📌 খুলনার কয়রা উপজেলার ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিন্দু শিক্ষকদের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা পড়ানোর কারণে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষা অপূর্ণ হচ্ছে। অভিভাবকরা দাবি করছেন, আরবি সূরা ও কেরাত শেখানোর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, ধর্মের ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের কোনো নিয়ম নেই
খুলনার কয়রা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে হিন্দু শিক্ষকদের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা পড়ানোর কারণে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষা অপূর্ণ হচ্ছে। স্থানীয় অভিভাবকরা দাবি করছেন, আরবি সূরা ও কেরাত শেখানোর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। উপজেলায় ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোনো মুসলিম শিক্ষক নেই, যেখানে অধিকাংশ শিক্ষার্থী মুসলিম।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খুলনার কয়রা উপজেলার ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিন্দু শিক্ষকদের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা পড়ানো হচ্ছে, যেখানে অধিকাংশ শিক্ষার্থী মুসলিম।
- 📌 গড়িয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪৩ জন শিক্ষার্থী (মুসলিম ৮৭ জন) এবং বাবুরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ জন শিক্ষক সকলেই হিন্দু ধর্মাবলম্বী।
- 📌 দক্ষিণ বেদকাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১৯ বছর ধরে কোনো মুসলিম শিক্ষক নেই।
- 📌 অভিভাবকরা অভিযোগ করছেন, হিন্দু শিক্ষকদের পক্ষে আরবি সূরা ও কেরাত শুদ্ধভাবে শেখানো সম্ভব হচ্ছে না।
- 📌 উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, সরকারি শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালায় ধর্মের ভিত্তিতে শিক্ষক পদায়নের নিয়ম নেই।
📰 বিস্তারিত
খুলনার কয়রা উপজেলার গড়িয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, এর মধ্যে ৮৭ জন মুসলিম। এই বিদ্যালয়ে ছয়জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও সকলেই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। ফলে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বই পড়ানোর দায়িত্বও হিন্দু শিক্ষকদের উপর ন্যস্ত। অভিভাবক মো. সাহেব আলী সানা বলেন, শিক্ষকদের পক্ষে আরবি সূরা ও কেরাত শুদ্ধভাবে শেখানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে শিশুদের বুনিয়াদি ধর্মীয় শিক্ষা অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে।
বাবুরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও পাঁচজন শিক্ষক সকলেই হিন্দু। এখানেও ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা পড়ানো হচ্ছে হিন্দু শিক্ষকদের দ্বারা। দক্ষিণ বেদকাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১৯ বছর ধরে কোনো মুসলিম শিক্ষক নেই। উপজেলার ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই এই সমস্যা বিদ্যমান।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার কর্মকার বলেন, সরকারি শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালায় ধর্মের ভিত্তিতে শিক্ষক পদায়নের নিয়ম নেই। ফলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আলাদাভাবে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেয় না। তিনি বলেন, নীতিমালার আলোকে শিক্ষক দিয়ে থাকি। এবিষয়ে অধিদপ্তরে আগেই জানানো হয়েছে। আলাদাভাবে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিলে তখন এ সমস্যা সমাধান হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
"ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে নতুন শিক্ষকরা এখানে পদায়ন পেলেও দ্রুত বদলি হয়ে চলে যান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আমি আশা করি।"
— গড়িয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজন বিহারী বর্মন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনার কয়রা উপজেলা (গড়িয়াবাড়ী, বাবুরাবাদ, দক্ষিণ বেদকাশী সহ ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অভিভাবক মো. সাহেব আলী সানা, প্রধান শিক্ষক বিজন বিহারী বর্মন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার কর্মকার, খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ মো. নূরুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০টি বিদ্যালয়, ১৪৩ জন শিক্ষার্থী (মুসলিম ৮৭ জন), ৫ জন শিক্ষক, ১৯ বছর, ৫ কিলোমিটার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!