📌 সিরাজগঞ্জের গুপিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খুরশিদ জিন্নাহর বিরুদ্ধে পাঁচজন সহকারি শিক্ষিকা নির্যাতন, অশালীন আচরণ ও কু-প্রস্তাবের অভিযোগ করেছেন। তারা দাবি করেছেন, প্রধান শিক্ষক ছাত্র-শিক্ষিকাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন এবং নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করছেন
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার গুপিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খুরশিদ জিন্নাহর বিরুদ্ধে পাঁচজন সহকারি শিক্ষিকা নির্যাতন ও অশালীন আচরণের অভিযোগ করেছেন। তারা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষিকাদের ওপর নৈতিক স্খলন, কুরুচিপূর্ণ আচরণ ও অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গুপিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খুরশিদ জিন্নাহর বিরুদ্ধে পাঁচজন সহকারি শিক্ষিকা নির্যাতন ও কু-প্রস্তাবের অভিযোগ করেছেন।
- 📌 তারা দাবি করেছেন, প্রধান শিক্ষক নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, বাজে ভাষায় কথা বলেন এবং কু-প্রস্তাব দেন।
- 📌 গত ৪ আগস্ট একটি শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে বমি করতে থাকলে প্রধান শিক্ষক অফিস থেকে বের হননি, কিন্তু শিক্ষিকাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে গালি দেন এবং মারতে আসেন।
- 📌 শিক্ষিকারা বলেছেন, প্রধান শিক্ষক ডিপিও, টিও ও এটিওকে নিজের পকেটে রাখেন এবং শোকজের হুমকি দেন।
- 📌 সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আপেল মাহমুদ জানান, তদন্ত শেষ হলেও রিপোর্ট লেখা হয়নি।
📰 বিস্তারিত
গত ১৩ সেপ্টেম্বর পাঁচজন সহকারি শিক্ষিকা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, প্রধান শিক্ষক খুরশিদ জিন্নাহ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষিকাদের ওপর নৈতিক স্খলন, কুরুচিপূর্ণ আচরণ ও অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। শিক্ষিকারা বলেছেন, প্রধান শিক্ষক ছাত্র-শিক্ষিকাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন এবং নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করছেন।
শিক্ষিকা শামীমা জাহান বলেছেন, গত ৪ আগস্ট একটি শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে বমি করতে থাকে। তবুও প্রধান শিক্ষক অফিসরুম থেকে বের হননি। তিনি যখন শিশুটিকে উদ্ধার করে শ্রেণীকক্ষে নিয়ে এসেছিলেন, তখন প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং তাকে বেয়াদব বলে গালি দেন। এক পর্যায়ে তিনি তাকে মারতে আসেন। অন্যান্য শিক্ষিকারা প্রতিবাদ করতে এলে তাদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করেন।
অন্যান্য শিক্ষিকারা যেমন আমিনা খাতুন সনি, ফারজানা ইয়াসমিন, মর্জিনা খাতুন, সুরাইয়া পারভীন বলেছেন, প্রধান শিক্ষকের আচরণ শিক্ষকসুলভ নয়। তারা দাবি করেছেন, গত ১১ বছর ধরে তার অত্যাচার সহ্য করে যাচ্ছেন। তারা আরও বলেছেন, প্রধান শিক্ষক ডিপিও, টিও ও এটিওকে নিজের পকেটে রাখেন এবং প্রায়ই শোকজের হুমকি দেন। প্রতিটি দিনই স্কুল শুরু হয় চিৎকার-চেচামেচি দিয়ে। শিক্ষিকাদের চরিত্র নিয়ে সব জায়গায় বাজে মন্তব্য করে এবং সুযোগ পেলেই গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেন।
এই অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক খুরশিদ জিন্নাহ সাংবাদিকদের কাছে উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং কোনো ভিডিও বক্তব্য দিতে রাজি হননি। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আপেল মাহমুদ জানান, ইতিমধ্যেই তদন্ত শেষ হয়েছে, তবে এখনও রিপোর্ট লেখা হয়নি। রিপোর্ট লেখা হলে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. সাহার উদ্দিন বলেছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
"গত ৪ আগস্ট একটি শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে বমি করতে থাকে। তবুও প্রধান শিক্ষক অফিসরুম থেকে বের হননি। আমি যখন শিশুটিকে নিয়ে ক্লাসরুমে ঢুকছিলাম, তখন ক্ষিপ্ত হয়ে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গুপিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধান শিক্ষক খুরশিদ জিন্নাহ, সহকারি শিক্ষিকা শামীমা জাহান, আমিনা খাতুন সনি, ফারজানা ইয়াসমিন, মর্জিনা খাতুন, সুরাইয়া পারভীন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: পাঁচজন সহকারি শিক্ষিকা, ১৩ সেপ্টেম্বর, ৪ আগস্ট, ২০ তারিখ, ১১ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!