📌 চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। শিক্ষার্থীরা অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার শর্ত হিসেবে ক্যাম্পাসে ফিরবেন না বলে দাবি করেছিল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীরা যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আরাফাত রহমান রানাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকার দ্রুত সুস্থ হয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে আসার পরামর্শও দিয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল যে, ক্যাম্পাসে ফিরবেন না এই শর্তে তিনি অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত পেয়েছেন। কিন্তু উপাচার্য তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চুয়েট উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছেন এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে আসার পরামর্শ পেয়েছেন, কিন্তু শিক্ষার্থীদের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন যে, ক্যাম্পাসে ফিরবেন না এই শর্তে মুক্ত পেয়েছেন।
- 📌 শিক্ষার্থীরা যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আরাফাত রহমান রানাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। তাঁর কর্মকাণ্ডকে আন্দোলনকে আরও জটিল করার জন্য দায়ী করেছেন শিক্ষার্থীরা।
- 📌 শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যাপক আরাফাত রহমান রানা উপাচার্য শরীফুল আলমের সঙ্গে ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় সহযোগিতা করেছেন এবং বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের প্রবেশের সুযোগ দিয়েছেন।
- 📌 ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশের সহায়তায় উপাচার্য ও তাঁর সঙ্গে থাকা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করা হয়।
- 📌 গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক সায়েমকে বাদ দিয়ে শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকে চুয়েটে উত্তেজনা চলছে।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার হন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা রয়েছে তাঁর প্রতি এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে আসার পরামর্শও দিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল যে, ক্যাম্পাসে ফিরবেন না এই শর্তে তিনি অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত পেয়েছেন। কিন্তু উপাচার্য তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে একটি বিবৃতিতে জানান, উপাচার্য হিসেবে রুটিন দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আরাফাত রহমান রানাকে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাঁকেও ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যাপক আরাফাত রহমান রানার কর্মকাণ্ড আন্দোলনকে আরও জটিল করেছে। বিশেষ করে, তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় ছাড়াই উপাচার্য শরীফুল আলম এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছেন। এতে তাঁর ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, উপাচার্যের কার্যালয়সংলগ্ন ভবনে চিহ্নিত ও বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের প্রবেশের সুযোগ তৈরিতে অধ্যাপক আরাফাত রহমান রানা প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছেন। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা তাঁকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। তথ্যমতে, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক সায়েমকে বাদ দিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর চুয়েটে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা একযোগে আন্দোলন শুরু করেন।
১২ অক্টোবর সকালে নতুন উপাচার্য কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এর আগে কার্যালয় ভবনের তালা ভাঙা হয়েছিল। একই দিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা কার্যালয়ে আবার তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর উপাচার্য ও তাঁর সঙ্গে থাকা ছাত্রদলের সাত-আটজন নেতাকর্মী সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন।
"ক্যাম্পাসে ফিরবেন না এই শর্তে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হয়েছেন' এমন দাবিও সঠিক নয় বলে জানান তিনি। বর্তমানে চুয়েট উপাচার্যকে হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাঁর সুচিকিৎসায় একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম, অধ্যাপক ড. আরাফাত রহমান রানা, শিক্ষার্থীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ, ২৪ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণ, ২১ সেপ্টেম্বর, ১২ অক্টোবর, ১৩ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!