📌 দাখিল পরীক্ষায় জীববিজ্ঞানে অকৃতকার্য হওয়া রংপুরের হাবিবুল বাশারের ফল বদলে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ওএমআর শিট পরিবর্তনের অভিযোগে চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং হাবিবুলের ফল সংশোধিত হয়েছে
দাখিল পরীক্ষায় জীববিজ্ঞানে অকৃতকার্য হওয়া রংপুরের গঙ্গাচড়া শিক্ষার্থী হাবিবুল বাশারের ফল বদলে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। ওএমআর শিট পরিবর্তনের অভিযোগে চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের তদন্ত কমিটি ফল সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রংপুরের গঙ্গাচড়া শিক্ষার্থী হাবিবুল বাশারের জীববিজ্ঞানে অকৃতকার্য হওয়া ফল বদলে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
- 📌 ওএমআর শিট পরিবর্তনের অভিযোগে চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে গঙ্গাচড়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. আবদুল বাকী ওরফে লিটন এবং অধ্যক্ষ অলিউল্লাহ।
- 📌 ১৩ সেপ্টেম্বর হাবিবুল খাতা দেখার আবেদন করলে দেখতে পান ওএমআর শিট পরিবর্তিত হয়েছে।
- 📌 মামলার তদন্ত চলছে, আসামিরা পলাতক।
- 📌 মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিদর্শক মোশারফ হুসেন হাবিবুলের ভবিষ্যতে আলিমে ভর্তির ব্যবস্থা নেবেন।
📰 বিস্তারিত
রংপুরের গঙ্গাচড়া শিক্ষার্থী হাবিবুল বাশারের দাখিল পরীক্ষায় জীববিজ্ঞানে অকৃতকার্য হওয়া ফল বদলে গেছে। ওএমআর শিট পরিবর্তনের অভিযোগে চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। হাবিবুলের ফল বদলে জিপিএ-৫ পাওয়ার পেছনে রয়েছে ওএমআর শিট পরিবর্তনের জালিয়াতি।
হাবিবুল গঙ্গাচড়ার কোলকোন্দ তাকিয়া শরীফ আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তিনি গঙ্গাচড়া ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। ১০ আগস্ট ফল প্রকাশের পর জীববিজ্ঞানে তাঁকে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছিল। পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেও ফল বদলায়নি।
১৩ সেপ্টেম্বর হাবিবুল চাচাকে নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে খাতা দেখার আবেদন করলে তিনি দেখতে পান, বহুনির্বাচনী অংশের ওএমআর শিটটি তাঁর নয়। বোর্ডের কন্ট্রোলার স্বাক্ষর ও সিরিয়াল নম্বরে গরমিল ছিল। এই ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তদন্তে জানতে পারে, হাবিবুলের জীববিজ্ঞান বিষয়ের বহুনির্বাচনী অংশের পরীক্ষার ওএমআর শিট পরিবর্তন করা হয়েছিল।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশে ১৭ সেপ্টেম্বর রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিদর্শক মোশারফ হুসেন বাদী হয়ে চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মামলা করেন। আসামিরা হলেন গঙ্গাচড়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ ও সহকারী কেন্দ্র সচিব মো. আবদুল বাকী ওরফে লিটন, সাউদপাড়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও হল সুপার মো. রোকনুজ্জামান, গঙ্গাচড়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব অলিউল্লাহ এবং ধনতোলা বাজার দাখিল মাদ্রাসার সুপার ইব্রাহিম খলিল।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০ মে জীববিজ্ঞান পরীক্ষা চলাকালে এক কক্ষে টাকার বিনিময়ে বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। হাবিবুল টাকা দিতে অস্বীকার করলে আবদুল বাকীর সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা হয়েছিল। পরে হাবিবুলের ওএমআর শিট বদলে অন্য একটি শিট বোর্ডে পাঠানো হয়েছিল। হাজিরা শিটে থাকা ওএমআর শিটের সিরিয়াল নম্বর ও বোর্ডে জমা দেওয়া শিটের নম্বর আলাদা ছিল।
মামলার পর ১৮ সেপ্টেম্বর রোকনুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ওএমআর পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। হল সুপার ছিলেন বলে তাঁকে আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। অন্য আসামিদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, রোকনুজ্জামানও এখন পলাতক।
"কষ্ট হয়েছে অনেক। তবু আমি খুশি। মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান স্যার আমার অভিযোগে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছেন। এই জালিয়াতির সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের সবাইকে শাস্তি দিতে হবে। যেন ভবিষ্যতে আর কেউ কোনো শিক্ষার্থীর এমন ক্ষতি করার সাহস না পায়।"
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিদর্শক মোশারফ হুসেন প্রথম আলোকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হাবিবুলের ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো মাদ্রাসায় আলিমে ভর্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বোর্ড। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গঙ্গাচড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মশিউর রহমান বলেন, মামলার পর আসামিরা পলাতক। তদন্ত চলছে, গ্রেপ্তারের চেষ্টাও চলছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গঙ্গাচড়া, রংপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হাবিবুল বাশার, মোশারফ হুসেন, মো. আবদুল বাকী ওরফে লিটন, মো. রোকনুজ্জামান, অলিউল্লাহ, ইব্রাহিম খলিল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫.০ (জিপিএ), ২০.০ (দিন), ১০.০ (আগস্ট), ১৩.০ (সেপ্টেম্বর), ১৭.০ (সেপ্টেম্বর), ২০.০ (মে), ১৮.০ (সেপ্টেম্বর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!