপতিত্ব করেন। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান (ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর), আলোচক মুঃ ফরীদ উদ্দীন আহমাদ (বিআইএল আরসি উপদেষ্টা) ও ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র এডভোকেট)। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতা উপস্থিত ছিলেন।
"বাংলাদেশে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের যাত্রা শুরু হয়েছে ১৯৮৩ সালে। বর্তমানে দেশের মোট ব্যাংকিং শিল্পের প্রায় ২৫ শতাংশ ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের আওতাভুক্ত। তবে ৯০ শতাংশ মুসলিমের দেশে এখনো প্রায় ৭৫ শতাংশ ব্যাংকিং লেনদেন প্রচলিত বা সুদভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইসলামের আদর্শের প্রতিফলন কতটা জরুরি, তা কোরআন-সুন্নাহর আলোকে আমাদের অনুধাবন করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বায়তুল মোকাররম মসজিদের পূর্ব গেট, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. মুহাম্মদ খাইরুল ইসলাম, ড. আহমদ আলী, মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, ড. রঈস উদ্দিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১ সেপ্টেম্বর, ২৫%, ৯০%, ৭৫%
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!