📌 চা বাগানের কঠিন পরিবেশ থেকে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে পড়াশোনা করে জনস্বাস্থ্যে স্নাতক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দীপা সিং সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন। পরিবারের প্রথম কন্যা হিসেবে উচ্চশিক্ষা পাওয়ার সংগ্রাম এবং বিদেশি পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার গল্প তিনি শেয়ার করেছেন
চা বাগানের কঠিন পরিবেশ থেকে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে পড়াশোনা করছেন দীপা সিং। তিনি জনস্বাস্থ্যে তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন এবং পড়াশোনা শেষে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ও নারী শিক্ষা নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। দীপা সিং তার সংগ্রামের গল্প এবং পরিবারের প্রথম কন্যা হিসেবে উচ্চশিক্ষা পাওয়ার কঠিন পথের বিবরণ দিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **দীপা সিং** ব্র্যাক স্কুল থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পথচলা করেছেন চা বাগানের কঠিন পরিবেশে — স্কুলে যেতে হতো **আধা ঘণ্টা হেঁটে**।
- 📌 প্রথমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হওয়ায় মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে পড়াশোনা শুরু করেন, পরে **ঈশ্বরের কৃপায়** এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে ভর্তি হন।
- 📌 **মায়ের সাহস** ও পরিবারের সমর্থনেই দীপা চট্টগ্রামে এসে বিদেশি পরিবেশে মানিয়ে নিতে সক্ষম হন — প্রথম মাসে ইংরেজি ও নতুন পরিবেশের চ্যালেঞ্জে কাঁদতেন।
- 📌 **জনস্বাস্থ্যে স্নাতক** হওয়ার পর উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ও **নারী শিক্ষা** নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখছেন দীপা সিং।
📰 বিস্তারিত
দীপা সিং বলেছেন, তার ছোটবেলা ছিল চা বাগানের কঠিন পরিবেশে। ব্র্যাক স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করলেও স্কুলটি বাড়ি থেকে **আধা ঘণ্টা হেঁটে** যেতে হতো। পরিবারের শিক্ষার মান বা পারিপার্শ্বিক অবস্থা তখন অতটা ভালো ছিল না। কিন্তু বাবা-মায়ের ইচ্ছা ছিল তার ভালো পড়াশোনা করানো। তিনি মুন্সিবাজার কালীপ্রসাদ উচ্চবিদ্যালয় থেকে হাইস্কুল পাস করেন এবং পরবর্তীতে কলেজে ভর্তি হন।
দীপা সিং জানান, উচ্চমাধ্যমিক পাস করার সময় বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তার কোনো ধারণা ছিল না। তিনি মনে করতেন সরকারি কলেজগুলো থেকেই অনার্স পড়াশোনা করা যাবে। কিন্তু প্রথমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হওয়ায় মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে পড়াশোনা শুরু করেন। পরে **ঈশ্বরের কৃপায়** তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে ভর্তি হন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা তিনি প্রথম তার এক **মামার** কাছ থেকে শুনেছিলেন, যিনি বলেছিলেন যে এখানে থাকা, খাওয়া এবং পড়াশোনার সবকিছুই স্কলারশিপের আওতায় ফ্রি।
দীপা সিং বলেন, সিলেটের মেয়ে হিসেবে চট্টগ্রামে এসে তিনি ভিন্নধর্মী পরিবেশের মুখোমুখি হন। রুমমেটরা বিদেশি, শিক্ষকরা বিদেশি এবং ক্লাসের যোগাযোগ ইংরেজিতে করতে হতো। প্রথম এক-দুই মাসে তিনি খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। তিনি মা-বাবার সঙ্গে থেকে অভ্যস্ত ছিলেন এবং নতুন পরিবেশে প্রতিদিন মাকে ফোন করে কাঁদতেন। কিন্তু মা তাকে সাহস দিয়ে বলেছিলেন, ‘সবাই পারলে তুমিও চেষ্টা কর’। মায়ের কথা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ইউটিউব দেখে ইংরেজি চর্চা শুরু করেন এবং ক্যাম্পাসের বিদেশি বন্ধুদের দেখেও অনুপ্রাণিত হন।
"আমি ছোটবেলা থেকেই মা-বাবার সঙ্গে থেকে অভ্যস্ত। এই নতুন পরিবেশে এসে প্রতিদিন মাকে ফোন করে কাঁদতাম। কিন্তু মায়ের কথা থেকে সাহস পেয়ে নিজেকে ফিট করে নিয়েছি।"
দীপা সিং জানান, তিনি এখন জনস্বাস্থ্যে তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ও **নারী শিক্ষা** নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমার মূল পরিকল্পনা জনস্বাস্থ্য বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা এবং একই সঙ্গে নারী শিক্ষা নিয়ে কাজ করা’।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চা বাগান (সিলেট), চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দীপা সিং
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ মিনিট (হেঁটে স্কুল যাতায়াত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!