📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব জানান, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর পুরো মুখমণ্ডল নিকাবে ঢাকা থাকায় শনাক্ত করতে অসুবিধা হলেও তাকে নিকাব খুলতে বলেননি। তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীর পোশাক নিয়ে আলোচনা হয়েছিল এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার সাথে যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। তবে বিভাগ কর্তৃপক্ষ তাকে পাঠদানের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর নিকাব নিয়ে আলোচনার বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, শিক্ষার্থীর পুরো মুখমণ্ডল নিকাবে ঢাকা থাকায় শনাক্ত করতে অসুবিধা হলেও তাকে নিকাব খুলতে বা শ্রেণিকক্ষ ছাড়তে বলেননি। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর পাঠদান থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৭ অক্টোবর মাস্টার্সের শেষ সেমিস্টারের ক্লাসে শিক্ষার্থীর পুরো মুখমণ্ডল নিকাবে ঢাকা থাকায় অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ শনাক্ত করতে অসুবিধা বোধ করেন।
- 📌 শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু তাকে নিকাব খুলতে বলা হয়নি — শুধুমাত্র যোগাযোগের অসুবিধা তুলে ধরা হয়।
- 📌 অধ্যাপক ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী হলেও শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় বিশ্বাস বা পোশাককে অবমাননা করার প্রশ্নই আসে না বলে দাবি করেন।
- 📌 শিক্ষার্থীকে পোশাক নিয়ে আলোচনা করার সময় কোরআনের সুরা আন-নূরের ৩১ নম্বর আয়াত এবং হজ পালনের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করেন।
- 📌 বিভাগ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর অধ্যাপককে পাঠদানের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
- 📌 অধ্যাপক নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন — ঘটনার পর বেনামি ফোন, ইমেইল ও হুমকি পেয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
তাসনীম সিরাজ মাহবুব শনিবার (১০ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি জানান, শ্রেণিকক্ষে তিন শিক্ষার্থীর সঙ্গে বসা এক শিক্ষার্থীর পুরো মুখমণ্ডল নিকাবে ঢাকা ছিল। চোখ দেখতে না পাওয়ায় শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা এবং চোখে চোখ রেখে যোগাযোগ করতে অসুবিধা হয়েছিল। এতে পাঠদানের সময় অস্বস্তি বোধ করেছিলেন তিনি। শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলোচনার সময় কোনো বিতর্ক হয়নি, তবে শিক্ষার্থীর পক্ষে কথা বলা আরেকজনের সঙ্গে পোশাকের স্বাধীনতা, পরিচয় শনাক্তকরণ এবং শ্রেণিকক্ষে কার্যকর যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
অধ্যাপক ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী হলেও তিনি জানান, তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলেন। প্রায় ৩৪ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তার ধর্মীয় বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও আচরণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা অবগত। তিনি দাবি করেন, কোনো শিক্ষার্থীর ধর্মীয় বিশ্বাস বা পোশাককে অবমাননা করার প্রশ্নই আসে না। শিক্ষার্থীদের জানান, মুখমণ্ডল দৃশ্যমান রেখেও শালীন পোশাকের মাধ্যমে পর্দা করা সম্ভব। তিনি কোরআনের সুরা আন-নূরের ৩১ নম্বর আয়াত এবং নিজের হজ পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইহরাম অবস্থায় নারীদের নিকাব পরার কথাও উল্লেখ করেন।
তাসনীম সিরাজ জানান, শ্রেণিকক্ষে হিজাব ও বোরকা পরা আরও অনেক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। তাদের চোখ দৃশ্যমান থাকায় শনাক্ত করতে অসুবিধা হয়নি। তাদের কাউকে পোশাক নিয়ে কিছু বলেননি তিনি। শিক্ষার্থীকে নিকাব খুলতে বাধ্য করা, শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া বা ধর্মীয় পোশাকের কারণে শাস্তি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেনি। ঘটনার পর শিক্ষার্থীটি কষ্ট পেয়ে শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে গেছেন বলে জানতে পেরে তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। তিনি জানান, সহপাঠীদের মাধ্যমে তিনবার খবর পাঠান এবং করিডরে প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করেন। তবে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা না হওয়ায় সরাসরি দুঃখ প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।
অধ্যাপক জানান, ঘটনার পর তিনি বেনামি ফোন, ইমেইল, আপত্তিকর বার্তা ও হুমকি পেয়েছেন। এতে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইংরেজি বিভাগ কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে তার পাঠদানের দায়িত্ব থেকে তাকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার পড়ানো কোর্সগুলো অন্য শিক্ষকদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পর তার বক্তব্য শোনার সুযোগ না দিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি পরিবারের একজন গুরুতর অসুস্থ সদস্যের অস্ত্রোপচারের কারণে সেদিন দ্রুত হাসপাতালে যেতে হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন।
"শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করতে অসুবিধা হচ্ছিল, কিন্তু তাকে নিকাব খুলতে বলিনি। আমি শুধুমাত্র যোগাযোগের অসুবিধা তুলে ধরেছি। শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে অবমাননা করার প্রশ্নই আসে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাসনীম সিরাজ মাহবুব (অধ্যাপক), শিক্ষার্থী (নিকাব পরা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ অক্টোবর (ঘটনার তারিখ), ৩৪ বছর (শিক্ষকতা জীবন), ৩১ নম্বর (কোরআনের আয়াত), ১০ মিনিট (অপেক্ষা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!