📌 বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগের অভাব নিয়ে আলোচনা করে ইউল্যাব-টেসল বিডি সম্মেলন। শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য ইংরেজি শিক্ষাকে মূলধারায় নিয়ে আসার দাবি উঠে।
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজি শিক্ষার বাস্তব জীবনে প্রয়োগের অভাব নিয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে। ৯ অক্টোবর ঢাকার ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) স্থায়ী ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত ইউল্যাব–টেসল বিডি দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ইএসপি সম্মেলন ২০২৬-এ এই বিষয়টি কেন্দ্রীয় হয়ে উঠেছে। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ফ্রম মার্জিন টু মেইনস্ট্রিম: রিস্ট্রাকচারিং ইনস্টিটিউশনাল ইএসপি ফর সাসটেইনেবল ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১২ থেকে ১৬ বছর ইংরেজি পাঠ্যক্রম থাকলেও অনেক স্নাতক বাস্তবে ইংরেজি ব্যবহার করতে পারেন না।
- 📌 ইউল্যাব ও টেসল সোসাইটি অব বাংলাদেশ যৌথভাবে আয়োজন করে দিনব্যাপী সম্মেলন।
- 📌 প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ইংরেজি শেখার পাশাপাশি পেশাগত জ্ঞান অর্জন প্রয়োজন।
- 📌 ইউল্যাবের উপাচার্য সামসাদ মর্তূজা উল্লেখ করেন, ১২ বছর স্কুলের শিক্ষা শেষ করার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আবার প্রাথমিক ইংরেজি শেখানো হচ্ছে।
- 📌 রিয়েলি ইংলিশের প্রতিষ্ঠাতা নাইজেল কিলিক বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ইংরেজি শিক্ষায় এশিয়ার পূর্বাঞ্চলের দেশগুলোর তুলনায় এগিয়ে আছে।
- 📌 কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে বলেন, ইংরেজি ব্যবহারের আত্মবিশ্বাসের অভাবই প্রধান সমস্যা।
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজি শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগের অভাব নিয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে। সম্মেলনে উপস্থিত শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবীরা একমত যে, ইংরেজি শেখার সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফলে নয়, বাস্তবে ভাষাটি ব্যবহার করতে পারার মধ্যেও পরিমাপ করা যায়। ইউল্যাবের সেন্টার ফর ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাডিজ ও টেসল সোসাইটি অব বাংলাদেশ যৌথভাবে এই সম্মেলন আয়োজন করে। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ফ্রম মার্জিন টু মেইনস্ট্রিম: রিস্ট্রাকচারিং ইনস্টিটিউশনাল ইএসপি ফর সাসটেইনেবল ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’। অর্থাৎ, ইংরেজি শিক্ষাকে শিক্ষাব্যবস্থার প্রান্তিক বিষয় হিসেবে না দেখে মূলধারায় নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
ইএসপি (ইংলিশ ফর স্পেসিফিক পারপাসেস) শিক্ষার ধারণাটি হলো, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, পেশা বা কাজের প্রয়োজন অনুযায়ী ভাষা শেখানো। একজন গণমাধ্যমকর্মীর সংবাদ লেখা ও সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য যে দক্ষতা প্রয়োজন, একজন প্রকৌশলী, আইনজীবী বা ব্যাংকারের চাহিদা আলাদা। তাই শুধু ব্যাকরণ ও শব্দভান্ডার শেখানো নয়, কোন পরিস্থিতিতে ভাষাটি ব্যবহার করতে হবে, সেটিও শিক্ষার অংশ হওয়া দরকার।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ‘ইংরেজিতে কথা বলার আত্মবিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শুধু ভাষা জানলেই কর্মজীবনে সফল হওয়া যায় না। ব্যবসা, প্রকৌশল, অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রে কাজ করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জ্ঞান ও বোঝার সক্ষমতাও প্রয়োজন।’
ইউল্যাবের উপাচার্য সামসাদ মর্তূজা বলেন, ‘১২ বছর স্কুলের শিক্ষা শেষ করার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীদের যদি আবার প্রাথমিক পর্যায়ের ইংরেজি শেখাতে হয়, তাহলে তা জাতীয়ভাবে লজ্জার বিষয়। আমাদের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আমরা কেন শিক্ষার্থীদের অনুচ্ছেদ বা রচনা লেখার মতো বিষয় শেখাব? শিক্ষার্থীরা ইংরেজি শিক্ষার জন্য অনেক টাকা টিউশন ফি দেয়। অথচ তারা কী শিখতে চায়, আর বাস্তবে তাদের কী শেখানো হচ্ছে—এই দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাসুমা হাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করে তুলতে ইংরেজি শিক্ষাকে পেশাগত জগতের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। তিনি বলেন, ‘ইংরেজি শেখার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের প্রসঙ্গ তোলেন কথাসাহিত্যিক ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এক সাক্ষাৎকারে আমি বলেছিলাম, আমার জীবনে একটা আফসোস আছে, আমি ইংরেজিতে দুর্বল। আবার জন্ম নিলে আমি ইংরেজি শিখব। এই সাক্ষাৎকার পড়ে অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী আমাকে বলেছিলেন, আরেকবার জন্ম নিতে হবে না। এখন থেকেই শিখতে শুরু করো। আমার বুয়েটের বন্ধুরা যাঁরা বিদেশে আছেন, তাঁরা বলেন বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা স্মার্ট। কিন্তু তাঁরা পিছিয়ে পড়েন শুধু নিজেকে ঠিকমতো উপস্থাপন করতে পারেন না বলে।’
সম্মেলনের প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রিয়েলি ইংলিশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাইজেল কিলিক। তিনি বলেন, ‘ইংরেজি শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আমার অভিজ্ঞতায় এশিয়ার পূর্বাঞ্চলের অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে আছে। যুক্তরাজ্যেও আমরা এমন শিক্ষার্থী পাই, যাঁদের আইইএলটিএস স্কোর ৬ দশমিক ৫, কিন্তু বাস্তবে ইংরেজি ব্যবহারের দক্ষতা সেই মানের নয়। জাপানের মতো দেশে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইংরেজি শেখানোর দায়িত্ব নিতে হয়। আমার মতে, এটি সঠিক পদ্ধতি নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্ত হওয়া উচিত।’
"শুধু ভাষা জানলেই কর্মজীবনে সফল হওয়া যায় না। ব্যবসা, প্রকৌশল, অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রে কাজ করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জ্ঞান ও বোঝার সক্ষমতাও প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ববি হাজ্জাজ, সামসাদ মর্তূজা, আনিসুল হক, নাইজেল কিলিক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ বছর, ১৬ বছর, ৯ অক্টোবর, ৬.৫ (আইইএলটিএস স্কোর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!