📌 দৌলতখান উপজেলার ১০৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৩টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে প্রশাসনিক দায়িত্বের কারণে। শিক্ষক সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান ও বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা
দৌলতখান উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদ শূন্যের কারণে। উপজেলার ১০৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৩টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এতে ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দৌলতখান উপজেলার ১০৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৩টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য
- 📌 ৩৩টি বিদ্যালয়ে মাত্র প্রধান শিক্ষক কর্মরত, বাকি ৭৩টি বিদ্যালয়ে ২১ জন চলতি দায়িত্বে ও ৫২ জন ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন
- 📌 সহকারী শিক্ষক পদেও ৫৪টি শূন্য, নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৫ জন শিক্ষক শূন্য পদে যোগদান করেছেন
- 📌 নৈশপ্রহরী পদে কর্মরত মাত্র ৬৩ জন, ১০৬টি বিদ্যালয়ের বিপরীতে
- 📌 হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, ভারপ্রাপ্ত গোলাম রহমান আজাদ দায়িত্ব পালন করছেন
- 📌 দক্ষিণ জয়নগর শমাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য, ভারপ্রাপ্ত জান্নাতুল আসমা প্রশাসনিক দায়িত্ব নিচ্ছেন
- 📌 দৌলতখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছয়জন শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত মাত্র চারজন, প্রধান শিক্ষকের পদও শূন্য
- 📌 শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করার জন্য দ্রুত পদ পূরণের দাবিতে
📰 বিস্তারিত
দৌলতখান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১০৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৩৩টিতে প্রধান শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। বাকি ৭৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে ২১ জন শিক্ষক চলতি দায়িত্বে এবং ৫২ জন ভারপ্রাপ্ত হিসেবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। শুধু প্রধান শিক্ষক নয়, সহকারী শিক্ষক পদেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য শূন্যতা। উপজেলায় সহকারী শিক্ষকের ৫৪টি পদ শূন্য রয়েছে। তবে নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৫ জন সহকারী শিক্ষক শূন্য পদে যোগদান করেছেন বলে জানিয়েছে শিক্ষা অফিস।
দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম রহমান আজাদ জানান, “বছরের পর বছর প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে। নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করায় স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
দক্ষিণ জয়নগর শমাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জান্নাতুল আসমা বলেন, “প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা বেশ কষ্টের ব্যাপার। শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ বাড়ছে।”
দৌলতখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও শিক্ষক সংকটের কারণে প্রশাসনিক দায়িত্বের চাপ বাড়ছে। ছয়জন শিক্ষকের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন চারজন। প্রধান শিক্ষকের পদটিও শূন্য থাকায় পাঠদানসহ দাপ্তরিক কাজের চরম বিঘ্ন ঘটছে। বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাবেয়া বেগম বলেন, “শিক্ষক সংখ্যা কম থাকায় পাঠদানসহ দাপ্তরিক কাজের চরম বিঘ্ন ঘটছে। শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।”
দৌলতখান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্কর্তা মু. জাহিদ উদ্দিন বলেন, “আইনি জটিলতার কারণে এতদিন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা কতটা ব্যাহত হচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে।”
"বছরের পর বছর প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে। নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করায় স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।"
"প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা বেশ কষ্টের ব্যাপার। শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ বাড়ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দৌলতখান উপজেলা, ভোলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গোলাম রহমান আজাদ, জান্নাতুল আসমা, রাবেয়া বেগম, মু. জাহিদ উদ্দিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৩টি স্কুলে প্রধান শিক্ষক শূন্য, ১০৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক কর্মরত, ২১ জন চলতি দায়িত্বে, ৫২ জন ভারপ্রাপ্ত, ৫৪টি সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য, ২৫ জন নতুন নিয়োগ, ৬৩ জন নৈশপ্রহরী কর্মরত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!