📌 ১৪তম আঞ্চলিক স্কাউট সমাবেশে বিস্কুট কারখানায় ঘুরে দেখা গেল কীভাবে মচমচে বিস্কুট তৈরি হয়। বিস্কুটের ইতিহাস থেকে শুরু করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিম বিস্কুটের রেকর্ড পর্যন্ত বিস্কুটের অদ্ভুত গল্প জানুন
১৪তম আঞ্চলিক স্কাউট সমাবেশে গাজীপুরের বাহাদুরপুরে রোভার স্কাউট প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অংশগ্রহণকারী ‘আমরা’ একদিন বিস্কুট কারখানায় ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হলো। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় বিস্কুটের মিষ্টি গন্ধের সাথে সাথে কারখানার ভেতরে বিস্কুট তৈরির ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া দেখে ‘আমাদের’ সবাইকে খেতে দিল বিস্কুট। সেই একদিনের অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে বিস্কুটের ইতিহাস, বিভিন্ন ধরনের বিস্কুট এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিম বিস্কুটের রেকর্ড পর্যন্ত বিস্কুটের অদ্ভুত গল্প জানতে পারা যাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১৮ সালে গাজীপুরের বাহাদুরপুরে স্কাউট ক্যাম্পে বিস্কুট কারখানায় ঘুরে দেখা গেল কীভাবে মচমচে বিস্কুট তৈরি হয়
- 📌 ‘বিস্কুট’ শব্দটি এসেছে লাতিন ‘bis’ (দুবার) ও ‘coquere’ (সেঁকা) থেকে, অর্থ ‘দুইবার সেঁকা খাবার’
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রে ‘বিস্কুট’ বলতে বোঝায় নরম পাউরুটি, আর আমাদের দেশে শক্ত সেঁকা রুটি হিসেবে পরিচিত
- 📌 বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিম বিস্কুটের ওজন ছিল ৮৩.৪৫ কেজি, যা ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর কোস্টারিকায় তৈরি হয়েছিল
- 📌 নব্যপ্রস্তর যুগে মানুষ গরম পাথরের ওপর শস্যের মণ্ড সেঁকে খেত, যা বিস্কুটের পূর্বসূরি হতে পারে
📰 বিস্তারিত
২০১৮ সালের ১৪তম আঞ্চলিক স্কাউট সমাবেশে গাজীপুরের বাহাদুরপুরে রোভার স্কাউট প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অংশগ্রহণকারী ‘আমরা’ একদিন বিস্কুট কারখানায় ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হলো। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় বিস্কুটের মিষ্টি গন্ধের সাথে সাথে কারখানার ভেতরে বিস্কুট তৈরির ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া দেখে ‘আমাদের’ সবাইকে খেতে দিল বিস্কুট। সেই একদিনের অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে বিস্কুটের ইতিহাস, বিভিন্ন ধরনের বিস্কুট এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিম বিস্কুটের রেকর্ড পর্যন্ত বিস্কুটের অদ্ভুত গল্প জানতে পারা যাচ্ছে।
বিস্কুট মূলত ময়দা দিয়ে তৈরি একধরনের শক্ত, চ্যাপটা খাবার। সাধারণত ইস্ট ছাড়া তৈরি করা হয় এবং বেশিরভাগ বিস্কুটই মিষ্টি স্বাদের। এগুলো তৈরিতে চিনি, চকলেট, আইসিং, জ্যাম বা বিভিন্ন ফলের ফ্লেভার ব্যবহার করা হয়। আবার কিছু বিস্কুট নোনতা স্বাদের থাকে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের বিস্কুট পাওয়া যায়, যার মধ্যে বিস্কোটি, স্যান্ডউইচ, ডাইজেস্টিভ, জিঞ্জার, সল্টি, বোরবন, ওটস কুকিজ, বেলা, টোস্ট, শর্টব্রেড, চকলেট চিপ কুকিজ, আনজাক ও স্পেকুলাস বিস্কুট উল্লেখযোগ্য।
বিস্কুট শব্দের উৎপত্তি পুরোনো ফরাসি শব্দ ‘বেসকুইট’ থেকে, যা লাতিন ‘bis’ (দুবার) ও ‘coquere’ (সেঁকা) শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। অর্থাৎ, বিস্কুট শব্দের মূল অর্থ হলো ‘দুইবার সেঁকা খাবার’। আগের দিনে বিস্কুট বানানোর সময় সত্যিই দুটি ধাপে সেঁকা হতো। প্রথমে ওভেনে ভালোভাবে বেক করা হতো, তারপর কম আঁচে আবার ওভেনে রেখে শুকানো হতো। ব্রিটিশ শাসনের সময় এই উপমহাদেশে ইংরেজি ‘বিস্কুট’ শব্দটি চালু হয়। ইংরেজদের চায়ের সঙ্গে বিস্কুট খাওয়ার অভ্যাস এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
বিস্কুটের ইতিহাস অনেক পুরোনো। নব্যপ্রস্তর যুগে মানুষ গরম পাথরের ওপর শস্যের মণ্ড ছড়িয়ে সেঁকে নিত। পরবর্তীকালে রোমানদের সময়ে একধরনের বিস্কুট তৈরি শুরু হয়, যা দেখতে অনেকটা আজকের রাস্ক বিস্কুটের মতো। সহজে নষ্ট হতো না বলে রোমান সৈন্য ও ভ্রমণকারীদের কাছে এই খাবার ছিল বেশ জনপ্রিয়। মধ্যযুগীয় বিস্কুট ও ওয়েফার চতুর্দশ শতাব্দীর দিকে ইংরেজি ভাষায় ‘বিস্কুট’ শব্দটির ব্যবহার বাড়তে শুরু করে। এ সময়ে মিষ্টি ও নোনতা দুই ধরনের বিস্কুটই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
"বিস্কুটের একেকটি পাশ পুরোপুরি সেঁকত ১১ টা মিনিট, তারপর ২০ মিনিটের জন্য ১২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ওভেনে রাখা হয়। এরপর ১৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় আরেকবার ১২০ মিনিটের জন্য সেঁকা হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজীপুরের বাহাদুরপুরে রোভার স্কাউট প্রশিক্ষণকেন্দ্র, কোস্টারিকার সান হোসে
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্কাউট ক্যাম্পের অংশগ্রহণকারী ‘আমরা’
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৩.৪৫ কেজি (বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিম বিস্কুটের ওজন), ৬ সেপ্টেম্বর (রেকর্ডের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!