📌 গোবিপ্রবিতে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী মানসিক চাপে পড়লেও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী কাউন্সেলিং সেবা নেই। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার চাপ, পারিবারিক সমস্যা ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই
গোবিপ্রবিতে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী মানসিক চাপের শিকার হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাদার কাউন্সেলিং সেবা নেই। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার চাপ, পরীক্ষার ফল, চাকরির প্রস্তুতি, পারিবারিক সমস্যা, আর্থিক সংকট ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য কোনো স্থায়ী কাউন্সেলিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারেনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গোবিপ্রবিতে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী মানসিক চাপে পড়লেও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী কাউন্সেলিং সেবা নেই
- 📌 ২০২৫ সালে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০৩ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে, এর মধ্যে ২০ শতাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
- 📌 শিক্ষার্থীরা শারীরিক অসুস্থতার মতো মানসিক সমস্যা নিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ পান না
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. লিখন চন্দ্র বালা বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা ও সহায়তা দিতে সাইকিয়াট্রিস্ট ও সাইকোলজিস্টের প্রয়োজন
- 📌 মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান সানজিদা কবির বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপের কারণে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে
- 📌 শিক্ষার্থীরা নিজের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে গিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হয়
📰 বিস্তারিত
গোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক চাপের প্রধান কারণ হলো পড়াশোনার চাপ, পরীক্ষার ফল, চাকরির প্রস্তুতি, পারিবারিক সমস্যা, আর্থিক সংকট ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের অনিশ্চয়তা। শিক্ষার্থীরা বন্ধু বা পরিচিতদের সঙ্গে কথা বললেও পেশাদার সহায়তা পান না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেছেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ পেলে কিছুটা ভালো অনুভব করা সম্ভব। শরীর অসুস্থ হলে চিকিৎসা দরকার, তেমনি মন অসুস্থ হলেও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন।’
আঁচল ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪০৩ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। তাদের মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি ছিলেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে গোবিপ্রবিতে এখনো স্থায়ী কাউন্সেলিং সেবা চালু হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. লিখন চন্দ্র বালা বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীরা প্রায়ই নানা ধরনের সমস্যা নিয়ে আমাদের কাছে আসেন। কিন্তু প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া ছাড়া আমাদের তেমন কিছু করার সুযোগ নেই। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইকিয়াট্রিস্ট ও সাইকোলজিস্ট প্রয়োজন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে শারীরিক অসুস্থতার চিকিৎসা দেওয়া হলেও মানসিক সমস্যার জন্য আলাদা কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা নেই। ফলে কোনো শিক্ষার্থী মানসিক সমস্যায় পড়লে নিজের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে গিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হয়। গোবিপ্রবির মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান সানজিদা কবির বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন। পড়াশোনা, পরিবার, ভবিষ্যৎ ও ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে তাদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হয়। তাই শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।’
"আমরা বিভিন্ন সময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ পেলে কিছুটা ভালো অনুভব করা সম্ভব। শরীর অসুস্থ হলে যেমন চিকিৎসা দরকার, তেমনি মন অসুস্থ হলেও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গোবিপ্রবি (গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. লিখন চন্দ্র বালা (মেডিকেল অফিসার), সানজিদা কবির (মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান), শিক্ষার্থীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ হাজার (শিক্ষার্থী), ৪০৩ (আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থী), ২০ শতাংশ (পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!