📌 ১৯৮৫ সালের জগন্নাথ হলের ছাদ ধসে পড়ার ঘটনার ৪১ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো হলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষার্থী বিপুল কুমার সাহা বলেছেন, ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে এসব ভবন টিকে থাকতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মেরামতের কাজ করলেও পুরোনো ভবনগুলোর ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে
১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাদ ধসে পড়ার ঘটনার স্মৃতি এখনও বেঁচে থাকা শিক্ষার্থী বিপুল কুমার সাহার মনে অম্লান। আজকের পত্রিকায় তিনি বলেছেন, ‘আকাশ ভেঙে পড়ার মতো লাগছিল। প্রচণ্ড আঘাতে ডান পা’টা হাঁটুর পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। ছাদের টুকরা আমার পায়ে পড়েছিল। চারদিকে আর্তনাদ মিশে যাচ্ছিল। কেউ বাঁচার জন্য আকুতি জানাচ্ছিলেন, কারও কণ্ঠস্বর আর্তচিৎকারের পর থেমে যাচ্ছিল।’ সেদিন মর্মান্তিক ঘটনায় ৪০ জনের মৃত্যু হয় এবং ১০০-এর বেশি শিক্ষার্থী আহত হন। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার বিপুল কুমার সাহা বলেছেন, সেদিনের ঘটনার মতো আজও বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো হলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাদ ধসে পড়ায় ৪০ জনের মৃত্যু ও ১০০-এর বেশি শিক্ষার্থী আহত হন
- 📌 বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি পুরোনো হলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ: সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, শহীদুল্লাহ হল, জহুরুল হক হল, সূর্যসেন হল ও শামসুন নাহার হল
- 📌 মুহসীন ও সূর্যসেন হলের পুরোনো মিলনায়তন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এগুলোর ব্যবহার বন্ধ রয়েছে
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মেরামতের কাজ করলেও ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুরোনো ভবনগুলোর টিকে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে
- 📌 উপাচার্য বলেছেন, ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অবকাঠামো সক্ষমতা বাড়বে
📰 বিস্তারিত
বিপুল কুমার সাহা জানান, ১৯৮৫ সালের ঘটনার মতো আজও বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো হলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, শহীদুল্লাহ হল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, মাস্টারদা সূর্যসেন হল ও শামসুন নাহার হলের পুরোনো ভবনগুলোর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে দেরি লেগেছে। বিশেষ করে সলিমুল্লাহ হল ও শহীদুল্লাহ হলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেশি।
বিপুল সাহা বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা কোনো ভবনের সমস্যা চিহ্নিত করে আবেদন করার পর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে—এই পদ্ধতি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিজস্ব উদ্যোগে নিয়মিত ভবন পরিদর্শন ও ঝুঁকি নিরূপণের ব্যবস্থা থাকতে হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) কাজী মো. আক্রাম হোসেন বলেন, ‘নব্বইয়ের দশকের আগে নির্মিত ভবনগুলোতে ভূমিকম্প-সহনশীলতার বিষয়টি বর্তমানের মতো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়নি। আমরা ইতিমধ্যে অনেক ভবন মেরামত করেছি, তবে ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কী হবে, তা বলা কঠিন।’
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থাপত্য ও প্রকৌশলসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং ভূতত্ত্বসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের নিয়ে এই কমিটি কাজ করছে। তিনি বলেন, প্রকৌশল শাখার মাধ্যমে পুরোনো ভবনগুলোর ভূমিকম্প-সহনশীলতা ও ঝুঁকির বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। কোনো ভবনে ফাটল বা ঝুঁকির বিষয় নজরে এলে প্রশাসনকে জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু জরাজীর্ণ ও দুর্বল ভবন রয়েছে। এগুলো দ্রুত মেরামত করা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তবে চাইলেই সব ভবনের সংস্কার বা উন্নয়নকাজ একসঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হয়।’ তিনি আরও জানান, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের নিরাপত্তা উন্নয়নে পিলার দিয়ে সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ওয়ার্ক অর্ডার সম্পন্ন হলে আরও সংস্কারের কাজ শুরু হবে।
'আমরা ইতিমধ্যে অনেক ভবন মেরামত করেছি। তবে ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কী হবে, তা বলা কঠিন।' — প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) কাজী মো. আক্রাম হোসেন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিপুল কুমার সাহা (ডেপুটি রেজিস্ট্রার), কাজী মো. আক্রাম হোসেন (প্রধান প্রকৌশলী), ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী (উপ-উপাচার্য), ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম (উপাচার্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ জন মৃত্যু, ১০০+ আহত, ১৫ অক্টোবর ১৯৮৫, ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!