📌 গাইবান্ধা জেলায় নদীভাঙনে ৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে ডুবে গেছে। শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করছে, ফলে উপস্থিতির হার কমে শিক্ষা সংকট বাড়ছে। স্থানীয়রা স্থায়ী নদীশাসনের দাবি জানাচ্ছেন
গাইবান্ধা জেলায় বর্ষাকালীন নদীভাঙনে ৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণ নদীগর্ভে ডুবে গেছে। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নিচে বা ছাপরাঘরে পাঠদান করছেন, ফলে শিক্ষা সংকটের সৃষ্টি হয়েছে এবং শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন অব্যাহত থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় আরও বেশি এলাকা ঝুঁকিতে রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাইবান্ধা জেলায় নদীভাঙনে সম্পূর্ণ ডুবে গেছে ৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় — সীতাসতী, আঙ্গারীদহ, উত্তর খাটিয়ামারি, চর চৌমোহন, চর পিপুলিয়া, গলনা, কটকপাড়া ও ভোরের পাখি।
- 📌 শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নিচে বা ছাপরাঘরে পাঠদান করছেন, ফলে উপস্থিতির হার কমে ২-৪ জন শিক্ষার্থীও উপস্থিত হচ্ছেন।
- 📌 সুন্দরগঞ্জের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঈশা মণি বলেছেন, ‘গত বছর স্কুল সুন্দর ছিল, এবার নদীতে ভেঙে গেছে। এখন স্কুলঘর নেই, আমাদের অসুবিধা হচ্ছে।’
- 📌 জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষ্মণ কুমার দাশ জানান, ৮টি বিদ্যালয় ডুবে গেছে এবং আরও ৭টি ঝুঁকিতে রয়েছে।
- 📌 স্থানীয়রা দাবি করছেন, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং কার্যকর নদীশাসন না হলে পুরো গ্রাম নদীগর্ভে ডুবে যেতে পারে।
- 📌 গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেছেন, জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে, কিন্তু বরাদ্দের অভাবে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
📰 বিস্তারিত
গাইবান্ধা জেলার ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও যমুনা নদীর বর্ষাকালীন ভাঙন এই শিক্ষা সংকটের মূল কারণ। গাইবান্ধা সদর উপজেলার সীতাসতী, ফুলছড়ি উপজেলার আঙ্গারীদহ, উত্তর খাটিয়ামারি, চর চৌমোহন, চর পিপুলিয়া, গলনা ও কটকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সুন্দরগঞ্জের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় — এই ৮টি বিদ্যালয় সম্পূর্ণ নদীগর্ভে ডুবে গেছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কাপাসিয়া ইউনিয়নের লাল চামার গ্রামের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান জানান, বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে ডুবে যাওয়ায় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীরা খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করছেন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘গত বছর স্কুল সুন্দর ছিল, এবার নদীতে ভেঙে গেছে। এখন স্কুলঘর নেই, আমাদের অসুবিধা হচ্ছে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষ্মণ কুমার দাশ জানান, এই বছর জেলায় ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে ডুবে গেছে। আরও ৭টি বিদ্যালয় ঝুঁকিতে রয়েছে, যেমন: সদর উপজেলার চিতুলিয়া দিঘর, সাঘাটা উপজেলার গাড়ামারা, সুন্দরগঞ্জের চর কাপাসিয়া ২ নম্বর ও চর কাপাসিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুলছড়ির এরেন্ডাবাড়ী চর হরিচন্ডি ও সন্ন্যাসীর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তিনি বলেন, চরের এলাকায় কোনো এলাকা কখন ডুবে যাবে তা পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়, তাই স্থায়ী ভবন নির্মাণ সম্ভব নয়।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, নদীর ভাঙন ঠেকাতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। তবে বরাদ্দের অভাবে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে জরুরি কাজ ছাড়া অন্য কিছুর বরাদ্দ নেই।’
"গত বছর স্কুল সুন্দর ছিল, এবার নদীতে ভেঙে গেছে। এখন স্কুলঘর নেই, আমাদের অসুবিধা হচ্ছে।"
"দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন অব্যাহত থাকলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাইবান্ধা জেলা (সদর, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ঈশা মণি (শিক্ষার্থী), লক্ষ্মণ কুমার দাশ (জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা), সাইফুর রহমান (প্রধান শিক্ষক), শরিফুল ইসলাম (নির্বাহী প্রকৌশলী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮টি বিদ্যালয় ডুবে গেছে, ৭টি ঝুঁকিতে রয়েছে, ৩০ জন কর্মকর্তা জালিয়াতির তদন্তে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!