📌 ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডির শোক দিবস পালিত হয়। উপাচার্য ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা নিহতদের স্মরণে আলোচনা, প্রার্থনা ও রক্তদান কর্মসূচি আয়োজন করেন। ১৯৮৫ সালের এই ঘটনায় ৪০ জন নিহত হন
১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডির শোক দিবস উপলক্ষে নানা স্মৃতিসেবা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জগন্নাথ হল স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এই দিবসটি উপলক্ষে হলের কিশোরীলাল রায় চৌধুরী অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা, প্রার্থনা ও রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডিতে ৪০ জন নিহত হন — ২৬ জন শিক্ষার্থী ও ১৪ জন কর্মচারী/অতিথি
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবার। সবাইকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন”
- 📌 সকাল ৭:৩০ টায় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সন্ধ্যা ৬:০০ টায় শোকসংগীত ও কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠিত হয়
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল ও ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়, পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়
- 📌 শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই কালো ব্যাজ ধারণ করেন
- 📌 জগন্নাথ হল প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় সন্ধ্যা পর্যন্ত নিহতদের তৈলচিত্র প্রদর্শনী ও স্মৃতি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়
📰 বিস্তারিত
১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডির শোক দিবস পালিত হয়। এই দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জগন্নাথ হল স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত এই পুষ্পস্তবক অর্পণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর হলের কিশোরীলাল রায় চৌধুরী অডিটরিয়ামে উপাচার্যের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্য ড. ওবায়দুল ইসলাম নিহতদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, “১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবরের মর্মান্তিক ঘটনা জাতি, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সমগ্র বাংলাদেশকে একত্রিত করেছিল। ঐক্যের এই বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে হবে এবং সমাজে তা ছড়িয়ে দিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে নিরাপদ রাখতে তাঁরা কাজ করছেন এবং সবার সহযোগিতায় নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে চান।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. আবদুস সালাম, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ ড. দেবাশীষ পাল, হলটির প্রাক্তন প্রাধ্যক্ষ ড. অজয় কুমার দাস, জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক নিবাস চন্দ্র মাঝি। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডিতে আহত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ।
শোক দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল, হোস্টেল ও প্রধান প্রধান ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন। নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় সকালে জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। একই স্থানে রক্তদান কর্মসূচিও আয়োজন করা হয়। বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআসহ সব হল মসজিদে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় মোনাজাতের কর্মসূচি রাখা হয়।
জগন্নাথ হল প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিহতদের তৈলচিত্র ও সংশ্লিষ্ট দ্রব্যাদির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় হলের উপাসনালয়ে শোকসংগীত ও কবিতা আবৃত্তির কর্মসূচি রাখা হয়। দিবসটি উপলক্ষে ‘অক্টোবর স্মৃতি রচনা প্রতিযোগিতা’ ও ‘অক্টোবর স্মৃতি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা’রও আয়োজন করা হয়।
"১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবরের মর্মান্তিক ঘটনা জাতি, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সমগ্র বাংলাদেশকে একত্রিত করেছিল। ঐক্যের এই বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে হবে এবং সমাজে তা ছড়িয়ে দিতে হবে।"
"ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবার। সবাইকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সব অংশীজনের সহযোগিতা প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ হল, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, ড. আবদুস সালাম, ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ জন নিহত (২৬ শিক্ষার্থী, ১৪ কর্মচারী/অতিথি), ১৫ অক্টোবর (তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!