📌 সাতক্ষীরার নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল মালেক গাজী হাইকোর্টের আদেশে দায়িত্বে ফিরলেও রাতের বেলায় কক্ষের তালা পরিবর্তনের কারণে নিজের কক্ষে প্রবেশ করতে পারছেন না। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিন দিনে দু'বার তালা পরিবর্তন হয়েছে, যা বিদ্যালয়ে নতুন বিরোধ সৃষ্টি করেছে
সাতক্ষীরা: হাইকোর্টের আদেশে দায়িত্বে ফিরলেও নিজের কক্ষে প্রবেশ করতে পারছেন না নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল মালেক গাজী। রাতের বেলায় কক্ষের তালা পরিবর্তনের কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন। এই ঘটনায় বিদ্যালয়ে নতুন বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **হাইকোর্টের আদেশে দায়িত্বে ফিরলেও** সাতক্ষীরার নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল মালেক গাজী **রাতের বেলায় কক্ষের তালা পরিবর্তনের কারণে** নিজের কক্ষে প্রবেশ করতে পারছেন না।
- 📌 **মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায়** হাইকোর্টের আদেশের কপি নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে দায়িত্ব পালন করেন তিনি, কিন্তু **রাতে তালা পরিবর্তন** হওয়ায় **বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পর্যন্ত** নিজের কক্ষে প্রবেশ করতে পারেননি।
- 📌 **প্রধান শিক্ষকের দাবি**, রাতে তালা পরিবর্তন করা হয়েছে **স্বয়ংক্রিয়ভাবে** না, বরং **কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা কমিটি** কর্তৃক। তিনি অভিযোগ করেন, **কক্ষের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাগজপত্র ও আদালতের নথি** রয়েছে।
- 📌 **সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. সেলিমুল ইসলামের বক্তব্য**, **সভাপতির নির্দেশে** তালা পরিবর্তন করা হয়েছে এবং **প্রধান শিক্ষককে সভাপতির সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি সমাধান** করতে বলা হয়েছে।
- 📌 **শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর কবিরের প্রশ্ন**, রাতে কেন তালা পরিবর্তন করা হয়েছে? তিনি বলেন, **প্রধান শিক্ষক হাইকোর্টের আদেশে দায়িত্বে থাকার কথা জানিয়েছেন**, কিন্তু **কোনো চিঠি আসেনি** সভাপতির পদসংক্রান্ত বিষয়ে।
- 📌 **হাইকোর্টের আদেশে** ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দেওয়া নোটিশের কার্যকারিতা **তিন মাসের জন্য স্থগিত** করা হয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
সাতক্ষীরার নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল মালেক গাজী হাইকোর্টের আদেশে ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ে এসে দায়িত্ব পালনের উদ্যোগ নেন। সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. সেলিমুল ইসলামকে আদালতের কাগজপত্র দেখিয়ে তিনি নিজের কক্ষে প্রবেশ করেন এবং দাফতরিক কাজ শুরু করেন। শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। তবে, **মঙ্গলবার রাতে কক্ষের তালা পরিবর্তন** করা হয়, যা প্রধান শিক্ষককে চমকিত করে দেয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে তিনি আবারও তালা পরিবর্তন দেখতে পান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিদ্যালয়ে এসে তিনি আবারও নিজের কক্ষে প্রবেশ করতে পারেননি। প্রধান শিক্ষক বলেন, **"আমার কক্ষের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাগজপত্র ও আদালতের নথি রয়েছে। তালা পরিবর্তন করা হয়েছে এমনকি রাতে, যা আমার দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করছে।"**
সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. সেলিমুল ইসলামের দাবি, **"সভাপতির সঙ্গে কথা হয়েছে এবং তিনি চাবি চেয়েছেন। প্রধান শিক্ষক চাবি না দেওয়ায় পরে তালা পরিবর্তন করা হয়।"** তিনি আরও বলেন, **"রাতে তালা পরিবর্তনের সময় আমি ও কমিটির সদস্য করিব আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।"**
শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর কবির প্রশ্ন তুলে বলেন, **"কোনো শিক্ষক রাতের বেলায় এসে কেন তালা পরিবর্তন করবেন?"** তিনি জানান, **"প্রধান শিক্ষক হাইকোর্টের আদেশে দায়িত্বে থাকার কথা জানিয়ে তার দফতরে চিঠি দিয়েছেন, কিন্তু সভাপতির পদসংক্রান্ত বিষয়ে কোনো চিঠি আসেনি।"**
এই বিরোধের পেছনে রয়েছে **হাইকোর্টের আদেশ**। প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল মালেক গাজীর করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুল জারি করে। আদালতের আদেশে ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তার বিরুদ্ধে দেওয়া নোটিশের কার্যকারিতা **তিন মাসের জন্য স্থগিত** করা হয়েছিল।
"আমি হাইকোর্টের আদেশের কপি নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে দায়িত্ব পালন করেছি। এরপরও রাতে কক্ষের তালা পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে আমার দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।"
"সভাপতির নির্দেশে তালা পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষককে সভাপতির সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি সমাধান করতে বলা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আবদুল মালেক গাজী (প্রধান শিক্ষক), মো. সেলিমুল ইসলাম (সহকারী প্রধান শিক্ষক), আলমগীর কবির (জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা), কামরুজ্জামান (বিএনপি নেতা ও কমিটির সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার), ৩০ সেপ্টেম্বর (বুধবার), ১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার), ১৬ আগস্ট ২০২৬ (হাইকোর্টের আদেশের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!