📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডির ৬৪ বছর পর জাতীয় ছাত্রশক্তি নিহতদের শ্রদ্ধা জানিয়ে জরাজীর্ণ হলগুলো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছে। তারা প্রশাসনের অবহেলা সমালোচনা করে বলেছেন, ‘অক্টোবর ট্র্যাজেডি’ আর দেখতে চায় না জাতি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডির ৬৪ বছর পর জাতীয় ছাত্রশক্তি ১৫ অক্টোবর এই দিনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সংগঠনের সভাপতি আবু বাকের মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী উভয়েই এই বিবৃতিতে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হলগুলো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবি তুলে ধরেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর জগন্নাথ হলের ‘অনুদ্বৈপায়ন ভবন’-এর ছাদ ধসে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলার ফল বলে অভিযোগ করা হয়েছে
- 📌 বর্তমানে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, সূর্যসেন হল ও বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলসহ একাধিক হলের বহু ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে
- 📌 পলেস্তারা খসে পড়ছে, রড বেরিয়ে এসেছে এবং দেয়ালে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে
- 📌 গত বছর ভূমিকম্পের পর শিক্ষার্থীরা নিরাপদ আবাসনের দাবিতে আন্দোলন করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হল সংস্কারের বাহানায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করলেও, এরপর কেবল রঙ করা ছাড়া কোনো কার্যকর সংস্কার করা হয়নি
- 📌 জাতীয় ছাত্রশক্তি প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে বলেছে, ‘জাতি আর কোনো ‘অক্টোবর ট্র্যাজেডি’ দেখতে চায় না’
📰 বিস্তারিত
জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি আবু বাকের মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর জগন্নাথ হলের তৎকালীন ‘অনুদ্বৈপায়ন ভবন’-এর ছাদ ধসে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তারা উল্লেখ করেছেন, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ছিল সে সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম অবহেলা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ফল।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৬৪ বছর আগের এই ট্র্যাজেডি থেকে প্রশাসন কোনো শিক্ষা নেয়নি। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, সূর্যসেন হল এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলসহ একাধিক হলের বহু ভবন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব হলের পলেস্তারা খসে পড়ছে, রড বেরিয়ে এসেছে এবং দেয়ালে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার জন্ম দিতে পারে।
তারা আরো অভিযোগ করেছেন, গত বছর ভূমিকম্পের পর শিক্ষার্থীরা নিরাপদ আবাসনের দাবিতে আন্দোলনে নামলে প্রশাসন হল সংস্কারের বাহানায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছিল। কিন্তু এরপর কেবল রঙ করা ছাড়া হলের কোনো কার্যকর সংস্কার করা হয়নি। দিনের পর দিন শিক্ষার্থীদের জরাজীর্ণ ভবনে বসবাস করতে বাধ্য করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ হলগুলো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের শতভাগ নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা। তারা প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ‘জাতি আর কোনো ‘অক্টোবর ট্র্যাজেডি’ দেখতে চায় না’।
"এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ছিল সে সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম অবহেলা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ফল। ৬৪ বছরের পুরোনো, মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ একটি ভবনকে মেরামত না করে, উপরন্তু সেটিকে টিভিরুম হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়াই ডেকে এনেছিল এই নারকীয় ধ্বংসলীলা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু বাকের মজুমদার (সভাপতি), তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী (সাধারণ সম্পাদক), হাজী মুহম্মদ মুহসীন, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৯ জন (নিহত), ৬৪ বছর (ট্র্যাজেডির বয়স), ১৫ অক্টোবর (তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!