📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে নিকাব পরা ছাত্রীর প্রতি শিক্ষকের মন্তব্য প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ছেড়ে যায়। শিক্ষককে ক্লাস থেকে বিরত রাখা হয় এবং তার বিরুদ্ধে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে নিকাব পরা ছাত্রীর প্রতি সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের মন্তব্য প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ছেড়ে যায়। ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষককে ক্লাস থেকে বিরত রাখা হয় এবং তার বিরুদ্ধে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। গত বুধবার (৭ অক্টোবর) ক্লাস চলাকালে নিকাব পরা ছাত্রীর প্রতি শিক্ষকের মন্তব্য ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উঠে আসে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত ৭ অক্টোবর ইংরেজি বিভাগের ক্লাসে নিকাব পরা ছাত্রীর প্রতি সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের মন্তব্য প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ছেড়ে যায়
- 📌 শিক্ষককে ক্লাস থেকে বিরত রাখা হয় এবং তার বিরুদ্ধে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়, যার মধ্যে রয়েছে শিক্ষককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি
- 📌 দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়
- 📌 শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন করা হয়
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় এবং শিক্ষককে সংশ্লিষ্ট ক্লাস থেকে বিরত রাখা হয়
📰 বিস্তারিত
গত বুধবার (৭ অক্টোবর) ইংরেজি বিভাগের স্নাতকোত্তর ক্লাস চলাকালে সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব এক ছাত্রীর নিকাব পরা নিয়ে কথা বলেন। তিনি ছাত্রীকে পেছনে গিয়ে বসতে বলেন, কারণ নিকাব পরার কারণে তিনি অস্বস্তি বোধ করছেন। এর প্রতিবাদে নিকাব পরা ছাত্রী ক্লাস থেকে বের হয়ে যান। একপর্যায়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থীও ক্লাস ছেড়ে যায়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। ডাকসুর কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে ছালমার নেতৃত্বে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একদল নারী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর কাছে পাঁচ দফা দাবি জানান। তাদের দাবিগুলো হলো: ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার, সংশ্লিষ্ট ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি, শিক্ষককে একাডেমিক মূল্যায়ন ও পাঠদান থেকে অব্যাহতি দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্ষতি বা প্রতিহিংসা থেকে রক্ষা করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানান, ক্লাসে কোনো শিক্ষার্থীর ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা যাবে না। শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে ক্লাস করতে পারে এবং কোনো ধরনের নিগ্রহের শিকার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন সচেষ্ট থাকবে। তিনি আরও বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিভাগীয় একাডেমিক কমিটিতে আলোচনা করে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাজিন আজিজ চৌধুরী জানান, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে জরুরি একাডেমিক কমিটির সভা করা হয়েছে। সভায় শিক্ষককে সংশ্লিষ্ট ক্লাসগুলো অন্য শিক্ষকদের দেওয়া হয়েছে এবং তিনি আপাতত কোনো ক্লাস নিতে পারবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
"ক্লাসে কোনো শিক্ষার্থীর ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা যাবে না। শিক্ষার্থীরা যাতে স্বাভাবিকভাবে ক্লাস করতে পারে এবং কোনো ধরনের নিগ্রহের শিকার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন সচেষ্ট থাকবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব, ডাকসুর সম্পাদক উম্মে ছালমা, সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাজিন আজিজ চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ অক্টোবর, সাড়ে ১২ টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!