📌 গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থেকে আসা সৈয়দা শাওলিন আকতার আইন পড়াশোনা করে ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় সিভিল জজ পদে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন। ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন ছেড়ে বিচারক হওয়ার পথে তিনি কীভাবে অগ্রসর হন, তা জানুন
গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থেকে আসা সৈয়দা শাওলিন আকতার আইন বিভাগে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করছিলেন। কিন্তু তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে যখন তিনি ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ পদে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন। ডাক্তারি পড়াশোনা বদলে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে তিনি কীভাবে অগ্রসর হন, তা জানুন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থেকে আসা সৈয়দা শাওলিন আকতার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পড়ছেন এবং ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় সিভিল জজ পদে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন
- 📌 শাওলিন ২০২০ সালে পাবনা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হলেও আইন পড়ার স্বপ্নে ডাক্তারি পড়াশোনা ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন
- 📌 তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম টার্ম পরীক্ষায় বুঝতে পারেন যে, পড়াশোনা ছাড়া স্নাতক শেষ করতে বাড়তি সময়ের ঝুঁকি রয়েছে
- 📌 ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বিজেএস পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় শাওলিনের নাম পঞ্চম স্থান অধিকার করে, যা তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন
- 📌 পরিবারের সমর্থন এবং নিজের পরিশ্রমের ফলেই তিনি এই সাফল্য অর্জন করেছেন বলে জানান শাওলিন
📰 বিস্তারিত
সৈয়দা শাওলিন আকতার বেড়ে উঠেছেন গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীতে। তাঁর বাবা সৈয়দ মোহাম্মদ আলী একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং মা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। দুই ভাই-বোনের মধ্যে তিনি বড়। শাওলিনের স্কুল এবং কলেজজীবন কেটেছে গাইবান্ধায়। তিনি ২০১৮ সালে এসএসসি এবং ২০২০ সালে এইচএসসি পাস করেন। এইচএসসির পর তিনি ভর্তিযুদ্ধে নামেন এবং পাবনা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। তবে ছোটবেলা থেকে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন।
২০২০-২১ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তিনি বিচারক হওয়ার পথে অগ্রসর হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম টার্ম পরীক্ষায় তিনি বুঝতে পারেন যে, পড়াশোনা ছাড়া স্নাতক শেষ করতে বাড়তি সময়ের ঝুঁকি রয়েছে। এই উপলব্ধির পর থেকে তিনি বিভাগকেন্দ্রিক নিয়মিত পড়াশোনা শুরু করেন। পাশাপাশি তিনি গল্পের বই পড়া ও পাঠদানের মতো সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে যুক্ত থাকেন।
শাওলিনের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো, তিনি দীর্ঘ চার বছর ধরে উদ্ভাসে ইংরেজি বিভাগে শিক্ষকতা করছেন। শিক্ষকতা তাঁর প্রিয় কাজগুলোর একটি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত বা অধ্যয়নরত সহপাঠীদের সংস্পর্শে থেকে তিনি কীভাবে সুন্দর করে কথা বলতে হয় এবং কীভাবে চিন্তা করতে হয়, তা শিখেছেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
২০২৫ সালের ৫ মে স্নাতক হওয়ার পর তিনি ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় অংশ নেন। তিনি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং আইনের পড়াশোনার ভিত্তিতে নিজের সক্ষমতা সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তিনি বেশ শঙ্কিত ছিলেন। তবে জাতীয় নির্বাচন ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষার সময়সূচি একাধিকবার পিছিয়ে যায়। ফলে তিনি প্রায় ছয় মাসের একটি বাড়তি প্রস্তুতিকাল পান।
লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর তিনি ভাইভার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য প্রায় ২০ দিন পান। এই স্বল্প সময়ে তিনি নিজের দুর্বলতা এবং শক্তির জায়গা বিশ্লেষণ করে ভাইভার প্রস্তুতি সাজান। ২৩ সেপ্টেম্বর বিজেএস পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় শাওলিনের নাম পঞ্চম স্থান অধিকার করে। তিনি বলেন, ‘সেদিন বিকেলে যখন রেজাল্ট দেওয়ার খবর শুনলাম, তখন ভয় পেয়ে নামাজের জন্য অজু করে আসি। ভেবেছিলাম অজু করে এসে রেজাল্ট খুলে দেখব। তালিকা দেখার সময় ১, ২, ৩, ৪ এবং ৫ নম্বরে গিয়ে যখন নিজের রোলটা দেখলাম, আবেগে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। কান্না করছিলাম।’
"আমার পরিশ্রম ও প্রার্থনা কবুল হয়েছে বলে আজ এই সাফল্য এসেছে। সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্যরা সব সময় ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন। এ জন্য আমি সবার প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।'"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সৈয়দা শাওলিন আকতার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮তম বিজেএস পরীক্ষা, পঞ্চম স্থান, ২০২০ সেশন, ২৩ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!