📌 চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম তালা ভেঙে ভিসি ভবনে প্রবেশ করায় শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে উঠেছে। তারা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাস শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাবে এবং উপাচার্যকে ভবন ত্যাগ করতে বাধ্য করার জন্য নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমের তালা ভেঙে ভিসি ভবনে প্রবেশের ঘটনার পর। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে তার ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাস শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১২ অক্টোবর সকালে চুয়েটে নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম তালা ভেঙে ভিসি ভবনে প্রবেশ করেন।
- 📌 উপাচার্যের সঙ্গে ছিলেন চুয়েট শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা।
- 📌 শিক্ষার্থীরা দাবি করছে, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে।
- 📌 ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি এখনও চলছে।
- 📌 শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ত্যাগ করতে বাধ্য করার জন্য নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
- 📌 কর্মসূচি বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। তার সঙ্গে ছিলেন চুয়েট শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা। উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে তিনি নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেন। এই ঘটনায় শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে উঠেছে এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
তালা ভেঙে প্রবেশের ঘটনাকে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করেছে। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আফিফ কবির বলেছেন, “আমাদের এক দফা দাবি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাস শাটডাউন কর্মসূচি চলবে।”
বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাবিহা সাবনাম বলেছেন, “কোনো পদে আসীন হওয়া আর সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা এক বিষয় নয়। সংশ্লিষ্টদের আপত্তি ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে তালা ভেঙে উপাচার্য ভবনে প্রবেশের ঘটনায় আমি নিন্দা জানাই।”
গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরও একাংশ কর্মবিরতি পালন করছে।
নিয়োগের পর ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে যোগদানপত্র পাঠিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তবে আন্দোলনের কারণে তিনি সরাসরি ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি। এরমধ্যে ১১ ও ১২ অক্টোবর যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক মো. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে উপাচার্যকে ভিসি ভবন ত্যাগ করতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন না ছাড়লে সেটিকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা, ভবনের ফটকে তালা দেওয়া এবং বাইরে থেকে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তারা। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
"আমাদের এক দফা দাবি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাস শাটডাউন কর্মসূচি চলবে।"
"কোনো পদে আসীন হওয়া আর সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা এক বিষয় নয়। সংশ্লিষ্টদের আপত্তি ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে তালা ভেঙে উপাচার্য ভবনে প্রবেশের ঘটনায় আমি নিন্দা জানাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শেখ শরীফুল আলম, আফিফ কবির, সাবিহা সাবনাম, আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ অক্টোবর, ১০:৩০ টা, ২১ সেপ্টেম্বর, ২২ সেপ্টেম্বর, ২৪ সেপ্টেম্বর, ১২ টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!