📌 চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল আলম সিন্ডিকেট সভায় অনুপস্থিত থাকায় অদৃশ্য হয়ে পড়েছেন। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর সিন্ডিকেট সভায় মাত্র ৬০ শতাংশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির এবং পরীক্ষা-শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। নতুন উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল আলম সিন্ডিকেট সভায় অনুপস্থিত থাকায় অদৃশ্য হয়ে পড়েছেন। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর গত ১৬ অক্টোবর অনলাইনে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় মাত্র ছয়জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সিন্ডিকেটের মোট সদস্য সংখ্যা ১৭ জন, কিন্তু কার্যকর সদস্য মাত্র ১৫ জন। এর মধ্যে উপাচার্যসহ মাত্র ছয়জন অংশ নেন, যা সিন্ডিকেটের ৬০ শতাংশ সদস্যের অনুপস্থিতি নির্দেশ করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চুয়েটের উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল আলম সিন্ডিকেট সভায় অনুপস্থিত থাকায় অদৃশ্য হয়ে পড়েছেন। তাঁর দুটি ফোন নম্বরেও সাড়া না মিলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
- 📌 গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সাবেক উপাচার্য ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। নতুন উপাচার্য নিয়োগের বিরোধ থেকেই আন্দোলনের সূত্রপাত।
- 📌 গত ২৬ দিনে শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির, ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
- 📌 গত ১২ অক্টোবর শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে তাঁর কার্যালয়ে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় তাঁকে বের করে আনা হয়।
- 📌 সিন্ডিকেট সভায় উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুর রহমান। তবে চুয়েটের কোনো সিন্ডিকেট সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।
- 📌 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. মো. সেকান্দার চৌধুরী, সিন্ডিকেটের একমাত্র শিক্ষক সদস্য, সভায় উপস্থিত ছিলেন না।
- 📌 দুর্গাপূজার ছুটির কারণে ক্যাম্পাস ফাঁকা হয়ে পড়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর কর্মদিবস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সংকটের সমাধান না হলে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে না।
📰 বিস্তারিত
চুয়েটের সিন্ডিকেট সভায় উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যা ছিল মাত্র ছয়জন। এর মধ্যে উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল আলমের পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুর রহমানও অংশ নেন। তবে চুয়েটের কোনো সিন্ডিকেট সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। সিন্ডিকেটের একমাত্র শিক্ষক সদস্য ডা. মো. সেকান্দার চৌধুরীও সভায় উপস্থিত ছিলেন না। এই অনুপস্থিতির কারণে উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম বিভিন্ন মহলের প্রশ্নের মুখে পড়েছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাভ ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য একজন উপযুক্ত ব্যক্তিকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ করা। চুয়েট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন জানান, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরাও আন্দোলনে আছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ২৫ অক্টোবর কর্মদিবস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সংকটের সমাধান না হলে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে না।’
গত ১২ অক্টোবর শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে তাঁর কার্যালয়ে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় পরে তাঁকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে আনা হয়। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে উপাচার্য গত ১৫ অক্টোবর সার্কিট হাউসে ফিরে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন। পরদিন ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় তাঁর সভাপতিত্বে অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা হয়। সভায় শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা এবং অচলাবস্থা নিরসনের বিষয়ে আলোচনা হয়।
"দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরাও আন্দোলনে আছি। যাঁর দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাভ ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে, এমন একজনকে আমরা উপাচার্য হিসেবে চাই।"
— মো. জামাল উদ্দিন, চুয়েট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. শেখ শরীফুল আলম, ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, মো. জামাল উদ্দিন, ড. মো. জাহিদুর রহমান, ডা. মো. সেকান্দার চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ সেপ্টেম্বর (আন্দোলনের সূত্রপাত), ২৬ দিন (অচলাবস্থা), ১২ অক্টোবর (৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ), ১৬ অক্টোবর (সিন্ডিকেট সভা), ১৭ সদস্য (সিন্ডিকেট), ৬ সদস্য (সিন্ডিকেট সভায় উপস্থিত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!