📌 চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম ২৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। শিক্ষার্থীরা তালা দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। উপাচার্য পদত্যাগ না করার পর্যন্ত তালা খুলবে না বলে দাবি করছে তারা
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ২৩ ঘণ্টা পারেও অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। গতকাল দুপুর ১২টার পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনে তালা দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। আজ বেলা ১১টারও পর তিনি ভবন থেকে বের হতে পারেননি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৩ ঘণ্টা পারেও চুয়েট উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন, তালা খুলে দেয়া হয়নি
- 📌 শিক্ষার্থীরা উপাচার্য পদত্যাগ না করার পর্যন্ত তালা খুলবে না বলে দাবি করছে
- 📌 অবরুদ্ধ অবস্থায় উপাচার্য ও ১০-১১ জন সহকারীর মধ্যে রয়েছে চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ
- 📌 শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন
- 📌 উপাচার্য বলেছেন, শিক্ষার্থীদের কোনো লিখিত দাবি নেই, কিন্তু বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা অমানবিক
📰 বিস্তারিত
গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে অপসারিত উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও কর্মবিরতি পালন করছেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।
নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসার খবরে সকাল সাড়ে নয়টায় শিক্ষার্থীরা তাঁর দপ্তরের সামনে জড়ো হন। কিন্তু দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা আবারও উপাচার্য ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এর ফলে উপাচার্যসহ ১০-১১ জন ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এর মধ্যে রয়েছে চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ এবং বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
রাতে একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি দপ্তরে এলাম নয়টায়, এর দু-তিন ঘণ্টার মধ্যেই বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের লাইন বন্ধ করে দেওয়া অমানবিক। আমার সঙ্গে চারজন অ্যালামনাই, একজন বন্ধু, দুজন বড় ভাই এবং ছাত্ররা আছে। কিন্তু এভাবে অবরুদ্ধ থাকা অস্বস্তিকর।’
আজ বেলা পৌনে ১১টার দিকে তিনি জানান, ‘রাত ২টায় পুলিশের মাধ্যমে খাবার এসেছিল, সেটিই আমরা খেয়েছিলাম। আমার প্রচণ্ড মাথাব্যথা, তাই রাতে ঘুমাইনি। এ রকম অবস্থায় অনেকেরই সমস্যা হচ্ছে।’
"আমি দপ্তরে এলাম নয়টায়, এর দু-তিন ঘণ্টার মধ্যেই বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের লাইন বন্ধ করে দেওয়া অমানবিক। শিক্ষার্থীদের কোনো লিখিত দাবি আমার কাছে নেই। তারা যদি লিখিত আকারে দাবি দেয়, তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসিকে অবহিত করতাম।"
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একজন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান বলেন, ‘উপাচার্য পদত্যাগ করলেই আমরা তালা খুলে দেব। তখন তিনি সসম্মানে যেতে পারবেন।’
চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আহসানউল্লাহ বলেন, ‘তিনি যে এভাবে আসবেন, আমরা ভাবিনি। আমরা অসহযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাব। উনি যদি শিক্ষক ও ছাত্রদের সাহায্য চান, তবে তাঁরা তাঁকে সাহায্য করতে পারেন।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম (উপাচার্য), ওয়াসিফ রাশেদ (ছাত্রদল সভাপতি), আবিদুর রহমান (শিক্ষার্থী), অধ্যাপক মো. আহসানউল্লাহ (শিক্ষক সমিতির সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ, ১০-১১ জন অবরুদ্ধ ব্যক্তি, ৬-৭ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী উপাচার্যের সাথে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!