📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পুনর্বহালের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা দাবি করেছে, শেখ মুজিবের নামের সাথে যুক্ত স্বৈরাচার ও দুর্ভিক্ষের ইতিহাসের কারণে হলের নাম পরিবর্তন করা উচিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পুনর্বহালের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে নয়টায় হল প্রাঙ্গনে সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর নেতৃবৃন্দ দাবি জানান, শেখ মুজিবের নামের সাথে যুক্ত ইতিহাসের কারণে হলের নাম পরিবর্তন করা উচিত। তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান শিক্ষার্থীদের মতামতের উপর ভিত্তি করে নাম পরিবর্তন করা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেছেন, শেখ মুজিবের নামের সাথে যুক্ত ৩৯ হাজার জাসদ কর্মী হত্যা ও ৭৪-এর দুর্ভিক্ষের ইতিহাসের কারণে হলের নাম পরিবর্তন করা দরকার।
- 📌 তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের সময়ের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে প্রাণ দিতে হয়েছে। ফ্যাসিবাদী আইকনকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করলে অতীতের পরিণতি ভোগ করতে হবে।’
- 📌 ডাকসুর হল সংসদের জিএস আহমেদ আল সাবাহ দাবি করেছেন, শহিদ ওসমান হাদীর নামে হলের নাম পরিবর্তনের দাবি ছিলো, কিন্তু প্রশাসন শিক্ষার্থীদের মতামত নেই বলে নাম ফিরিয়ে আনতে চায়।
- 📌 তিনি উল্লেখ করেছেন, বিজয় দিবসে শেখ মুজিব হলের ব্যানার নিয়ে স্মৃতিসৌধে যাওয়ার সময় পুলিশ ব্যানার কেড়ে নেয়। শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছে।
- 📌 ডাকসুর নেতারা দাবি করেছেন, বীরশ্রেষ্ঠদের নামে হলের নাম দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু শেখ মুজিবের নামের সাথে যুক্ত ফ্যাসিবাদী ঐতিহ্য কারণে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
সংবাদ সম্মেলনে মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না, কিন্তু তার হাতে ৩৯ হাজার জাসদ কর্মী নিহত হয়েছেন। তার স্বৈরাচার ও ৭৪-এর দুর্ভিক্ষে হাজারো মানুষ মারা গেছেন। শেখ হাসিনা তার নাম ব্যবহার করে স্বৈরাচার চালিয়ে যাচ্ছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে শেখ পরিবারের নামে অনেক স্থাপনার নাম পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মুজিববাদের পাহারাদার হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
তিনি প্রশাসনের প্রতি প্রশ্ন তুলেন, ‘শিক্ষকদের মধ্যে সাদা দলের শিক্ষকরা হলের নাম পরিবর্তন সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু তারা বর্তমানে আওয়ামী পন্থীদের সাথে কোনো গোপন আঁতাত করেছে কিনা তা আমরা জানতে চাই।’
আহমেদ আল সাবাহ বলেন, ‘শহিদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের খবর পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা দাবি করেছিলো, বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাসিবাদের কোনো আইকন থাকবে না। কিন্তু প্রশাসন শিক্ষার্থীদের দাবি নেই বলে শেখ মুজিব হলের নাম ফিরিয়ে আনতে চায়। আমরা বিজয় দিবসে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে পুলিশের হাত থেকে ব্যানার কেড়ে নেওয়া হয়। এই নামের কারণে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাবিতে বীরশ্রেষ্ঠদের নামে কোনো স্থাপনা নেই। কিংবা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে হলের নাম দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু শেখ মুজিবের নামের সাথে যুক্ত ফ্যাসিবাদী ঐতিহ্য আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।’
"আপনারা শিক্ষার্থীদের মতামত নিয়ে দেখেন তারা কী চায়। সে অনুযায়ী আপনারা নাম দিন। বর্তমানে ফ্যাসিবাদের আইকনকে ছাড় দিলে আপনাদের অতীতের পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে। এর ঐতিহাসিক দায় আপনাদেরকেও নিতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, আহমেদ আল সাবাহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৯ হাজার (জাসদ কর্মী), ৭৪ (দুর্ভিক্ষের বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!