📌 চুয়েটের নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে গোপনে তালা ভেঙে দপ্তরে প্রবেশ করেছেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ও সরকারের অজ্ঞাত কারণে সরানো প্রাক্তন উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের অব্যাহতি নিয়ে সংকটের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ডে আঘাত হানে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম গোপনে তালা ভেঙে দপ্তরে প্রবেশ করেছেন এবং ছাত্রদলের নেতাদের পাশে বসেছেন। এই ঘটনা শিক্ষাঙ্গনের জন্য কলঙ্কজনক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের পরিচয় দিচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গোপনীয়তার আশ্রয় নিয়ে তালা ভাঙা: নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে গোপনে ভিসি ভবনের তালা ভেঙে দপ্তরে প্রবেশ করেছেন।
- 📌 অব্যাহতি ছাড়াই সরানো প্রাক্তন উপাচার্য: গত ২১ সেপ্টেম্বর মাত্র ৫৬ দিন দায়িত্ব পালন করে অব্যাহতি দেওয়া হয় প্রাক্তন উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের। সরকারের কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই তাঁকে সরানো হয়েছে।
- 📌 বিতর্কিত শিক্ষককে চাপিয়ে দেওয়া: খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) অব্যাহতি পেয়েছিলেন শেখ শরীফুল আলম। সেখানে ছাত্ররাজনীতিকেন্দ্রিক সংঘাতের কারণে তিনি অব্যাহতি পেয়েছিলেন।
- 📌 বেতন আটকানো ও কর্মচারীদের বাধ্য করা: চুয়েটে যোগদানের পরপরই তিনি সোনালী ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছিলেন শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা আটকানোর। আইনি দোহাই দিয়ে বেতন বন্ধ রাখা হয়েছিল।
- 📌 শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ: শিক্ষক সমিতি ও শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যের নিয়োগের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন, কিন্তু কোনো আলোচনা ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
চুয়েটের উপাচার্য পদে আসীন ব্যক্তি সর্বোচ্চ একাডেমিক ও নৈতিক অভিভাবক হওয়ার কথা। কিন্তু নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমের দপ্তরে প্রবেশের পদ্ধতি শিক্ষাঙ্গনের জন্য কলঙ্কজনক। তিনি ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে গোপনে তালা ভেঙে দপ্তরে প্রবেশ করেছেন। এই ঘটনা শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ডের ওপর আঘাত হানে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর মাত্র ৫৬ দিন দায়িত্ব পালন করে প্রাক্তন উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সরকারের কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই তাঁকে সরানো হয়েছে। তিনি চুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক ছিলেন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করেছিলেন। কিন্তু তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলতার অভাবকে প্রকাশ করেছে।
শেখ শরীফুল আলমের প্রশাসনিক ইতিহাসও বিতর্কিত। তিনি খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) সহ-উপাচার্য থাকাকালে ছাত্ররাজনীতিকেন্দ্রিক সংঘাতের কারণে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। সেখানে ব্যর্থতা ও বিতর্কিত ভূমিকার কারণে তাঁকে চুয়েটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ।
চুয়েটে যোগদানের পরপরই তিনি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা আটকানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। সোনালী ব্যাংককে নির্দেশ পাঠিয়ে বেতন বন্ধ রাখা হয়েছিল। আইনি দোহাই দিয়ে বেতন বন্ধ রাখার কারণে কর্মচারীরা ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। যে উপাচার্য শুরুতেই পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারকে শত্রু পক্ষ বানিয়ে তাদের বেতন আটকে দিয়েছেন, তাঁর অধীন বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে সুস্থভাবে পরিচালিত হতে পারে?
"এই ঘটনা শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ডের ওপর আঘাত হানে। যে ভিসিকে নিজের চেয়ারে বসতে ছাত্রসংগঠনের ক্যাডার প্রটোকল নিতে হয়, তিনি পরবর্তী সময় কীভাবে সব শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হবেন?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), চট্টগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শেখ শরীফুল আলম (নতুন উপাচার্য), আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম (প্রাক্তন উপাচার্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ কিলোমিটার (চট্টগ্রাম থেকে দূরত্ব), ২১ সেপ্টেম্বর (অব্যাহতি তারিখ), ৫৬ দিন (সায়েমের দায়িত্বকাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!