📌 চুয়েটের অবরুদ্ধ উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল আলম অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক বলেছেন তার রক্তচাপ ও পালস স্বাভাবিক। শিক্ষার্থীরা উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবরুদ্ধ অবস্থা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এর অবরুদ্ধ উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল আলম অসুস্থতার কথা প্রকাশ করেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবুদ্দিনের পরীক্ষা অনুযায়ী তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর থেকে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা উপাচার্য মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত প্রায় ২৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ছিলেন। তার সঙ্গে ১১ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী রয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চুয়েটের অবরুদ্ধ উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল আলম অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন, কিন্তু চিকিৎসক বলেছেন তার ব্লাড প্রেসার ১২০/৮০ এবং পালস স্বাভাবিক
- 📌 উপাচার্য মাথাব্যথা ও শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়েছেন, তবে চিকিৎসক তাকে কোনো ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেননি
- 📌 অবরুদ্ধ অবস্থায় ২৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসুস্থতা দেখা দিয়েছে, দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে
- 📌 শিক্ষার্থীরা উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবরুদ্ধ অবস্থা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে
- 📌 শিক্ষার্থীরা সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছেন
- 📌 ঢাকার শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল আলম সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর থেকে প্রশাসনিক ভবন-২-এ অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত প্রায় ২৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকা উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি জানান, উপাচার্যের ব্লাড প্রেসার ১২০/৮০ এবং পালস স্বাভাবিক রয়েছে। উপাচার্য নিজে বলেছেন, অবরুদ্ধ অবস্থায় তিনি অস্বস্তি বোধ করছেন। তবে চিকিৎসক বলেন, উপাচার্য নিয়মিত কোনো ওষুধ খান না, মাঝে মাঝে রক্তচাপের ওষুধ খান। বর্তমানে তার রক্তচাপ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
উপাচার্য জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় তার প্রচণ্ড মাথাব্যথা হচ্ছে এবং শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করছেন। আগের রাতে ঘুমাতেও পারেননি তিনি। ভবনের ভেতরে থাকা অন্যদেরও নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে। জানা গেছে, সোমবার সকালে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। শিক্ষার্থীরা তাকে ও তার সহযোগীদের ভবন ছেড়ে যাওয়ার জন্য দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা ভবন ছাড়েননি, ফলে শিক্ষার্থীরা মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দীর্ঘ সময় থাকায় সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করে নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবরুদ্ধ অবস্থা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ইজাজ মাহমুদ খান বলেন, উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবরুদ্ধই থাকবেন। তবে, তাদের সকালের খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
চুয়েটের চলমান সংকট নিরসন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় ঢাকার শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা। এদিকে, বুয়েট ও রুয়েটের শিক্ষার্থীরাও চুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। উপাচার্য পদে নিয়োগ পাওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পর তার ক্যাম্পাসে প্রবেশকে কেন্দ্র করে চুয়েটে অচলাবস্থা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আন্দোলন করছেন।
"স্যারের পালস ও ব্লাড প্রেসার ঠিক আছে। তিনি আমাকে ব্যথার কথা বলেননি। তিনি শুধু তার ব্লাড প্রেসার ও পালস কেমন আছে, তা দেখতে বলেছেন। তার ব্লাড প্রেসার ছিল ১২০/৮০।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), ঢাকা (প্রতিবাদ সমাবেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল আলম, চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবুদ্দিন, শিক্ষার্থী ইজাজ মাহমুদ খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ ঘণ্টা (বিদ্যুৎবিহীন), ১১ জন (সহযোগী), ১২০/৮০ (ব্লাড প্রেসার), ২ জন (অসুস্থ শিক্ষার্থী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!