📌 চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহায়তায় বের হয়েছেন। শিক্ষার্থীরা শর্ত দিয়েছেন যে, তিনি আর কখনো ক্যাম্পাসে আসবেন না
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবন থেকে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলমের সহায়তায় বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা শর্ত দিয়েছেন যে, তিনি আর কখনো এই ক্যাম্পাসে আসবেন না—সেই শর্তে তাঁকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চুয়েটের উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমকে ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহায়তায় বের করে নিয়ে যাওয়া হয়
- 📌 শিক্ষার্থীরা শর্ত দিয়েছেন যে, উপাচার্য আর কখনো ক্যাম্পাসে আসবেন না
- 📌 জেলা প্রশাসক বলেছেন, উপাচার্য সরকারিভাবে নিয়োগ পেয়েছেন এবং তিনি অসুস্থ, সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে
- 📌 শিক্ষার্থীরা জানান, উপাচার্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন আটকে দিয়েছেন এবং তাদের হুমকি দিয়েছেন
- 📌 গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উপস্থিত হন। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘উপাচার্য সরকারিভাবে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি অসুস্থ। আমরা এখানে এসেছি তাঁকে নিয়ে গিয়ে তাঁর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে। তিনি এখানকার ছাত্র ছিলেন, অ্যালামনাই। আমরা বিশ্বাস করি, একজন বয়স্ক মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
শিক্ষার্থীদের পক্ষে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার জানান, ‘শুরু থেকেই আমাদের আন্দোলন তাঁর বিরুদ্ধে ছিল না; কিন্তু তিনি আমাদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন আটকে দিয়েছেন। আমাদের অনেক শিক্ষককে হুমকি দিয়েছেন। তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকেছেন। তিনি এই ক্যাম্পাস থেকে আজ যেতে পারবেন একটি শর্তে—তিনি আর কখনো ক্যাম্পাসে আসবেন না।’
জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জন প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ থাকা ব্যক্তিদের অ্যাম্বুলেন্সে করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘উপাচার্য এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী ছিলেন। শিক্ষার্থীরাও বিষয়টি বুঝেছে, তারা পরিণত। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে উপাচার্যের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আমরা তাঁকে নিয়ে গেলাম। আগে চিকিৎসা দিই, তিনি সুস্থ হোন। পরের বিষয়গুলো পরে সরকারকে জানাব।’
গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এবং শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘কর্মবিরতি’ পালন করে আসছেন। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই আন্দোলনের কারণে দায়িত্ব গ্রহণের পরও ক্যাম্পাসে আসতে পারছিলেন না নতুন উপাচার্য। তবে গতকাল ছাত্রদল নেতাদের নিয়ে উপাচার্য ভবনে শিক্ষার্থীদের দেওয়া তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে যান তিনি।
"শুরু থেকেই আমাদের আন্দোলন তাঁর বিরুদ্ধে ছিল না; কিন্তু তিনি আমাদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন আটকে দিয়েছেন। আমাদের অনেক শিক্ষককে হুমকি দিয়েছেন।"
"উপাচার্য এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী ছিলেন। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে উপাচার্যের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শেখ শরীফুল আলম (উপাচার্য), মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা (জেলা প্রশাসক), মো. মাসুদ আলম (পুলিশ সুপার), আহনাফ শাহরিয়ার (শিক্ষার্থী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ ঘণ্টা, ২১ সেপ্টেম্বর, ২২ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!